বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের সমন্বয়ে রংপুরকে স্মার্ট সিটি করার অঙ্গিকার

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুর সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের সমন্বয়ে রংপুরকে একটি আধুনিক সিটি কর্পোরেশন করার অঙ্গিকারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

গত ২রা ডিসেম্বর সোমবার রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত “নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগরী” শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং রংপুরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ । এজন্য তারা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। 

রংপুরপ্রেস ক্লাব আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার একেএম তরিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মাহমুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসিব আহসান। এসময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

প্রেসক্লাব সভাপতি রশিদ বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন, রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়, মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন-মাপা’র প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এএএম মুনীর চৌধুরী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মোশফেকা রাজ্জাক, আকবর হোসেন, আশরাফুল আল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার, যুগের আলো’র বার্তা সম্পাদক আবু তালেব, দৈনিক পরিবেশের সম্পাদক একেএম ফজলুল হক, দৈনিক আমাদের প্রতিদিনের সম্পাদক মাহবুব রহমান প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর নগরীকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক চিন্তার প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এজন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সমন্বয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজেদের অবস্থান থেকে সম্মিলিতভাবে নগরের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। রংপুরের ঐতিহ্য শ্যামা সুন্দরী খাল পুনরুদ্ধার, শোভাবর্ধনের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তিনি বলেন ২০৫ দশমিক ৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ১০১২ সালের ২৮ জুন। এর আগে ১৮৬৯ সালে ৫ মে ৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রংপুর পৌরসভা গঠিত হয়েছিল। এর আগে ১৭৭২ সালে রংপুর শহরের জন্ম হয়েছিল। সে সময় এ জেলার কালেক্টর ছিলেন চার্লস পালিং। রংপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হবার পর এই সিটিতে সুপরিকল্পিত খেলার মাঠ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাস স্থান পর্যাপ্ত প্রশস্ত রাস্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যতটুকু হয়েছে তা অপরিকল্পিতভাবে। এর প্রেক্ষিত সুপরিকল্পিত সিটি করপোরেশন বা স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে এই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। 

 সংলাপে নগরীতে যানজট, বায়ু ও পরিবেশ দুষণ, জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক, পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট নিরসনে সুপরিকল্পিত নগরায়নে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সংলাপের প্রধান আলোচক সিটি মেয়র বলেন, রংপুর নগরীর ৩১ স্থান দিয়ে অবধৈ ভাবে অটোরিক্সা নগরীতে প্রবেশ করায় নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। তিনি নগর পুলিশের প্রধানের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, রংপুরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আরো উন্নতি করতে হবে। অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। জনপ্রতিনিধারা ইচ্ছা করলে সকল কাজ করতে পারে না। রংপুরকে একটি সুন্দর নগরী উপহার দেয়ার জন্য ২৬০ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে বলে তিনি জানান। আরো শত কোটি টাকার কাজ শিগগির শুরু হবে। নগরীর ভাঙ্গা রাস্তা আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন করা হবে। তিনি রংপুর নগরীর উন্নয়নের জন্য সকল রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামোনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ