বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এগ্রিকালচারিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত কৃষিবিদ জাবেদ ইকবাল স্মরণে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের বিদায় সমাগত। বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। সেদিন আমাদের খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেব বলেছেন, ইডেনে শেখ হাসিনা ঘন্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করেছেন ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজছে আর কী। ঘণ্টার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে চারদিকে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এগ্রিকালচারিস্ট'স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনের সাবেক মহাসচিব জাবেদ ইকবালের স্মরণে’ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতাই সরকারের পতন ডেকে আনছে। “সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত হোন। এই যে কৃষি সম্পর্কে কথা বলেন, প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেসব কথা বলেন, এসব বন্ধ করেন। আজকে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, লবণের দাম বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।” কৃষি পণ্যের দাম বাড়লে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের তা না পাওয়ার কথা তুলে ধরেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “আমি গত পরশু এসছি ঠাকুরগাঁও থেকে। এখন ধানের মন সাড়ে পাঁচশ টাকা। যেটা তার(কৃষক) সাড়ে ছয়শ/সাড়ে সাতশ টাকা খরচ লাগে, তা পাচ্ছে না। কী যে কষ্টের মধ্যে কৃষকরা চলছে, যা আনবিলিভেবল।” এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। “এই যে দানবের মতো একটা সরকার সব তছনছ করে দিচ্ছে আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে, এই সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করতে হবে।”
বিএনপি নিজেরাই ভেঙে যাবে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বিএনপির জন্মের পর থেকে ভাঙতে বহুবার চেষ্টা করেছে অনেকেই। এরশাদ সাহেবও চেষ্টা করেছেন বিএনপিকে ভাঙতে, সফল হননি। অনেকে চেষ্টা করেছেন। এরা(আওয়ামী লীগ সরকার) তো ১০ বছর ধরে চেষ্টা করেছেন বিএনপিকে ভেঙে ফেলার। এখন পর্যন্ত একটা লোককেও সরাতে পারেনি। পেরেছে? পারবে না।”
কৃষির উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান, খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাবনাগুলো তুলে ধরেন কৃষক দলের সাবেক সভাপতি ফখরুল। কৃষিবিদ জাবেদ  ইকবালের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। গত ১০ নভেম্বর মারা যান তিনি।
জাবেদ ইকবালের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “ সে একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিল। অবিশ্বাস্য রকমের সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল তার। সে আইডল ছিল। কিভাবে লড়াই করতে হয়, কিভাবে কাজ আদায় করতে হয় সবকিছু করেছে অবলীলায়। আমরা বড় একজন কৃতি মানুষকে হারিয়েছি। জাবেদ ইকবালের উপর স্মারক গ্রস্থ প্রকাশ ও পদক প্রবর্তনের পরামর্শ দেন আলমগীর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হলি আর্টিজেনের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা আশা করছি, এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ভবিষ্যতে না ঘটে সেজন্য আমরা সচেতন থাকব। জঙ্গিবাদের উত্থানের পেছনে ভিন্ন একটি কারণও দেখান বিএনপি মহাসচিব। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। এসব ঘটনা ঘটার তখনই সুযোগ সৃষ্টি হয়, যখন মানুষ কথা বলতে পারে না, যখন মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হারায়, যখন মানুষ তার যে ব্যথা-বেদনা-ক্ষোভ-আক্ষেপ প্রকাশ করতে না পারে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ সরকার ১০/১২ ধরে এখানে এই অবস্থা তৈরি করেছে। এরা রাষ্ট্রটাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, সেটাকে এখন আমরা কোনো মতেই সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে পারি না। এটাকে পুরোপুরিভাবে অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার সকল চক্রান্ত প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
 নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন ডিএনএ (ডি-অক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) টেস্ট হয় চাকরি করার জন্য। কি টেস্ট? বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী কোনও গন্ধ আছে কিনা। এ ঘটনাগুলো সবাই জানেন। এজন্য সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনা ছিল গণতন্ত্র।’
বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সব চক্রান্ত সম্পূর্ণ হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের ঘণ্টা বেজেছে। সেদিন আমাদের দলের নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ইডেনে তিনি (শেখ হাসিনা) ঘন্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করেছেন ক্রিকেট খেলা। তাদেরও (সরকার) ঘণ্টা বাজছে আর কি। ঘণ্টার ধ্বনি শোনা যাচ্ছে চারদিকে। নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সরকারের পতন ডেকে আনছে।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকুন। কৃষির প্রবৃদ্ধি নিয়ে যেসব কথা বলেছেন, তা বন্ধ করুন। আজকে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, লবণের দাম বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’
আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিএনপির যুগ্ম- মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখন জনগণের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। তাদের সময় শেষ, এবার ক্ষমতা ছাড়তে হবে আওয়ামী লীগকে।’ তিনি বলেন, ‘মাদক যেমন মানুষের জন্য, পরিবারের জন্য ক্ষতিকর তেমনই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’ আওয়ামী লীগ যতদিন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে ততদিন পর্যন্ত মানুষ প্রাপ্য অধিকার পাবে না বলেও মন্তব্য করেন আলাল।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ জোর করে এই ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে যেভাবে মানুষের শত্রুতে পরিণত হয়েছে তাতে এই সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘যে সরকার জোর করে, যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকে সে সরকার কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। আর যে দল জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে নিজের সম্পদের পাহাড় গড়ে সেই দল কখনও ক্ষমা পাবে না। আজকে আওয়ামী লীগ সেই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদ রাষ্টপতির। সেই রাষ্ট্রপতিকে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে আফসোস করে বলতে হয়- ‘নির্মাণকাজে রডের বদলে বাঁশ এবং সিমেন্টের বদলে বালি দেবেন না’। তাহলে ভাবেন, এই বাংলাদেশে আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই  সরকার গত মার্চে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। আবার তারা বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে শুনানি হয়েছে সেই শুনানিতে গিয়ে একটা বিষয় সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, সেটা হলো- যে দিনাজপুরের হাজার হাজার টন কয়লা খেয়ে ফেলেছে সেই দুর্নীতিবাজ আজিজ খানকে শুনানির বিচারকের আসনে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহবায়ক রাশীদুল হাসান হারুন, সদস্য সচিব জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুল হাই শিকদার, জাবেদ ইকবালের বোন ও মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, কৃষিবিদ ইব্ররাহিম খলিল, অধ্যাপক আবদুল হান্নান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম,  শামীমুর রহমান শামীম, কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ