বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চুকনগরে বিলের পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিপাকে কৃষকরা

খুলনা অফিস : খুলনার চুকনগরে আপার ভদ্রা নদী খনন করার কারণে ২৭টি গ্রামের বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে ইরি বোরো মওসুমে বীজতলা তৈরি করতে পারছে না কৃষকরা। জানা যায়, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া, যশোর জেলার কেশবপুর ও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ২৭টি গ্রামের বিলের পানি নরনিয়া আপার ভদ্রা নদীর স্লুইসগেট দিয়ে সরবরাহ করত। কিন্তু নদী খনন করার কারণে এ এলাকার বিলের পানি সরানো যাচ্ছে না।

এলাকাবাসীর দাবি অত্যন্ত ধীর গতিতে নদী খনন করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত নদী খনন করার জন্য একাধিক স্থান হতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেয়া হয়েছে। এর ফলে মৎস্য চাষ করা ২৭টি বিলের পানি কোনোক্রমেই সরানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে হাজার হাজার কৃষক ইরি বোরো মওসুমে বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। তাদের দাবি অচিরেই নরনিয়া ভদ্রা নদীর পথ দিয়ে যদি পানি সরানো সম্ভব না হয় তাহলে কৃষকরা ধানের পাতার অভাবে ধান চাষ করতে পারবে না।

মাগুরাঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আবুল হোসেন বলেন, প্রতিদিন ইউনিয়নের শত শত কৃষক জমি থেকে পানি সরানোর ব্যবস্থা করার জন্য আসছে। কিন্তু নদী খনন করার কারণে বিশেষ করে বিভিন্ন স্থান হতে আড়াআড়িভাবে বাঁধ দেয়ায় এলাকার বিলগুলোতে এখনও হাঁটু পানি। এ কারণে কর্তৃপক্ষের কাছে অনতিবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে কৃষকদের বীজতলা তৈরিসহ ইরি বোরো মওসুমে ধান চাষ করার সুব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পানি কমিটি ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি অধ্যুষিত এ অঞ্চলের মানুষ সারা বছর জলাবদ্ধতার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। কিন্তু এখন শুষ্ক মওসুমেও তারা পানিবন্দী। বর্তমানে কতিপয় অসাধু ঠিকাদার অত্যন্ত ধীর গতিতে ভদ্রা নদী খনন করছে। এ কারণে তিনটি উপজেলার বিলের পানি নিষ্কাশন কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা ইরি বোরো মওসুমে এখনও পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। ফলে তাদের পক্ষে ইরি ধান চাষাবাদ করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি যত দ্রুত সম্ভব বিলগুলোর পানি সরানোর ব্যবস্থা করে দেয়া হোক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ