বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযানে চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ দুই দালালকে জরিমানা

খুলনা অফিস : গ্রাহকের ডেলিভারি স্লিপ (যা জমা দিয়ে পাসপোর্ট নিতে হয়) থাকে অফিসের নৈশ প্রহরী আজহারুল ইসলামের কাছে। অফিসে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সাথে রয়েছে উচ্চমান সহকারীর আর্থিক যোগাযোগ। দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে দেয়া হয় পাসপোর্ট। আর টাকা না দিলে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। সোমবার খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এসব চিত্র দেখা যায়। অভিযানে পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত দুই আনসার সদস্য, অফিসের উচ্চমান সহকারী, নৈশপ্রহরী ও দুই দালালের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া যায়। দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ওই অভিযান চলানো হয়।

অভিযানে দালাল চক্রের সাথে জড়িত নৈশ প্রহরী আজহারুল ইসলামের কাছ থেকে ৬৩টি ডেলিভারি স্লিপ, আনসার সদস্য ফরমান সরদারের কাছে নগদ টাকা ও পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ উদ্ধার হয়। এছাড়া এই চক্রের সাথে আনসার সদস্য রবিউল ইসলাম ও পাসপোর্ট অফিসের উচ্চমান সহকারী হোসনে আরার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত ফি ৩৪৫০ টাকার বদলে ৫৫০০ টাকা নিয়ে পাসপোর্ট করে দিতো।

অভিযানে আটক দুই দালাল ফিরোজ শিকদার (২৪) ও মো. মিল্টন (২৬)কে দুই দিনের কারাদণ্ড ও দুই হাজার ৫শ’ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাদেরকে আরও একদিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদেরকে এই শাস্তি প্রদান করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান খান। সাজাপ্রাপ্তদের বাড়ি নগরীর ছোট বয়রা এলাকার স্বর্ণালী কলোনিতে।

দুদকের খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির অভিযোগ করেন কয়েকজন সেবা গ্রহীতা। সোমবার সকালে সেবা প্রার্থী সেজে পাসপোর্ট অফিসে আসেন দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে দু’জন দালাল এবং অফিসের চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, দালাল চক্রের সাথে অফিসের আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। এখানে টাকা না দিয়ে পাসপোর্ট করতে এলে আবেদন ফরমে নানা রকম ভুল-ভ্রান্তি দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। এই চক্রের সাথে জড়িত পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক দালাল মিল্টন ও ফিরোজ স্বীকার করে তারা আনসার সদস্য ফরমান ও রবিউল ইসলামের মাধ্যমে উচ্চমান সহকারী হোসনে আরাকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করিয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে ৩৪৫০ টাকার জায়গায় ৫৫০০ টাকা করে নেয়া হয়। এ সময় নৈশপ্রহরী আজহারুল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডেলিভারি স্লিপের গ্রাহক কয়েকজন ফোন দিলে তারা পাসপোর্ট করতে অতিরিক্ত টাকা প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেন। অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক অরুন কান্তি ঘোষ, শাওনা মিয়া, উপ-সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ