বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

সরকারি হিসেবেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়ালো

স্টাফ রিপোর্টার : এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৯৯ হাজার ৩০৬ জন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আয়শা আক্তার বলেন, ঢাকা শহরের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১২টি হাসপাতাল, বেসরকারি ২৯টি হাসপাতাল ও ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু রোগীদের এই হিসাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত নজরদারি করে শুধু এমন হাসপাতালগুলোর তথ্য এখানে আছে।
এ বছর জুনের শেষ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঢাকা শহরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। জুলাই ও আগস্ট মাসে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ প্রবলভাবে বাড়ে। ঈদুল আজহার কাছাকাছি সময়ে দেশের প্রায় সব জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম আলোর হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রায় ৩০০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ বছরের শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
কন্ট্রোল রুম জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন ঢাকায় ভর্তি নিয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৫১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর রোগী ২৫১ জন।
এদিকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ২৬৪টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর প্রতিবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে তারা ২০৩টি ঘটনা পর্যালোচনা করে ১২৯ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে।
এ পর্যন্ত ২০৩টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ডেঙ্গুতে ১২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং পরে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ