মঙ্গলবার ২৯ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

পেঁয়াজবীজ চুরি

ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জমিতে রোপণ করা পেঁয়াজবীজ চুরির হিড়িক পড়েছে। বীজ জমিতে রোপণ করবার পর সেগুলো কৃষককে রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা যদি পেঁয়াজের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার সীমার মধ্যে না আসে তবে পেঁয়াজ ঘরে তোলা পর্যন্ত তাঁদের ক্ষেত পাহারা দিয়ে রাখতে হবে। উপজেলা কৃষি অফিস ও বিভিন্ন গ্রামের পেঁয়াজচাষিদের সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ৪ হাজার ৩শ ৪৩ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজবীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষক পেঁয়াজের জন্য জমি প্রস্তুত ও কোথাও কোথাও বীজ রোপণ শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, গাছ পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়েছে উপজেলার কাচারীকোয়ালিপাড়া, ভবানীগঞ্জ পৌরসভা, বড়বিহানালি, মাড়িয়া, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি ও যোগিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। এসব গ্রামের কৃষকরা তাহেরপুর ভবানীগঞ্জসহ বিভিন্ন হাট থেকে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বীজ কিনে তা জমিতে রোপণ করা শুরু করেছেন। মোহনপুর গ্রামের কৃষক দুলাল ও মাড়িয়ার লুৎফর জানান, তাঁরা দুই আড়াই শতক জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করেছিলেন। অথচ রোপণের পর সেগুলো জমিতে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতের অন্ধকারে সেগুলো জমি থেকে তুলে নিয়ে গেছে চোরে। এ পেঁয়াজবীজ তাঁরা ২শ ২০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলেন। একইভাবে পেঁয়াজবীজ চুরির কথা জানান হামিরকুৎসার কৃষক মঞ্জুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবছর তিনি পেঁয়াজবীজের আবাদ করে থাকেন। এবারও চার শতক জমিতে রোপণ করেছিলেন। রোপণের একদিন পর জমিতে গিয়ে দেখেন প্রায় অর্ধেক জমির রোপণ করা পেঁয়াজ কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে। এরপর তিনি জমিতে চুক্তিভিত্তিক পাহারাদার নিয়োগ করেছেন। তিনি আরও জানান, জমিতে চারাগুলো না গজানো পর্যন্ত সেগুলো পাহারা দিয়ে রাখতে হবে। এ ছাড়া আবার সেগুলো চুরি হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন তিনি। একই গ্রামের পেঁয়াজ চাষিরা জানান, চুরি যাওয়া পেঁয়াজবীজ বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার অনেকে সেগুলো রান্নার কাজেও ব্যবহার করছেন।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, পেঁয়াজবীজ চুরির খবর তিনি চাষিদের কাছে থেকে শুনেছেন। এটা প্রশাসনের দেখভালের বিষয়। কৃষি অফিস থেকে পেঁয়াজচাষিদের সতর্ক থাকবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ক্ষেত থেকে পেঁয়াজবীজ চুরি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কৃষকের যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি এর প্রভাব পেঁয়াজের মোট উৎপাদনেও পড়তে পারে। এমনিতেই দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। তাইতো আমাদের পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। প্রতিবেশী বন্ধুদেশটি এ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি হঠাৎ করে বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে পেঁয়াজ। ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ বাজারে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। সম্প্রতি কার্গো বিমানে করে বিদেশ থেকে আমদানি করেও পেঁয়াজের ক্রাইসিস সামাল দেয়া যাচ্ছে না। সরকারকে এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই ক্ষেত থেকে পেঁয়াজবীজ যাতে চুরি না যায় সেবিষয়ে চাষিদের যেমন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ