মঙ্গলবার ৩০ নবেম্বর ২০২১
Online Edition

সংসদ ভবন এলাকার চাষ হচ্ছে শীতকালীন সবজি ও ফলমূল

 

সংসদ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় গড়ে উঠেছে শীতকালীন সবজির নানা ধরনের ক্ষেত। সংসদের বিশাল এলাকার আড়ালে-আবডালে থাকা এসব ক্ষেতে ফলছে শীতকালীন সবজি ছাড়াও নানা মৌসুমের দেশীয় ফলমূল। সেখানে কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে ডেকে আনা হচ্ছে কৃষকদের। আবার কেউ কেউ বাস করছেন সংসদের আশপাশ এলাকায়।

যারা সবজি চাষ করছেন তারা যেমন এসব কীটনাশকবিহীন ফসল ও সবজি নিজেরা খাচ্ছেন তেমনি অন্যদেরও উপহার দিচ্ছেন।

সংসদ ভবনের ঠিক পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে খণ্ড খণ্ড বিভিন্ন সবজির ক্ষেত, যা দেখলে নয়ন জুড়িয়ে যায়। এলাকাটি শহরের উদ্ভট গাড়ির হর্নের শব্দ থেকে তেমন মুক্ত না হলেও পাখপাখালির কিচিরমিচির শব্দে সেখানে গ্রামীণ আবহাওয়ার পরশ পাওয়া যায়।

সংসদ ভবন এলাকার এই সবজি ক্ষেতগুলোর উত্তর পাশেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন। দক্ষিণে রয়েছে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপসহ অন্যদের বাসভবন। এ এলাকাটি আগে ফাঁকা ছিল। কিন্তু ছয়-সাত বছর ধরে শীতকালীন ফসল ফলানো হচ্ছে। লাগানো রয়েছে কলা, সজনে, লেবুসহ বিভিন্ন ধরনের গাছও। সবজি ক্ষেতের মধ্যে রয়েছে টমেটো, বেগুন, শিম, লাউ, পেঁপে, সরিষা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, লালশাক, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ইত্যাদির ক্ষেত। সারি সারি ছোট ছোট কলা গাছে রয়েছে থোরা থোরা কলার কাঁদি।

সেখানে ক্ষেতে কাজ করা কৃষকদের একজন আব্দুল আউয়াল। তিনি দৈনিক মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন। দৈনিক ৬০০ টাকা মুজুরির পাশাপাশি দু-বেলা খাবার দেয়া হয় তাকে। এছাড়া বাড়তি পাওনা হিসেবে কখনো এসব ক্ষেতের শাকসবজি নিয়ে যান।

সংসদ এলাকায় দেখা গেছে, বর্তমানে সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে সচিব/যুগ্ম-সচিব হোস্টেলে ই-টাইপ ও ডি-টাইপের ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ওই ফ্ল্যাটে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বরাদ্দপ্রাপ্ত হয়ে বসবাস করছেন। এছাড়া অনেকে ‘সাবলেট’ দিয়েছেন। রয়েছে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের সুদৃশ্য বাসস্থান ছাড়াও হুইপদের জন্য ডুপ্লেক্স বাড়ি। মূলত তারাই এসব সবজির চাষ করেন।

এ বিষয়ে ফল উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, সংসদ এলাকায় উৎপাদিত ফলমূল কীটনাশকমুক্ত। তবে সেখানে আবাদ করা সবজিতে সিসার মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।

সেখানে নিজেরা খাওয়ার জন্য চাষাবাস শুরু হলেও গত বছর সংসদ এবং নাখালপাড়ায় অবস্থিত এমপিদের (সংসদ সদস্য) বাসস্থান ন্যাম ফ্ল্যাট ভবন এলাকায় উৎপাদিত বিভিন্ন ফল বিক্রি করে সরকারের আয় বাড়ছে। চলতি বছরসহ বিগত ৮ বছরে এসব ফল বিক্রি করে সরকারের ২১ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়েছে।

সংসদের সহকারী সচিব (সদস্য ভবন) আবদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংসদ ভবন এলাকায় দেশীয় খেজুর ছাড়া সব ফলফলাদি প্রতি বছর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।

জানা যায়, সংসদ ভবনের বিশাল এলাকায় আম, কাঁঠাল ও নারিকেল মিলিয়ে ফলফলাদির গাছ রয়েছে পাঁচ শতাধিক। সাবেক স্পিকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২০১১ সালে এসব ফলফলাদি নিলামের ব্যবস্থা করেন। এর আগে একজন আরেকজনের ফল পেরে নিয়ে যেতেন।

সেই বছর কাঁচাপাকা মিলিয়ে নিলামে দাম ওঠে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ফল। প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যত আম, কাঁঠাল ও নারিকেল ধরবে সব পাবেন ক্রেতা। ফল নিলামে দেয়ার আগে কোন জায়গায় কয়টি ফলের গাছ আছে তার জরিপ করা হয়। সে হিসাব অনুযায়ী সংসদ ভবন এলাকায় ১৩৪টি আম, ১১৯টি কাঁঠাল ও ২৪৯টি নারিকেল গাছ আছে। তবে নাখালপাড়ার এমপিদের বাসস্থানের গাছগাছালির হিসাব এখনও করা হয়নি। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবনে তেমন কোনো গাছ নেই।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ১ লাখ ৫৩ হাজার, ২০১২ সালে ২ লাখ ২৫ হাজার, ২০১৩ সালে ২ লাখ, ২০১৪ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০০, ২০১৫ সালে ২ লাখ ৯৫ হাজার, ২০১৬ সালে ৪ লাখ ৩০ হাজার, ২০১৭ সালে ৩ লাখ ১৭ হাজার ও ২০১৮ সালে নিলাম উঠেছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ