শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ছড়া

অগ্রহায়ণে

তৌহিদুর রহমান

 

ভোর বিহানে সকাল সাঁঝে

শিশির ভরা ঘাসের মাঝে 

ঊষা রোদের সোনা রঙে

সোনা ঝরে সবুজ বনে।

 

শরৎকালের এমন সোনা

কার হুকুমে হয় যে বোনা

বলতে সেসব নেই যে মানা

এসব কথা সবার জানা।

 

শিশির পড়ে আপন মনে 

হলদে বরণ সোনার ধানে

আল্লাহ তালার মহাদানে

সোনা ঝরে অগ্রহায়ণে।

 

নবান্নের ইশারা

এ কে আজাদ

 

দুহাত দিয়ে শিশির ভেজা

প্রভাতটারে ছানি,

স্বপ্ন রাঙা সূর্যটারে 

কে দিলো রে আনি!

 

দুচোখ খুলে যেই গিয়েছি

বিশাল মাঠের দিক,

হেমন্ত মাঠ সোনা রোদে

করে রে চিক চিক।

 

আঁকাবাঁকা আলের পথে

গ্রাম্য কবি হাঁটে,

রাখাল ছেলের কণ্ঠেতে গান,

ধানের ছড়া গাঁটে।

 

খেকশিয়ালে বলল ডেকে-

শোনো গাঁয়ের ছেলে,

এতদিনের পরে তুমি

এই গাঁয়েতে এলে!

 

আলতো করে শিশির বিন্দু

পড়ছে দেখো চুয়ে,

মাঠের বুকে সোনার শিষে

আছে মাথা নুয়ে।

 

দুহাত বাড়াও,  নাও তুলে নাও

সোনার আমন ধান,

এই ধানেতেই লুকিয়ে আছে

তোমার সকল গান।

 

কণ্ঠে তুলে গাইতে নিলাম

পুলকিত সুর,

হেমন্ত মাঠ হাওয়ায় নাচে

পায়েতে নূপুর।

 

মাঠের পাশে শাপলা দিঘি

শান্ত জলের ঢেউ,

শাপলাগুলো যতœ করে

সাজিয়ে গেছেন কেউ।

 

কালচে পানি সোনা রোদে

হাওয়াতে ঝিলমিল,

দিঘির পারে পদ্য আমার 

হাসে যে খিলখিল।

 

বলল দিঘি - বসো বাপু

আমার কোলে এসে,

ধানের মেয়ে দুলিয়ে মাথা

উঠছে দেখো হেসে।

 

হেমন্ত মাঠ হাসতে থাকে

দিঘির জলও হাসে,

বাংলা মেয়ের শ্যামলা চোখে

ধানের গোলা ভাসে।

 

সোনালি রং হেমন্ত সুর,

জাগে গেরাম পাড়া,

দুলিয়ে মাথা ধান গাছে দেয়

নবান্নের ইশারা।

 

হেমন্ত

শাহীন খান

 

হেমন্ত এলো বলে

পাখি ধরে সুর

ভালো লাগে কি যে আহা

সকাল, দুপুর।

 

ক্ষেত ভরা ধান পাকে

চাষি  ধরে গান

খুশি খুশি মহাখুশি

কৃষাণির প্রাণ।

 

রাতে জাগে চাঁদ তারা

শিশির ঝরে

নবান্নের সাড়া পড়ে

সকল ঘরে।

 

রাখাল বাজায় বাঁশি

উবে যায় দুখ

মৌমৌ করে দেশ

ভেসে আসে সুখ!

 

হঠাৎ করে 

আব্দুল্লাহ-আল-মামুর

 

হঠাৎ করেই দেখবে পাহাড়

উড়বে তুলোর মতো

পড়বে ধসে একে একে 

স্থাপনা যতো! 

 

আকাশ হবে রক্ত বর্ণ

পড়বে ভেঙে চুরে

জমিন নিচের ধন সম্পদ

উপরে দেবে ছুঁড়ে।

 

নক্ষত্র সব নিভে গিয়ে

পড়বে ঝরে ঝরে

আকাশ গলে পড়বে ধরায়

সব সমতল করে।

 

সূর্য হবে নির্বাপিত 

চন্দ্র আলোহারা 

আল্লাহ তায়লা বলবে কোথায়

অহংকারী যারা! 

 

এমন কঠিন দিনের কথা

কেমন করে ভুলি?

চলুন মানি আল্লাহ তায়লার

নির্দেশনাগুলি।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ