সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বাংলাদেশে এখনো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ও নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে

গতকাল শনিবার নিজস্ব মিলনায়তনে বিএফইউজে ও ডিইউজে’র উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম।

*সংগ্রাম অফিসে হামলার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ আজ
স্টাফ রিপোর্টার: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে এদেশের অগ্রযাত্রাকে স্থমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ড ছিল একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। যার খেসারত আমাদের এখনো দিতে হচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের যারা বিরোধীতা করেছিল ১০ ডিসেম্বররের পর থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পালাতে শুরু করে। তারা নিজেদের আত্মরক্ষার প্রাণপন চেষ্টা করতে থাকে। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে আসলে কারা এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করছে। জাতীর কাছে পরিস্কার করতে হবে এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা কাদের দ্বারা হতে পারে। জাতীর কাছে যুক্তি প্রমান দিয়ে তুলে ধরতে হবে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ড ও তাদের উপর নির্যাতন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশে এখনো বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ও নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্যাতনের সর্বশেষ শিকার বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের একজন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিশর্ত মুক্তি দাবি করছি। এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের কার্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ সব কথা বলেন। বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, সহ-সভাপতি মুদাব্বের হুসাইন, নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছড়াকার আবু সালেহ, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসাইন, কার্যনির্বাহী সদস্য ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত। এছাড়া সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ডিইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাছির জামাল, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী প্রমুখ।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, আজকের দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। দেশের এ সব সূর্য সন্তানদের হত্যা জাতী হিসাবে আমাদের জন্য দূর্ভাগ্য। বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকারীরা আজও আড়ালেই থেকে গেলো। আমরা তাদের বিচার করতে পারিনি। দেশকে মেধাশূন্য করতেই এই হত্যাকান্ড চালানো হয়। সেই হত্যাকান্ড থেকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক কেউ রেহাই পায়নি। সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ১০ ডিসেম্বরের পর যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল  দেশে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাহলে কারা এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তা আজও পরিস্কার করা হয়নি। তাহলে আমাদের বুঝতে হবে আসলে কারা এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করছে। জাতীর কাছে পরিস্কার করতে হবে এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা কাদের দ্বারা হতে পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও দেশে সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা নিরাপদ নয়। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের উপর এখনো নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ফরহাদ মজহার, শহীদুল আলম, মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদ থেকে শুরু করে কেউ নিরাপদ থাকতে পারছে না। সর্বশেষ দেশের স্বনামধন্য সাংবাদিক, গবেষক, লেখক ও শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের একজন দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের মতো একজন সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ মানুষকে নির্যাতন, অপমান, অপদস্ত এটা অমানবিক, অমানুষিক ও বর্বরোচিত। এটা শুধু সংগ্রামের সম্পাদকের উপর হামলা নয় এটা দেশের সকল সংবাদপত্রের সম্পাদকদের উপর হামলা। সংবাদপত্রের উপর হামলা। বুদ্ধিজীবীদের উপর হামলা। লেখকদের উপর হামলা। গবেষকদের উপর হামলা। দেশের সাধারণ মানুষের উপর হামলা। এটা কোনোভাবেই সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।
তিনি বলেন, নিউজে সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদ কিংবা প্রেস কাউন্সিল অথবা কোর্টে যেতে পারতো কিন্তু তা না করে  পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসাবে দুটি টিভি চ্যানেল, ক্যামেরাসহ কথিত সংগঠনের আড়ালে একদল গুন্ডাবাহিনী, পুলিশকে সাথে নিয়ে হামলা চালায়।    
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ৭১ সালে বুদ্ধিজীবীদের যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছ্ িএবং সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আজ যখন আমরা বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আলোচনা করছি তখন দৈনিক সংগ্রামের বর্ষীয়ান সম্পাদক বুদ্ধিজীবী আবুল আসাদকে গত (শুক্রবার) একদল সন্ত্রাসী অপমান-অপদস্থ করেছে। এর কারণ একটি সংবাদে শহীদ শব্দ ব্যবহার করা। যদিও গত ৫ বছর যাবৎ এই শহীদ শব্দ ব্যবহার হচ্ছে। এতোদিন কেউ কোনো প্রতিবাদ করলো না, হঠাৎ তাদের চেতনা জেগে উঠলো। সংগ্রাম অফিস ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা আইন ভঙ্গ করেছে। সম্পাদককে অপমান করে পুরো সাংবাদিক সমাজকে অপমান করেছে। তিনি বলেন, সংগ্রাম অফিসে হামলা করে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবংসন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই সাংবাদিক নেতা বলেন, আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। তা না হলে সাংবাদিক সমাজ রুখে দাড়াবে। তিনি অবিলম্বে সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদকে ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান।
এম আবদুল্লাহ বলেন, যখন আমরা বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোচনা সভা করছি তখন দেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ অপমান হয়ে পুলিশের কাছে আটক। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংগ্রামের উপর যে হামলা করেছে তা দেশে নজিরবিহীন। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ েআইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বর্ষিয়ান সম্পাদক আবুল আসাদকে ছেড়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সংবাদপত্রে ভুল হতেই পারে। সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে। তাই বলে গুন্ডাবাহিনী দিয়ে অফিসে হামলা ও নির্যাতন হতে পারে না। শহীদ শব্দটা অযুহাত, মূলত পত্রিকা বন্ধ করার এটা একটা মাষ্টার পরিকল্পনা। এর ফলে অনেক সাংবাদিক বেকার হবে। এসময় তিনি নগ্ন হস্তক্ষেপকারীদের ভবিষ্যতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
এম এ আজিজ বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই। নেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। সংগ্রাম অফিসে যেভাবে সন্ত্রাসীরা তান্ডব চালিয়েছে এবং সম্পাদককে যেভাবে টেনে হেচড়ে অফিস থেকে নামিয়েছে তা বর্বরতা ছাড়া আর কিছু না। বিনা মামলা ও ওয়ারেন্টে সম্পাদককে ধরে নিয়ে যাওয়া নজিরবিহীন। স্বাধীর দেশে এমন ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে দেমে এখণ একদলীয় গণতন্ত্র চলছে। দেশে বিরোধী দল না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না। দেশের গণতন্ত্র হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। সেই গণতন্ত্রই আজ কারাগারে বন্দি।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন ও চেতনাকে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। ৭১ এ যেভাবে বুদ্ধিজীবীদের উপর হামলা হয়েছে এখনও সেভাবে বুদ্ধিজীবীদের উপর হামলা হচ্ছে। যেমন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর হামলঅ হয়েছে, ফরহার মজহারের উপর হামলা হয়েছে, শফিক রেহমানের উপর হামলা হয়েছে, শওকত মাহমুদের উপর হামলা হয়েছে। এ সরকার মুখে স্বাধীনতার কথা বলে। যদিও তাদের কার্যকলাপে স্বাধীনতার কথা তাদের মুখে মানায় না। দৈনিক সংগ্রামের উপর যে হামলা করা হয়েছে এবং সম্পাদককে যে নির্যাতন করা হয়েছে তা বর্বর। এ নির্যাতন শুধু আসাদ ভাইয়ের উপর নয়, পুরো সাংবাদিকের উপর। 
শহিদুল ইসলাম বলেন, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ও নির্যাতন এখনো বিদ্যমান রয়েছে। সংগ্রামের সম্পাদক বুদ্ধিজীবী আবুল আসাদকে নির্যাতন করায় তার প্রমান হয়েছে। যেভোবে সংগ্রাম অফিসে হামলা হয়েছে তা বর্বর ছাড়া কিছু না। এই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচিছ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কেউ যেনো সরকারের সমালোচনা করতে না পারে এজন্য বেছে বেছে মিডিয়া বন্ধ করছে। এরই অংশ হিসেবে ইতি মধ্যে ৫৪টি মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
সংগ্রাম অফিসে হামলার প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ আজ:
সংগ্রাম অফিসে হামলার প্রতিবাদে এবং সম্পাদক আবুল আসাদকে অবিলম্বে ছেড়ে দেয়ার দাবিতে কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ