মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোল্লার হাটের ধলেশ্বরী নদীর ওপর অবিলম্বে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন

কেরানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা : মুন্সিগঞ্জ জেলাধীন সিরাজদিখান উপজেলার মোল্লাকান্দি বালুচরস্থ বালুচর বাজার পুরো জেলার মধ্যে অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী। এখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজগর আলী মুন্সী সুপার মার্কেটসহ শত শত দোকানপাট, ব্যাংক, বীমা কোম্পানির অফিস, ফার্মেসি, স্বর্নকার, কর্মকার, সেলুন, কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। এখানে শনিবার গরু-ছাগলের এবং মঙ্গলবার সাধারণ হাট বসে। এ ছাড়া নিত্য দিন হার্ডওয়্যার, ইলেকট্রক্যাল যন্ত্রপাতি, কাপড়-চোপড়, ভুসিমাল, চাল, ডালসহ মনোহারী দ্রব্য, মাছ-মাংস, ফল-ফলাদী এবং হরেক রকম মালামাল বেঁচা-কেনা হয়ে থাকে। বাজার সংলগ্ন খাসমহলে রয়েছে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদ,খাসমহল বালুচর হাই স্কুল এন্ড কলেজ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি। বাজারটি ধলেশ্বরী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এবং উত্তর তীরে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মোল্লার হাট। এটিও একটি সমৃদ্ধ বাজার। নদীর মাঝে রয়েছে একটি চর। উক্ত চরে শ্যামল ছায়া সমবায় সমিতি কমপ্লেক্স অবস্থিত। সেখানে জামে মসজিদ আছে। অচীরেই স্কুল, মাদ্রাসা ও আবাসিক ঘর-বাড়ি নির্মিত হবে। জনসাধারণ উক্ত কমপ্লেক্স থেকে প্লট খরিদ করছে। উক্ত এলাকায় চরসংহরদি নামে একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম আছে। উক্ত গ্রামের কৃষকেরা জমিতে শাক-সবজি, ধান, গমসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। এছাড়া অনেকেই গরু-বাছুর পালন করেন। নদীর দুই পারের জনগনের পরাপারের একমাত্র অবলম্বন ট্রলার। ট্রলার দিয়ে নদী পারাপারের বিড়ম্বনা উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন। এছাড়া বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী, শিশু এবং রোগীদের পারাপারে বড় রকমের সমস্যা হয়। উল্লেখ্য নদীর দক্ষিণের বড় অংশে বিগত প্রায় ১৪/১৫ বছর পূর্বে সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি উত্তরের অপেক্ষাকৃত ছোট অংশে সেতু নির্মিত হয়নি। নদীর উভয় পারের গণমানুষের প্রাণের দাবি আরেকটি সেতু নির্মিত হউক। বিভিন্ন সময় জনগণ অত্র বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। কয়েকটি টেলিভিশন এখানকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রদর্শণ করেছে।
 মোল্লার হাটের ধলেশ্বরী নদীর উভয় পারে এবং বালুচরের ধলেশ্বরী নদীর উত্তর পারের অংশে বড় বড় কোম্পানী যেমন-জবমবহঃ এৎড়ঁঢ়, ঘবি ঠরংরড়হ এর নানা ধরনের প্রজেক্টের কাজ চলছে। তাছাড়া বড় বড় ইটের ভাটায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে। জানা যায় প্রায় দু’বছর পূর্বে মোল্লার হাটের অংশে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারনে উক্ত উদ্যোগ স্থগিত হয়ে যায়। লিখক সম্প্রতি অত্র বিষয়ে জানার জন্য এলাকাটি পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায় সেতু নির্মাণের কাজ চলছে কিন্তু কচ্ছপ গতিতে। যে কোন সময় নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উক্ত এলাকায় মক্কা-মদিনা ইটের ভাটার মালিক জনাব লেহাজ উদ্দিন মোল্লা ও জজ মিয়া এবং চরসংহরদি গ্রামের বাসিন্দা জনাব ফজর আলীর সাথে কথা হয়। সেতু নির্মাণে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে লেহাজ উদ্দিন মোল্লা ও জজমিয়া জানান “ সেতু নির্মাণের কন্ট্রাকটরবৃন্দ অভিযোগ করেছেন তারা কাজ করে ঠিক মতো বিল পান না অথবা বিল পেতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। এসব কারণে তারা কাজ করতে আগ্রহী নন। জনাব মোল্লা ও জনাব জজ আরো জানান মোল্লার হাটের কতিপয় পেশি শক্তির অধিকারী ব্যক্তি তাদের কায়েমী স্বার্থের কারণে সেতু নির্মাণে বাধা সৃস্টি করছে। ইটের ভাটার মালিকদ্বয় আরো বলেন বালুচর বাজার এবং বালুচর ইউনিয়নের জনগণের দাবি ও চাপে সেতু নির্মাণের কাজ অগ্রসর হচ্ছে। তারা আরো জানান সিরাজদিখান অঞ্চলের এম.পি মহোদয় জনাব সাগুফতা সেতু নির্মাণে খুবই আগ্রহী এবং মোল্লার হাট তার এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও তিনি অনেক কাজ করেছেন। জনাব ফজর আলী জানান, সেতুটি নির্মিত হলে তারা রাজধানীতে দ্রুত তরিতরকারী, মাছ,দুধ ইত্যাদি বিক্রির জন্য যাতায়াত করতে পারবেন। বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আবুবকর ছিদ্দিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় এক্ষেত্রে তার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে এবং তিনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সেতুটি নির্মিত হলে অত্র অঞ্চলে উন্নয়নের দ্বার খুলে যাবে। রাজধানী ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্বিস চালু হবে। পুরো এলাকার জনসাধারণ অতি দ্রুত অর্ফিস-আদালত ও বাণিজ্যিক কাজে রাজধানীতে যাতায়াত করতে পারবেন। একথা সবারই জানা যে ঢাকা মহানগরী বিশেষত: পুরান ঢাকা এখন বসবাসের অনুপযোগী । সেতুটি নির্মিত হলে পুরান ঢাকার বিপুল জনগোষ্ঠি বালুচর এলাকা চরসংহরদি, মোল্লার হাটে বাড়ি-ঘর নির্র্মাণ করে বা ভাড়া করা বাড়িতে তাজা শাক-সবজি, মাছ, গোস্ত খেয়ে অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। ঢাকা অনেকাংশে জনসংখ্যার চাপ মুক্ত হবে।
সুতরাং বর্তমান উন্নয়ন বান্ধব সরকার মোল্লার হাটের সেতুটির নির্মাণ কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করবেনÑ এটাই জনগণের স্বপ্ন। আশা করা যায় অচিরেই জনগণের এ স্বপ্ন বাস্তবে রুপ লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ