বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

কালিগঞ্জে পানিফল চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা), সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পানি ফলের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় (পানি সিংড়া)। স্থানীয়রা জানান, ফলটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় কালিগঞ্জে এই মৌসুমী পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তাদের দাবি, গত ৫ বছর আগে উপজেলায় পরিচিতি পাওয়া পানিফল গত বছরের ন্যায় চলতি বছরও জেলার গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা, যশোর, মাগুরা, বরিশাল, ঝিনাইদহ, খুলনা বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে বিক্রি হবে এখানকার পানি সিংড়া। ইতোমধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে এসব কৃষকরা জানান। কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা  গ্রামের আব্দুল মজিত হোসেন, সফিকুল, আমিনুর সহ কয়েকজন চাষি জানান, প্রতিবছর এলাকায় জলাবদ্ধ জমি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে পতিতো জমিতে বিকল্প হিসেবে তারা পানিফল চাষ করছেন। তারা আরও জানান, এলাকায় ৮-৯ বছর আগেই এই ফলের চাষ প্রথম শুরু করি। কালিগঞ্জে চার বছর আগে নলতা  গ্রামের সাইদুর রহমান  নামের এক কৃষক কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে বীজ এনে পানিফলের চাষ করে লাভবান হন। সেসময় থেকে এলাকায় এটি ‘পানি সিংড়া’ নামে পরিচিতি পায়। এরপর থেকে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ শুরু করে।সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নলতা, সোনাটিকারী, কাশেমপুর, মারকা গ্রামসহ কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধ জমিতে পানিফলের চাষ করা হয়েছে। কথা হয় নলতা পানফল চাষি শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন চাষির সাথে। তারা জানালেন, এখন ও পরিচর্যার কাজ চলছে, পানি ফল তুলতে শুরু করেছি তবে কিছু দিনের মধ্যে প্রতি গাছে ফল পাবা যাবে। কার্তিক মাসের শেষে এই ফল বিক্রি শুরু হয়। মূলত, কচুরিপানার মতো পানিতে ভেসে থাকা গাছে গাছে কিছুটা লাল-সবুজ বর্ণের  ফলটির নাম পানিফল। দুইপাশে শিং আকারে থাকায় স্থানীয়ভাবে ‘পানি সিংড়া’ নামে পরিচিত। তারা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি হয়। এর ফলে একদিকে জলাবদ্ধ পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরদিকে কৃষকরা কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছে।’
চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ বিঘারও বেশি জমিতে পানিফলের চাষ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ