শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৫ ঘণ্টা পর তালা ভেঙে কক্ষে ঢুকলেন ডাকসু ভিপি নূর

স্টাফ রিপোর্টার : ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেওয়া তালা ভেঙে পাঁচ ঘণ্টা পর নিজ কক্ষে প্রবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নূরুল হক নূর। এরআগে, বেলা ১১টার দিকে তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। নুরের দাবি, তালা খোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েও তিনি পাননি। পরে নিজেই তালা ভেঙে নিজ কক্ষে প্রবেশ করেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে শেষে ভিপি নুরের কক্ষে তালা দেয়া হয় এবং তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
ভিপি নূর বলেন, কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখে ডাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামকে অনেকবার ফোন দিয়েছি। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে বিষয়টি জানালে তিনি কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান। নিরুপায় হয়ে তালা ভেঙে ডাকসুতে নিজ কক্ষে প্রবেশ করি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ডাকসুর যেহেতু একটি নিজস্ব নির্বাহী বডি রয়েছে, তাই আমি ভিপিকে বলেছি কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের অভিযোগ, ডাকসু ভিপির একটি ফোনালাপ গণমাধ্যমে ফাঁঁস হয়েছে। সেখানে ভিপি নূর অনৈতিক অর্থ লেনদেনের বিষয় কথা বলেছেন। আমরা মনে করি ডাকসু ভিপি হয়ে এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার দায়ে সে আর পদে থাকতে পারে না।
তবে, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এইসব নেতারা ছাত্রলীগেরই একটি অংশ বলে দাবি করেন ভিপি নূর। তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, যদি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা অনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গেই সঙ্গেই পদত্যাগ করবো।
ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ ও অন্যায় কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে পারলে পদত্যাগ করবো। কিন্তু এ অভিযোগ কারা তুলছে সেটি দেখতে হবে। কোনো দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি আমি।
তার পদত্যাগের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভিপি নূর গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত, উচ্ছৃঙ্খলদের সংগঠন থেকে আমার বিরুদ্ধে কী বলা হচ্ছে সেটা আমার কাছে বিবেচনার বিষয় না। তবে, তারা যে ডাকসুতে তালা লাগিয়েছে এটার সাহস তারা কই পায়? তাদের কেউ ইন্ধন দিয়েছে। ভিসি স্যারের কথা আমরা ব্যবস্থা নেবো।
ডাকসু ভিপি পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে নূর বলেন, কিছুদিন আগে যে সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, যার হকিস্টিক হাতে ছবি ভাইরাল হয়েছে, সে কী বললো সেটা তো আমলে নেয়ার নয়। চোর-বাটপার-টেন্ডারবাজরা কী বললো সেটা বিবেচ্য বিষয় না। আমাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু যে কথাগুলো তারা ছড়াচ্ছে সেগুলো ভিত্তিহীন। এগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রের অপকৌশল।
ফাঁস হওয়া ফোনলাপের বিষয়ে নূর বলেন, একটি ফোনালাপে বলা হচ্ছে আমি নাকি প্রকল্প কর্মকর্তার সাথে কথা বলছি, অথচ উনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই। আমার আন্টির কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা আছে, তিনি সরকারি কাজের টেন্ডারটি পেয়েছেন। ১৩ কোটির টাকার মডেল মসজিদের কাজ। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল ব্যাংক গ্যারান্টি লাগতো তাদের। আমার মামাতো ভাই অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে, তাই আন্টি আমার সহায়তা চেয়েছেন পরিচিত কারও মাধ্যমে ব্যাংক গ্যারান্টির বিষয়ে সহায়তা পাওয়া যায় কিনা। সেই আলাপকে বলা হচ্ছে ‘প্রকল্প কর্মকর্তার’ সাথে আমি কথা বলেছি। এটার খ-িত অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। এটা নিতান্তই ষড়যন্ত্রমূলক।
প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে নূর বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উনি ফোন দিয়ে অর্থ সহায়তার কথা বলেছেন। সেটার কর্তিত অংশ দেয়া হয়েছে। আমরা অপরিচিত কারও কাছ থেকে টাকা নেই না। আমি ওনাকে সেটিই বলেছি।
সম্প্রতি নুরের কিছু টেলিফোন কথোপকথন ফাঁস হয়। সেখানে শোনা গেছে, ভিপি নূর এক ব্যক্তির সাথে টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন। অপর একটি ফোনালাপে প্রবাসী এক বাংলাদেশির ভিপি নূরকে বলছেন, আমি কিছু টাকা-পয়সা উঠিয়ে পাঠাতে চাচ্ছি। আমি জানি, তোমাদের খুব টাকা-পয়সার দরকার।
এ সময় ভিপি নূর বলেন, এই মানে যতটুকু সৎ থাকা যায় চেষ্টা করছি। তখন ওই প্রবাসী টাকা পাঠানোর জন্য ভিপি নুরের কাছে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য চান।
এ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। বুধবার দুর্নীতির অভিযোগে নূরুল হক নুরের পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। আর নূর ডাকসু ভিপি পদে থাকার বৈধতা হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ