বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনায় মাদকের সিন্ডিকেটে নারীরা

খুলনা অফিস : মাদকসহ ধরা পড়ে, জেলে যায়, আবার আইনের মার প্যাঁচে বেরিয়ে এসে শুরু করে মাদক ব্যবসা। মাদকের সিন্ডিকেট কৌশল পরিবর্তন করে এখন নারীদের ভিড়াচ্ছেন মাদক ব্যবসায়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তাদের এমন কৌশল। খুলনায় মধ্যে দশ জনের নামে হুলিয়াও জারী করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মাদক বিক্রেতারা যে কোনো উপায়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মহিলা হওয়ায় সহজে কেউ তাদেরকে সন্দেহ করতে না পারার সুযোগকে বেশি কাজে লাগাচ্ছে তারা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনা ও খুলনার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রানুযায়ী, খুলনা মহানগর ও জেলায় ২৫০ পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতা রয়েছেন। যারা বছরে কয়েকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়। জামিনে বেরিয়ে এসে কয়েকদিন চুপ থেকে আবারও ব্যবসা শুরু করেন তারা। এদের মধ্যে ১০ জনের মতো দাগি মহিলা মাদক বিক্রেতাসহ নগরীতে অর্ধশতাধিক মহিলা মাদক বিক্রেতা রয়েছে।
দাগি মাহিলা মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু। এ তিন বোনই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার বাসিন্দা। তিন বোনের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। শুধু মাদক বিক্রী করে তারা নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন আলিশান ঘরবাড়ি। ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় এলাকায় তারা থ্রি সিস্টার নামে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ নানা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তারা। এছাড়া হিটলিস্টের মধ্যে রয়েছে মহিলা মাদক বিক্রেতা শিউলি বেগম, মায়া, রেখা বেগম, বেনু, আসমা, লিপি ও বুবলী। বিদেশি ও দেশি পাইকারি ও খুচরা অবৈধভাবে মদ বিক্রেতাদের নামও রয়েছে। যারা অনেকেই বাসাবাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। পাশাপাশি মাদক বিক্রীও করেন। এদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রেতার সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে।
তবে মাহিলা মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২/৩ জন জানান, জামিন পেয়ে জেল থেকে বের হলেও তাদের সপ্তাহে ও মাসে মাসে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে টাকা দিতে হয়। না হলে আবারও গ্রেফতার করে। পুরনো মামলায় জেলে পাঠায়। বাধ্য হয়ে আবারও মাদক বিক্রি করতে হয়। না হলে ওই টাকার যোগান দেওয়া যায় না। তারা বলেন, একবার গায়ে কাদা লাগলে তা যেনো আর মুছতে চায় না। সে কারণে সমাজে তাদের আর কোনো মূল্য থাকে না। তবুও বাঁচার তাগিদে বার বার এই ঘৃণ্য পেশার সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
কেএমপির মুখপাত্র পুলিশ সুপার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা এখন আর খুব বেশি সুবিধা করতে পারছে না। তারা এলাকা ছাড়া হয়ে গেছে পুলিশের একের পর এক অভিযানে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ ৪ মহিলাকে আটক করেন। তারা ইয়াবার চালান বিভিন্ন এলাকার নারীদের দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করছেন। মহিলাদের তল্লাশিতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে মাদকের সিন্ডিকেট নারীদের এ পেশায় ভিড়াচ্ছেন।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, অভিযানের সময় মহিলা মাদক ব্যবসায়ী আটক করা হচ্ছে। তাদেরকে তল্লাশি মহিলা কনস্টেবল বা মহিলা অফিসারদের দিয়ে করাতে হয়। বিষয়টি মাদকের সিন্ডিকেট বুঝতে পেরে তারা পুরুষদের পাশাপাশি এ ব্যবসায় মহিলাদের বেশি ভিড়াচ্ছেন। যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সহজে মাদকের চালান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরবরাহ করা যায়।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রেরিত তালিকা দিয়েই পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করে চলেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৫ নবেম্বর পর্যন্ত মহিলা মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২৬টি। গ্রেফতার হয় ২৭ জন। তাদের কাছ থেকে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা উদ্ধার হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ