বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

আইনের সংকীর্ণতা ও অঙ্গ দানের অভাবে হচ্ছে না কিডনি প্রতিস্থাপন

স্টাফ রিপোর্টার : বিকল কিডনি চিকিৎসায় ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন সহজতর, কম খরচের একটি উত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশে আইনের সংকীর্ণতা এবং তার ফলে সৃষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের অভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিডনি সংযোজন বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এটিএম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে দুইদিন দিনব্যাপী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আন্তর্জাতিক নেফ্রোলজি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের প্রধান নেফ্রোলজিস্ট অধ্যাপক ব্রি. জে. (অব:) মামুন মোস্তাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনসের সভাপতি ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী  এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজির (আইএসএন) সভাপতি অধ্যাপক ডা. বিবেকানন্দ ঝাঁ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে ডায়ালাইসিস নেয়া বিকল কিডনি রোগীদের তালিকা তৈরি করতে হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব রোগীদেরকে কিডনি প্রতিস্থাপনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রতঙ্গ প্রতিস্থাপনে আন্তর্জাতিক আইনের অনুসারে বাংলাদেশের আইন সংশোধনের পরামর্শ দেন তিনি। 
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, অতীতে ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা অনেক জটিল কষ্টকর ছিল। কিন্তু গত কয়েক শতকে প্রযুক্তির ধারাবাহিক উন্নয়নের ধারায় ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা অনেকটা সহজতর হয়েছে। কিন্তু তারপরও এটি অনেক ব্যয়বহুল। অন্যদিকে সাশ্রয়ী হলেও নানা জটিলতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিডনি সংযোজন হচ্ছে না।    
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে চিকিৎসা সেবায় অসামান্য অবদানের জন্য গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল হাফিজ, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুল
আমিন,  চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এবং কিডনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলমকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বর্ণপদক দেয়া হয়।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় দুইশ’র বেশি কিডনি বিশেষজ্ঞ, নার্স, বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশলী অংশ নেন। এতে কিডনি রোগের আধুনিক চিকিৎসা, হেমোডায়ালাইসিস, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করা হয় এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেঙ্গু আতঙ্ক এখনও কাটেনি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়া নার্গিস এবং গোপালগঞ্জ থেকে আসা মোহাম্মদ আলম মোল্লা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে গত সোমবার। এর আগে খুলনায় ২৬ জন মিলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ জনে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুর প্রভাব শেষ হয়ে যাওয়ার কথা আরও অন্তত দেড় মাস আগে। অথচ এখনও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছে, এডিস এলবোপিকটাস নামে এক ধরনের এডিস মশা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তাই গ্রামাঞ্চল থেকে এখনও পুরোপুরি ডেঙ্গু রোগী নিঃশেষ হয়ে যায়নি। সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আক্রান্ত নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা একটু কমে আসলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খুলনা জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল ৮ জন। এরা সবাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে এবার মওসুমের পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে। পাশাপাশি এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্লেষকদের হিসাব মতে খুলনায় সেপ্টেম্বরের পর ডেঙ্গুর মওসুম না থাকলেও চলতি মাসেই মারা গেছে চারজন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশা দুই ধরনের। শহরে যে ধরনের মশা থাকে তাদের এডিস এজিপটি বলে। এসব মশা সাধারণত বৃষ্টির পানি ও জমে থাকা পানিতে বংশ বিস্তার করে। সেই সব মশা এখন নেই তেমন একটা। তবে অন্য এক প্রকার এডিস মশা এলবোপিকটাস যা গ্রামে বংশ বিস্তার করে। এ সকল মশা ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, যশোর ও এর আশ-পাশের এলাকায় ডেঙ্গুর সম্ভাবনা বেশি। ফলে এবার শীতে এমনকি সারা বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত যত ধারণা সব এবার পাল্টে গেল। প্রতি বছর এ সময় শীতের আমেজ থাকলেও এবার নবেম্বরেও বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি যেখানে জমে থাকবে সেখানেও এডিস মশা ডিম পাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোন কিছুর সংকট নেই। এখন থেকে বছর জুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ