সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

নবেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [তিন]
২০ নবেম্বর ফেনী পলিটেকনিকে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬ জন। ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রুপ ও আরাফাত গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া হলে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রিজভী আহমেদ ওশান, সোহাগ, নিশাত, সালমান, স্বাধীন ও জয়সহ আহত ১০ জন। ছাত্রলীগ ফজলে রাব্বি গ্রুপ ও শাহজালাল সোহাগ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২১ নবেম্বর সিলেটের শাহপারাণ থানা পুলিশ চাঁদাবাজীর অভিযোগে সাবেক জেলা ছাত্রলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপুকে আটক করে। ঢাকার বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যার অভিযোগে ৩২ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে দণ্ড দেয় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ২৬ জনকে আজীবনের জন্য বহিস্কার এবং ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়। বহিষ্কৃতরা হলো- বুয়েট ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মুতাসিম ফুয়াদ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, উপ-সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক হোসেন মুন্না, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অনিক সাহা, উপ-দফতর সম্পাদক মুস্তাবা রাফিদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, সাবেক সহ-সভাপতি এস.এম মাহমুদ সেতু, কর্মী মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মুনতারি আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান, হোসেন মোঃ তোহা, এহতেসামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর, মুহাম্মদ মোর্শেদুজ্জামান জিসান, মুয়াজ আবু হুরায়রা, এ.এস.এম নাজমুস সাদাত ও মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম। বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড প্রাপ্তরা হলো- আবু নওসাদ সাকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ গালিব, মোঃ শাওন মিয়া, সাখাওয়াত ইকবাল অভি ও মোঃ ইসমাঈল। দ-প্রাপ্ত সবাই ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী।
২২ নবেম্বর ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাসদের মিছিলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ যৌথ হামলায় ২ নারীসহ আহত হয় অনেকে। ২৫ নবেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে হুমায়ুন কবীর, নাইমুর রহমান, সজীব চন্দ্র ও আরিফুর রহমানসহ আহত ৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ২৭ নবেম্বর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ আমড়াগাছিয়া বাজারে ছাত্রলীগ সুবিদখালী সরকারী কলেজ সাধারণ সম্পাদক শাকিল হোসেন শায়েক ও তার সহযোগীরা উপজেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি রুহুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে জখম করে। ২৮ নবেম্বর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বোরহানের নেতৃত্বে হামলায় মহানগর বিএনপি সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান আহত হয়। সেখানে ড্রাইভারকে মারধরসহ আবুল কালাম আবুর গাড়ী ভাংচুর করা হয়।
২৯ নবেম্বর কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী না হয়েও ওই কোটায় ভর্তি হওয়ায় ছাত্রলীগ ইবি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির মাহফুজ মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। নারায়নগঞ্জের বন্দর থানার বাড়ইপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ মহানগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাকিব আঞ্জুম সুস্মিত ও তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে আহত হয় শিলা বেগম, এমী ও টিটু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সুইডেন আহমেদ, তানজীম সাদমান, জাহিদ হাসান, একরামুল হক, মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ, শরীফ উদ্দিন ও প্রান্ত সাহা আহত হয়। চুজ ফ্রেন্ড ইউয়ুথ (সিএফসি) গ্রুপ ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এবাদুর রহমান খোকন বলি আহত হয়। ছাত্রলীগ উপজেলা সভাপতি খোকন বলি গ্রুপ ও পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
যুব লীগ ঃ ২ নবেম্বর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পুরানা বাজার এলাকায় পৌর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বদিউজ্জামান টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগে তার সহযোগী খাদিজা ও লিটনকে আটক করে পুলিশ। ৫ নবেম্বর চট্টগ্রামের বাকালিয়া থানায় মাষ্টারপুল এলাকায় যুবলীগ ক্যাডার সামিউল হক কাজেমী নিয়াজের টর্চার সেল থেকে তাকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ। ১০ নবেম্বর সিলেট সদরে হোটেল পালাশে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যুবলীগের হামলায় সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহবায়ক শাহজাহান ছুরিকাঘাতে আহত হয়। ১২ নবেম্বর ঢাকার আশুলিয়া বেরণ এলাকায় যুবলীগের দলীয় কোন্দলে রিপন ও বাবুসহ আহত ৩ জন। ঘটনায় যুবলীগ সাবেক নেতা রুবেল ভূঁইয়াকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। চট্টগ্রামের লালদীঘিতে যুবলীগের সমাবেশে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। যুবলীগ নেতা মোবারক আলী গ্রুপ ও ওয়াশিম উদ্দিন চৌধূরী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
১৫ নবেম্বর নোয়াখালী সদরে দত্তেরহাট এলাকায় যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম, শিপন, শেখ মামুন ও রাসেলসহ ১০ জন আহত হয়। যুবলীগ কর্মীরা ঘটনার জন্য দায়ী বলে ধারণা করা হয়। ১৯ নবেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে শিল্প প্রতিষ্ঠান বেলায়েত এন্টারপ্রাইজে চাঁদাবাজী ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের হয় যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান জুয়েল, আশরাফুল ইসলাম ওয়াসিম, তাদের সহযোগী মামুন, সেলিম মুন্সী, শাকিল, খলিল, শামীম, রিফাত, শাকিল-২, সুজন, সৌরভ, সোহেল, জসিম, ফাহাদ, শিশির দে, আল-আমিন, দেলোয়ার, খোরশেদ আলম, ইমরান, শাকিব ও জাকির হোসেনসহ ৫০-৬০ জনের নামে। ২০ নবেম্বর বগুড়ার ধুনটে পশ্চিম নান্দিয়ারপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধে যুবলীগ নেতা ডাঃ আব্দুস সবুরকে খুন করে অপর নেতা কামরুল ইসলাম। ২১ নবেম্বর ঢাকা শিক্ষা ভবনের ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা শফিকের বিরুদ্ধে অবৈধ ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের দায়ে মামলা দায়ের করে দুদক। ২২ নবেম্বর ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় সম্মেলনের চাঁদা চাওয়ায় গণধোলাইয়ের স্বীকার হয় যুবলীগ কথিত নেতা হাবিবুর রহমান সোহাগ।
২৩ নবেম্বর বগুড়ার ধুনটে মথুরাপুর বাজারে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আমিনুল ইসলাম তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির পাশাকে মারধর করে। পুলিশ আমিনুল ইসলামকে আটক করে। ২৫ নবেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাজমবাড়ি এলাকায় বৃদ্ধা ছফুরা খাতুনের (৯৮) লাশ দাফনে বাধা দেয় যুবলীগ নেতা এস্কেন্দার, আনোয়ার হোসেন ও নুরুল আবসার গং।
মৃত মহিলার খোড়া কবর তারা মাটি ভরাট করে এবং পরে অন্য স্থানে তাকে দাফন করা হয়। নাটোরের নলডাঙ্গায় বিপ্রবেলঘরিয়া এলাকায় যুবলীগের দলীয় কোন্দলে আব্দুল কুদ্দুস ও সিরাজুল ইসলামের হাতে অপর কর্মী এরশাদ আলী আহত হয়। ২৭ নবেম্বর পটুয়াখালীর গলাচিপায় চরশিবা লঞ্চঘাট থেকে ইউএনও ও এসি ল্যান্ড ১০ টাকা মূল্যের ১৮ বস্তা চালসহ আটক করে চরকাজল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শাহীন পঞ্চায়েতকে।
 স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঃ ৮ নবেম্বর ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি শশাঙ্ক ভূষণ পাল চৌধূরীর বিরুদ্ধে ২২ শতাংশ সরকারি জমি দখলের অভিযোগ করা হয়। ২৩ নবেম্বর বাগেরহাটের ফকিরহাটে ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজী করায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ বেতাগা ইউনিয়ন সাধারণ সস্পাদক আলমগীর হোসেন আল-আমিনকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। ২৯ নবেম্বর ফেনীর সোনাগাজীতে চর মজলিশপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেনের ধর্ষণে জনৈক মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়। ঘটনার দায়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ শাহাদাতকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করে।
সৈনিক লীগ ঃ ৯ নবেম্বর বগুড়ার ধুনটে উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ সহ-সভাপতি ও ভূয়া ডাক্তার শামিম আক্তারকে আটক করে পুলিশ। ১৩ নবেম্বর রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকায় রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের টেন্ডার নিয়ে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সানোয়ার হোসেন রাসেল নিহত এবং বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজা ও সোনাসহ ৫ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা  রাজা গ্রুপ ও সৈনিক লীগ নেতা সুজন আলী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
মুক্তিযোদ্ধা লীগ ঃ ১৩ নবেম্বর মানিকগঞ্জ সদরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা লীগ সভাপতি রেজাউল করীমসহ ৪ জন এক রোহিঙ্গা নারীকে বৌ সাজিয়ে পাশপোর্ট করতে গিয়ে ধরা খায়। অন্য তিন জন হলো- রোহিঙ্গা মহিলা আসমা খাতুন, আইনজীবি মনোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান।
বিএনপি ঃ ১ নবেম্বর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখনকে বরাইদ গ্রামে নিজ বাড়িতে দলীয় অনুষ্ঠান চলা কালে আটক করে পুলিশ। ১৯ নবেম্বর ঢাকায় বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মাদ নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে ব্যারিষ্টার মীর হেলাল উদ্দিনের কারাদ- বহাল রাখে হাইকোর্ট। গত ২০০৭ সালে দুর্নীতির দায়ে মীর নাছিরের ১৩ বছরের ও তার ছেলে হেলালের ৩ বছরের কারাদ- হয়। ২৭ নবেম্বর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে বিএনপির নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা দল সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাতকে আটক করে পুলিশ। ২৮ নবেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিএনপির মিছিল থেকে আব্দুল করীম, সাইফুল ইসলাম, সেলিম ও আরিফুল ইসলাম পাপ্পুকে আটক করে পুলিশ। ২৯ নবেম্বর ঢাকা থেকে বিএনপি নেতা এ.বি.এম মোশররফ হোসেন, ফিরোজ কিবরিয়া ও ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেনকে পুলিশ আটক করে।
ছাত্রদল ঃ ২৫ নবেম্বর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি ইমদাদুল হক ইমরানকে গোপায়া গ্রাম থেকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।
যুবদল ঃ ৬ নবেম্বর নওগাঁর রাণীনগরে প্রেমতলী এলাকা থেকে উপজেলা যুবদল সভাপতি এমদাদুল ইসলাম ও ইসরাফিল আলমকে আটক করে পুলিশ।
জামায়াত ঃ ৬ নবেম্বর চাঁদপুর শহরের বাসা থেকে জেলা জামায়াত আমীর মাওলানা আব্দুর রহীম পাটোওয়ারীকে পুলিশ আটক করে। ৩০ নবেম্বর রাজশাহীর বাঘায় আমোদপুর এলাকা থেকে রাজশাহী পূর্ব জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক উপজেলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা জিন্নাত আলী এবং বাঘা পৌর জামায়াত নেতা শাহাদুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে।
ইসলামী ছাত্রশিবির ঃ ৯ নবেম্বর রাজশাহীর বাঘায় আমোদপুর গ্রামের শিবির কর্মী বিপ্লব হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ঃ ১৩ নবেম্বর পাবনা সদরে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার একটি সভা থেকে ১৩ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
জাপা ঃ ১৬ নবেম্বর কুমিল্লা মহানগর, দক্ষিণ জেলা ও উত্তর জেলা জাতীয় পার্টির এক সভা টাউন হলে চলা কালে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। দক্ষিণ জেলা জাপা সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কবীর গ্রুপ ও দক্ষিণ জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি সালামত উল্লাহ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনার দায়ে ৩ জনকে আটক করে। পরে অজ্ঞাত কারণে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ২৮ নবেম্বর গাইবান্ধা সদরে সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় জাপা নেতা ডাঃ আব্দুল কাদের খান, শামসুজোহা, হারুন, মেহেদী, শাহীন, রানা ও চন্দন কুমার রায়কে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ এমপি লিটনকে হত্যা করা হয়।
জেএমবি ঃ ২৫ নবেম্বর ঢাকার ভাটেরা থানার সাঈদনগর এলাকা থেকে জেএমবি সদস্য আবু রায়হান মাহমুদ, হাবিবুর রহমান চাঁন মিয়া ও রাজিবুর রহমান সাগরকে ১৫০টি ডেটনেটর ও বিস্ফোরক দ্রব্যসহ আটক করে পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালত ৭ জেএমবি সদস্যের মধ্যে ৩ জনকে ফাঁসি ও ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে। ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্তরা হলো- সানোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুস শুকুর এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলো- শামসুল হক, সাইফুল ইসলাম, শামীম ও আব্দুল মোতাকাব্বির বুলবুল। এরমধ্যে সানোয়ার ছাড়া সকলে আটক রয়েছে। ২৭ নবেম্বর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দরিকৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে জেএমবি সদস্য হোসেন আলীকে আটক করে র‌্যাব-১৪।
তরুণ আনছার আল-ইসলাম ঃ ১৫ নবেম্বর ফরিদপুর সদরের শিবরামপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে তরুণ আনছার আল-ইসলামের সদস্য রাজীব বিশ্বাস ও নাঈম শেখকে আটক করে র‌্যাব।
আনছার আল-ইসলামঃ ১৬ নবেম্বর ঢাকার উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা থেকে আনছার আল ইসলামের সদস্য শফিকুল ইসলাম সাগর, ইলিয়াস হাওলাদার খাত্তাব, ইকরামুল ইসলাম হামজা, আমির হোসেন, শিপন মীর রব ও আব্দুর রহমান ওয়ালিউল্লাহকে আটক করে র‌্যাব-৪।
আনছারউল্লাহ বাংলা টিম ঃ ১ নবেম্বর নাটোর সদরের কৈগাড়ী কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে আনছারুল্লাহ বাংলা টিম সদস্য আরিফুল ইসলাম ও রবিউল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব-৫।
হিজবুত তাহরির ঃ ১৭ নবেম্বর ঢাকার উত্তরা থেকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য কাজী ইবাদুর রহমান তানভীর, নাসিদ কামাল সজীব, জামিউর রহমান খান আকাশ, ইয়ামিন হোসাইন ও জসিম উদ্দিন সাঈদকে আটক করে র‌্যাব-৩। ২২ নবেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে হিজবুত তাহরিরের সদস্য এরশাদুল আলম, ওয়ালিদ ইবনে নাজিম, ইমতিয়াজ ইসমাইল, আব্দুল্লাহ আল-মাহফুজ, নাছির উদ্দিন চৌধূরী, নাজমুল হুদা, লোকমান গণি, আব্দুল করীম, আব্দুল্লাহ আলম মুনিম, কামরুল হাসান রানা, আরিফুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন, আজিমুল হুদা, আফজাল হোসেন আতিক ও সম্রাটকে আটক করে পুলিশ।
 জেএসএস ঃ ২১ নবেম্বর রাঙ্গামাটির কাপ্তাই রাইখালীতে জেএসএস-এর হাতে রাজু, দবির, জাভেদ, সাহেদ, রেদওয়ান, কবির ও সাইফুলসহ ১০ শ্রমিক আহত হয়। এডিবির অর্থায়নে একটি চলমান প্রকল্পে চাঁদাদাবি করায় তা না দিলে এই হামলা চালানো হয়। (সমাপ্ত)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ