বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

খুলনা-যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলে ২৭০ কোটি টাকার পাটপণ্য মজুদ

খুলনা অফিস : খুলনা-যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে বর্তমানে ৩০ হাজার ৪৬২ মেট্রিক টন পাটপণ্য মজুদ রয়েছে। যার বাজার মূল্য ২৭০ কোটি টাকা। সুদানে রফতানি বন্ধ থাকার কারণে এ পাটপণ্যের মজুদ কমছে না। স্থানীয় বাজারগুলোতে পাট পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদিত পাটপণ্যের মজুদ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি কার্যকরী মূলধন না থাকার কারণে পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের কোনো মজুদ নেই। এর ফলে পাটকলগুলোতে বাজেট উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। মিলগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতার ২০ ভাগ উৎপাদন করা হচ্ছে। বিজেএমসির অদক্ষতায় মিলগুলোতে মূলধনের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মিলগুলোতে অসামঞ্জস্যতা বিরাজ করছে। উৎপাদনের সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিএজএমসি) খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো. বনিজ উদ্দিন মিয়া বলেন, বর্তমানে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুট মিলে ৮ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন, প্লাটিনাম জুট মিলে ৬ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন, খালিশপুর জুট মিলে ৬ হাজার ৫৯৪ মেট্রিক টন ও দৌলতপুর জুট মিলে ৯৭৮ মেট্রিক টন, দিঘলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্টার জুট মিলে ১ হাজার ১১৬ মেট্রিক টন, আটরা শিল্পাঞ্চলের আলিম জুট মিলে ১ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন ও ইস্টার্ণ জুট মিলে ২ হাজার ৫৭ মেট্রিক টন, যশোরের নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিতে (জেজেআই) ৩ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন ও কার্পেটিং জুট মিলে ৬শ’ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে।
ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ’র সাবেক সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, বকেয়াসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে শ্রমিকরা। ৩ ডিসেম্বরের ধর্মঘটের সমর্থনে ২ ডিসেম্বর বিক্ষোভ মিছিল, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে ২৪ ঘন্টার ধর্মঘট শুরু হবে। যা ৪ ডিসেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত মিলে এ ধর্মঘট চলবে। ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় স্ব-স্ব মিলে গেটে সভা, ১০ ডিসেম্বরের আমরণ অনশনের সমর্থনে ৮ ডিসেম্বর সকল মিলে একযোগে গেট সভা এবং আমরণ অনশন সফলের শপথগ্রহণ, ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে স্ব-স্ব মিল গেটে আমরণ গণঅনশন শুরু হবে।
খালিশপুর জুট মিলের সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, পাটকল শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ নিত্যদিনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্লাটিনাম জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলে পাট ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ নেই, শ্রমিকদের ১০/১১ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, পিএফ বাবদ বাকী ৮৭ কোটি টাকা, গ্রাচ্যুইটি বাবদ বাকী ২৩০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়া পাটের দেনা ১৮৬ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
ডেঙ্গু আতঙ্ক এখনও কাটেনি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়া নার্গিস এবং গোপালগঞ্জ থেকে আসা মোহাম্মদ আলম মোল্লা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে গত সোমবার। এর আগে খুলনায় ২৬ জন মিলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২৮ জনে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গুর প্রভাব শেষ হয়ে যাওয়ার কথা আরও অন্তত দেড় মাস আগে। অথচ এখনও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছে, এডিস এলবোপিকটাস নামে এক ধরনের এডিস মশা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তাই গ্রামাঞ্চল থেকে এখনও পুরোপুরি ডেঙ্গু রোগী নিঃশেষ হয়ে যায়নি। সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আক্রান্ত নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা একটু কমে আসলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খুলনা জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল ৮ জন। এরা সবাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে এবার মওসুমের পরও ডেঙ্গুর প্রকোপ রয়েছে। পাশাপাশি এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্লেষকদের হিসাব মতে খুলনায় সেপ্টেম্বরের পর ডেঙ্গুর মওসুম না থাকলেও চলতি মাসেই মারা গেছে চারজন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশা দুই ধরনের। শহরে যে ধরনের মশা থাকে তাদের এডিস এজিপটি বলে। এসব মশা সাধারণত বৃষ্টির পানি ও জমে থাকা পানিতে বংশ বিস্তার করে। সেই সব মশা এখন নেই তেমন একটা। তবে অন্য এক প্রকার এডিস মশা এলবোপিকটাস যা গ্রামে বংশ বিস্তার করে। এ সকল মশা ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, যশোর ও এর আশ-পাশের এলাকায় ডেঙ্গুর সম্ভাবনা বেশি। ফলে এবার শীতে এমনকি সারা বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত যত ধারণা সব এবার পাল্টে গেল। প্রতি বছর এ সময় শীতের আমেজ থাকলেও এবার নবেম্বরেও বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি যেখানে জমে থাকবে সেখানেও এডিস মশা ডিম পাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোন কিছুর সংকট নেই। এখন থেকে বছর জুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ