শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বাবা আদম শহীদ মসজিদ

মমিন বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জ থেকে : ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিক্রমপুরের মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৫ কিঃ মিঃ দূরে সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দরগাহ বাড়ী গ্রামে অপূর্ব নকশা কারুকার্য সমৃদ্ধ মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীনতম নির্দশন বাবা আদম শহীদ মসজিদটি অবস্থিত। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, বাবা আদম শহীদ একজন ফকির বা সাধু পুরুষ রূপে মক্কায় বাস করছিলেন। সে সময়ে রামপালের নিকটবর্তী কানা-চং গ্রামের জনৈক মুসলমান স্থানীয় শাসক বল্লাল  সেনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁর পুত্রের জন্ম অনুষ্ঠান পালনের জন্য তিনি একটি গরু কোরবানী করেছিলেন। এ জন্য স্থানীয় হিন্দু রাজা তাকে নির্যাতন করেন। ফলে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে মক্কায় চলে যান। সেখানে তিনি তার দুর্ভাগ্যের কাহিনী বাবা আদম শহীদের কাছে বর্ণনা করেন। তার বেদনায় ব্যথিত হয়ে সুুফিসাধক ছয় থেকে সাত হাজার অনুসারী নিয়ে তাকে সাহায্য করতে আসেন। রাজা মুসলমান পরাজিত করতে বহিষ্কারে সংকল্পবদ্ধ হন এবং তার সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন। তার সেনাবাহিনী মুসলমানদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজা নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন। অবশেষে সুফিসাধক শহীদ হন। কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস যে, স্বয়ং রাজা এবং তার পরিবারবর্গ অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়েপ্রাণ বিসর্জন দেন। হযরত বাবা আদম শহীদ হওয়ার ৩০ বছর পর সুলতানী আমলে বংলার সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ সাহ মুসলিম সভ্যতার অগ্রদূত সৈয়দ বাবা আদম শহীদ (রঃ) এর চির স্বরনীয় ও চেতনাদিপ্ত রাখার জন্য বাবা আদমের মাজারের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করার জন্য সুলতান জালাল উদ্দিন আবু জাফর শাহের পুত্র মালিক কাফুরকে নির্দেশ দেন । ১৪৭৯ খৃস্টাব্দে মালিক কাফুর পাথরের সূদৃঢ় ভিতের উপর মসজিদটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন । বাবা আদম শহিদ মসজিদটির গঠনশৈলী খুবই মনোরম এই সুরম্য মসজিদটি প্রাচীনতম মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের এক অসাধারণ শৈল্পিক কারুকর্যে অলংকৃত করা হয়েছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৩ ফুট এবং ৩৬ ফুট প্রস্থ মসজিদটির পূর্ব দিকে ৩টি প্রবেশ পথ রয়েছে। ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির চুড়া গুলো সুক্ষ কারুকার্যে নিপুন ভাবে তৈরি আট কোন বিশিষ্ট ৪টি বুরুজ পাথনী দিয়ে মসজিদটি মজবুত করা হয়েছে
মসজিদটির উপরের অংশ খাটকাটা  নকশায় অঙ্কিত করা হয়েছে। মসজিদটির মূল খিলান ৪টি । খিলানগুলো ২ ফুট ২ ইঞ্চি স্তম্ভ থেকে মূল খিলান শুরু হয়েছে । নিচ থেকে ১০ ইঞ্চি খিলানের উচ্চতা থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য ও নকসা। এর ৩ইঞ্চি উপরে রয়েছে ৬ ইটের স্তর বিন্যাস এর উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে ৯ইঞ্চি উচ্চতায় কারুকার্যমন্ডিত নকশা দেখা যায়। জানাযায় প্রতœতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ মসজিদটির সংস্কার করার সময় ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ ও ৪ইঞ্চি প্রস্থ ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিহাসে এই মসজিটি বাবা আদম শহিদ মসজিদ নামে ক্ষেত সুলতানী আমলের প্রচীনতম এই মসজিটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার ৬ টাকা মূল্যের স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছেন । বাবা আদম শহিদ মসজিদটি দেশ বিদেশী আগ্রহী পর্যটক এখানে আগমন করেন। মসজিতটিতে এখনো ৫ ওয়াক্ত নামোজের আযান ও জামাত হয়। মসজিদের একটি কমিটি রয়েছে যার সভাপতি মিরকাদিম পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি খন্দকার মো: মজিবুর রহমান। সেক্রেটারি মজিবুর রহমান জানালেন মসজিদটি দেখানো শোনার জন্য সার্বক্ষণিক একজন কর্মচারী দরকার, তিনি মসজিদ দেখাশোনা করবেন এবং দর্শনার্থীদের সহযোগিতা করতে পারেন। এ ব্যপারে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। মসজিদের পাশেই রয়েছে বাবা আদম শহীদের কবর। এ ব্যপারে স্থানীয় বাসিন্দা  নাসির উদ্দিন দুঃখ করে বলেন, আল্লাহর ওলী শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে জিহাদ করে শহিদ হলেন। তার কবর আজ শিরক বিদআতের আখরায় পরিনত হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট আলেমদের নিয়ে বাবা আদম শহিদ মসজিদ সংরক্ষণ কমিটি নামে একটি কমিটি করার জন্য দাবি জানান।
যাতায়াত: গুলিস্তান থেকে মুন্সীগঞ্জ সিপাহীপাড়া, সেখান থেকে অটোভাড়া ৫ টাকা দরগা বাড়ি অথবা সদরঘাট থেকে লঞ্চে মুন্সীগঞ্জ কাটপট্টি লঞ্চঘাট, সেখান থেকে অটোতে বা রিক্সায় দরগাবাড়ি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ