বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

একই স্টেশনে বছরের পর বছর সরকারি কর্মকর্তারা

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় একই ষ্টেশনে ২৫/৩০ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা দেশের প্রচলিত আইন ও বদলীর পরিপত্রের নির্দেশ অমান্য করে বিধি বর্হিভূতভাবে  বদলী ফিরাইয়া বছরের পর বছর ঘাটাইলে থেকে যাচ্ছে। ফলে একদিকে ভেঙে পড়ছে ঐ দপ্তরের আইন কানুন। অপরদিকে একই স্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করায় অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছে অনেকেই। ভুক্তভোগী ও উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে, তাদের অনেকেই সময় মত অফিসে না আসা, কাজে মনোযোগী না হওয়া, মানুষকে অবমূল্যায়ন করা, প্রভাব খাটিয়ে কাজে সেবা না দেওয়া। অফিসকে নিজের বাড়ি ঘর মনে করে মনগড়া কাজ করা। তবে বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাত ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ীর ড্রাইভার মাসুক আহমেদ। তার বাড়ী ধনবাড়ী উপজেলার সদরে তিনি ১৯৮৭ সালে ঘাটাইলে যোগদান করেন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা সরকারি বাড়ী ভাড়া ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রভাব খাটাইয়া উপজেলা পরিষদের কর্মচারীদের নেতৃত্ব দিয়ে সাবেক ইউএনও আছমারা বেগমকে বদলী নিয়ে চলে যেতে বাধ্য করেন। তারপরেও তিনি আইনকে বোকা বানাইয়া টানা ৩২ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে (সূত্র যুগান্তর)।  
এসব বিষয়ে ড্রাইভার মাসুক আহমেদ বলেন আপনারা যতই লেখালেখি করেন না কেন আমি ইচ্ছা করলে ৩২ বছরের জায়গায় সরকারকে ৮ বছর দেখাতে পারি। তিনি দাম্ভিকতা করে আরো বলে ১৯৯১ সালে আমাকে বাসাইল উপজেলায় বদলী করেছিল, আমি একদিনের জন্যও সেখানে যাই নাই। উল্টো বাড়ীতে ১৫ দিন ছুটি কাটিয়ে পুনরায় ঘাটাইলে যোগদান করেছি।
অপরজন উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী শামসুন্নাহার। তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার আথাইলশিমুল গ্রামে। তিনি ১৯৯৪ সালে চাকুরী হওয়ার পর শেরপুর নকলা উপজেলায় যোগদান করলেও ০৩ মাসের মাথায় বদলী নিয়ে ঘাটাইল উপজেলায় চলে আসেন বলে তিনি জানান। তার বিরুদ্ধে পোন মাছ অবমুক্তি, টেন্ডার কেলেঙ্কারী, এফ.সি.ডি. প্রকল্পে পুকুর খনন বরাদ্দের টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়াও তিনি প্রকৃত মৎস্যজীবী বিহীন মধ্যস্বত্ব ভোগীদের নিকট বিভিন্ন জলমহাল বরাদ্দ, মাছের পোনা উন্মুক্তকরণ এবং জলমহাল সংস্কার বা খনন বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ায় তার মূল কাজ। এমন অভিযোগ জেলে সমিতি সহ আরো অনেকের।
জানা যায়, তার নামে একাধিকবার বদলীর আদেশ থাকলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সুবিধা দিয়ে টানা ২৫ বছর যাবত ঘাটাইলে চাকুরী করে আসছে। এসব বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, ২য় শ্রেণির কর্মচারীদের ০৩ বছর পর পর বদলী করার আইন আছে। তবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়মাফিক বদলী করার আইন এখনো হয় নাই।
তবে কারো বেলায় একজায়গায় বেশিদিন থাকা ঠিক না। কেউ অনিয়ম করলে অথবা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও অবশ্যই তাকে বদলী করা হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, একই ষ্টেশনে দীর্ঘদিন চাকুরী করার আইন নাই।
ঘাটাইলে কে কে আছে আমার জানা নাই। তবে আমার অফিসে এমন কেউ নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ