বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

বাগমারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েই চলেছে 

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বেড়েই চলেছে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কাচাঁ বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে আরেক দফা। ৫০ টাকা কেজির নীচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের প্রথম ভারি বৃষ্টি হওয়ার শুরু থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দাম হুট করে বাড়তে শুরু করে। এছাড়া অন্যান্য  জিনিস পত্র মধ্যবিত্তদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে বেশী দাম হওয়ায়। সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে বাজারে অতিরিক্ত দামে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে গিয়ে। তবে সবজিচাষিদের দাবি সবজির উৎপাদন কম হবার কারণে দাম  বেশীতে বিক্রি চলছে। এতে কম উৎপাদন হলেও দামে তারা বেজায় খুশি। এদিকে  ভোজ্য তৈল, আটা, জিরা, আদার দামে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবৃত্ত পরিবার।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, রাজশাহী অঞ্চল আম ও সবজিরচাষে বিখ্যাত। আমের পর উপজেলার তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, বালানগর,  গোপালপুর, সগুনা ও বালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সবজির চাষ  বেশি হয়। অল্প পুঁজিতে বেশি মুনাফার সুযোগ থাকায় সবজি চাষে আগ্রহ বরাবরই বেশী থাকে। এবারে কৃষকদের দাবি সবজিচাষের আগে হঠাৎ বৃষ্টিতে এলাকার অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া জমিতে পানি বেধে থাকায় চাষ বিলম্বিত হয়। দীর্ঘ মেয়াদীতে চাষ বন্ধের কারণে সবজিচাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে যে সব জমির সবজি মরে গিয়েও টিকে থাকা ফসল কৃষকরা মওসুমে বেশী দামে বিক্রি করছে। গতকাল সোমবার উপজেলায় বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজ  বিক্রি হচ্ছে  ২৫০ টাকা কেজি। তবে খুব কম ক্রেতাকেই এক সাথে এক পোয়া পেঁয়াজ কিনতে দেখা যাচ্ছে না। ক্রেতারা ১০০ গ্রাম করে  কিনছেন। বাজারে নতুন আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা, আটা ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ১৬ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা কেজি, ভেন্ডি ৪০ টাকা কেজি,  স্টোরজাত আলু ২০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ৬০ কেজি, করলা ৮০ টাকা কেজি, কচু ৫০ টাকা আদা ১৮০ টাকা কেজি, রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এমনকি মূলার দামও বেড়েছে দ্বিগুন হারে। ১৫ টাকা কেজি দরের মূলা এখন ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে ধানের দাম কম অথচ চালের উর্দ্ধগতিতে কৃষকরা বাজার ব্যবস্থাকে দোষছেন। এলাকায় খাটো দশ দেশী ধানের দাম প্রতিমন ৬৫০ টাকা ২৮ জাতের দাম ৮০০ টাকা। ধানের দাম হিসেবে চালের দাম নেই। তবে চাষিদের দাবি পাইকারী বাজারে যে দামে মালামাল বিক্রিয় হচ্ছে, তার চেয়ে খুচরা বাজারে ক্রেতাদের থেকে বেশী দাম হাকানো হচ্ছে। এতে দেখভালের প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ