মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনা বিভাগে এইচআইভি-এইডস পজিটিভ বেড়েই চলেছে

খুলনা অফিস : দিনকে দিন খুলনা জেলায় এইচআইভি-এইডস পজেটিভ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১৮ সালের নবেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এন্টিভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার থেকে{(Antiretroviral Therapy (ART) Center} ৬৪৮ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৫১ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া যায়। এর আগের বছর এইচআইভি সনাক্ত করা হয় শিশুসহ ৩৯ জনকে।
খুমেক হাসপাতালের স্টেনদেনিং অফ এইচআইভি সার্ভিসেস প্রকল্পের সূত্র মতে, ২০১৮ সালে খুলনা বিভাগে ৬৭ জন এইচআইভি সংক্রমিত রোগী চিহ্নিত করা হয়। খুমেক হাসপাতালের (এআরটি) সেন্টার থেকে ২০১৮ সালের নবেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৬৪৮ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৫১ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ২০১৭ সালের ১৫ নবেম্বর থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আওতাধীন এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম এবং ইউনিসেফ এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় স্টেনদেনিং অফ এইচআইভি সার্ভিসেস প্রকল্পের আওতায় আওতায় prevention of mother to child Transmission of HIV (PMTC) এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে মূল উদ্দেশে হলো-এইচআইভি সংক্রমিত মা থেকে শিশুর এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। এ প্রকল্পের সেবার মাধ্যমে ২০১৮ সালের নবেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৫০৫ গর্ভবতী/গর্ভত্তোর মাকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৩ জন গর্ভবতী/গর্ভত্তোর মা এবং ২ জন পার্টনারের (স্বামী) মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া যায়। সে হিসেবে খুমেক হাসপাতালে মোট ৫৬ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া যায়। যার মধ্যে পুরুষ রয়েছে ২৬ জন, মহিলা ২৪ জন এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। এই বছরে খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসা আওতায় এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ১২ জন ব্যক্তি মারা গেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ছিলো ৪ জন ও মহিলা রয়েছে ৮ জন।
বর্তমানে খুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে ২৫০ জন বিনামূল্যে এআরটি গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে খুলনা জেলার বাসিন্দা রয়েছে ৮৬ জন। এছাড়া যশোর ৬২ জন, সাতক্ষীরায় ৩৪ জন, নড়াইলে ২৫ জন, বাগেরহাটে ১২ জন, ঝিনাইদহে ১০ জন, মাগুরা ৪ জন, চুয়াডাঙ্গা ৩ জন, গোপালগঞ্জে ৬ জন, ফরিদপুরে ৪ জন, পিরোজপুরের ৩ জন, বড়গুনার ১ জন (হিজড়া) রয়েছে। এছাড়া PCR এবং Viral Load test করা হয় ৫২ জন এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীদের।
ওই প্রকল্পের সূত্র মতে, ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। তার পর থেকে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় মোট ৮৬৯ জন। যার মধ্যে রোহিঙ্গা আছে ১৮৮ জন। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট এইচআইভি/এইডস এর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৫৫ জন। এর মধ্যে মারা যায় ১ হাজার ৭২ জন।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ও প্রকল্পের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, এইচআইভি/এইডস রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া কোনো উপায় নেই। এই বিষয়ে মানুষের নিজের উদ্যোগে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, যদি এইচআইভি পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো গর্ভবতী মায়ের রক্তে এইচআইভি সনাক্ত হয় তবে তাকে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে গর্ভের শিশুটির এইচআইভি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ