শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি  অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১টার দিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে কয়েকটি সড়ক ও অ্যাকাডেমিক ভবন ঘুরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তারা ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করা ও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় মদদের অভিযোগে তাঁর অপসারণ দাবি করেন। সমাবেশে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে মহাপরিকল্পনার কাজ যেন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এ দাবিতেই আমরা আন্দোলন শুরু করি। এখন দেখা যাচ্ছে, কেমন অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে। ভিসি স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার চেষ্টা করছেন। সুদূরপ্রসারী এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি।

আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভিসি নষ্ট করেছেন। তিনি হল খোলার বিষয়ে সরকারের কাছে অনুমতি চান। একইভাবে তিনি পদত্যাগ করবেন কি না, সে ব্যাপারেও সরকারের সাথে কথা বলেন। অর্থাৎ তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নষ্ট করছেন। তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে আর পদে দেখতে চাই না। তাঁকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অপসারণ করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক রেবেকা আহমেদ, ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কার্যকরী সদস্য রাকিবুল হক, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ওয়াসিম সাজ্জাদ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসাইন প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে আড়াই মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে ভিসির বাসভবন অবরুদ্ধ করলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা তাঁদের পিটিয়ে সরিয়ে দেন। এ অবস্থায় গত ৫ নবেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হল বন্ধের দীর্ঘ এক মাস পর গত ৫ ডিসেম্বর থেকে আবার ক্যাম্পাস সচল করা হয়।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ