শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রংপুরকে হারিয়ে জয় পেল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

স্পোর্টস রিপোর্টার :  বঙ্গবন্ধু বিপিএলে জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ  খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রায়াত এমরিতের নেতৃত্বে ওই দুই ম্যাচের প্রথমটিতে সিলেট থান্ডার্সকে হারালেও পরের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের কাছে বড় হার দেখে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। মূল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ফেরার ম্যাচে আবারও জয়ের দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম। গতকাল দিনের প্রথম খেলায় তারা ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রেঞ্জার্সকে। আগের ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের কাছে হেরেছিল চট্টগ্রাম। তবে এই ম্যাচে চ্যাডউইক ওয়ালটনের হাফসেঞ্চুরিতে জয় পেয়েছে দলটি। মোহাম্মদ নাঈমের ঝড়ো ৭৮ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে রংপুর ৮ উইকেট হারিয়ে স্কোরে জমা করে ১৫৭ রান। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০ বল আগেই টার্গেট টপকে যায় চট্টগ্রাম। ১৫৮ রানের লক্ষ্যে চট্টগ্রামকে উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু এনে দেন ওয়ালটন ও অভিষ্কা ফার্নান্ডো। তারা  যোগ করেন ৬৮ রান। ফার্নান্ডো ২৩ বলে ৩৭ রানে আউট হলেও হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন ওয়ালটন। ৩৪ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় তিনি খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। তাদের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন ইমরুল কায়েস অপরাজিত ৪৪ ও বার্ল অপরাজিত ১ রান করে। মাহমুদউল্লাহ করেন ১৫ রান, আর নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৩ রান। লুইস গ্রেগরি ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে  পেয়েছেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবী ও টম অ্যাবেল। এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৭ রান করেছে রংপুর রেঞ্জার্স। ৫৪ বলে ৭৮ রান করেন নাইম। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রংপুরের দুই ওপেনার আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ নাইম। ৩ ওভারে ২৫ রান সংগ্রহ করেন তারা। তবে চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে বিচ্ছিন্ন হন শেহজাদ-নাইম। ৯ রানে শেহজাদকে থামিয়ে চট্টগ্রামকে প্রথম সাফল্য এনে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেসরিক উইলিয়ামস। শেহজাদের বিদায়ের পরও এক প্রান্ত আগলে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন নাইম। এতে দ্রুততার সাথেই ঘুড়ছিলো রংপুরের রানের চাকা। নাইমের সাথে ছোট-ছোট জুটি গড়েন দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাইম। তার ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১৩তম ওভারে দলের স্কোরও স্পর্শ করে একশতে। হাফ-সেঞ্চুরির পরও নিজের ইনিংসটি বড় করছিলেন নাইম। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারে থামেন তিনি। ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৪ বলে ৭৮ রান করেন নাইম। এছাড়া অধিনায়ক আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী ১টি করে চার-ছক্কায় ১২ বলে ২১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ফলে ৮ উইকেটে ১৫৭ রানের লড়াই করার পুঁিজ পায় রংপুর।   চট্টগ্রামের উইলিয়ামস ৩৫ রানে ২টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

রংপুর রেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৫৭/৮ (শাহজাদ ৯, নাঈম ৭৮, অ্যাবেল ১০, জহুরুল ৬, নবি ২১, গ্রেগরি ১১, নাদিফ ২, রিশাদ ১, সানি ৩*, তাসকিন ১১* রানা ৪-০-৩৩-১, রুবেল ৪-০-৩২-১, উইলিয়ামস ৪-০-৩৫-২, নাসির ১-০-১৩-০, বার্ল ৩-০-২৪-১, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-১৭-১)

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ১৮.২ ওভারে ১৫৮/৪ (ওয়ালটন ৫০, অভিশকা ৩৭, ইমরুল ৪৪*, মাহমুদউল্লাহ ১৫, নাসির ৩, বার্ল ১*; সানি ৩-০-২৪-০, নবি ৪-৩০-১, মুস্তাফিজ ৩.২-০-২১-০, রিশাদ ২-০-২৯-০, গ্রেগরি ৪-০-২৭-২, তাসকিন ১-০-১৪-০, অ্যাবেল ১-০-১১-০) 

ফল: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নাঈম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ