মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ঘুরে দাঁড়াবে কি দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল?

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বিশ্ব ফুটবলের যুদ্ধ নতুন কিছু নয়। যদিও মনের মাঝে বিরাজ করে নানা ভয়। অবশ্যই তা দুনিয়ার কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর মাঝে। টেনশনের বৃত্তে ফোটা ফোটা ঘামে চেহারার চারপাশে সেটা স্বচ্ছ পানির ন্যায় ফুটে উঠেছে। যা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? এমন দৃশ্য বার বার দেখা যায় বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ফুটবল! গোলাকার আকারের এই  বস্তুটি কি করে? কোনো কারণে ভয় কি থাকে? না, তা নয়। এ পরিস্থিতিতে কাউকে পাত্তা না দিয়ে আপন গতিতে আবির্ভাব হয়ে ফুটে। মাঠের চারপাশে গড়াগড়ি খেয়ে চলে। আবার উড়ন্ত পরশ নিয়ে শূন্যে ভাসে। যা সবার জানা রয়েছে। পাপড়ি ঘেরা চোখের পাতায় স্মৃতির মায়া বন্ধনে আটকে থাকার স্পর্শে। সেটা দেখা গেছে বছরের পর বছর ধরে। তা কি কলমের কালিতে তুলে ধরার প্রয়োজন আছে? আপনাদের অভিমত কি এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে? ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষজনের প্রাণের স্পন্দন বলে! যা সব সময় হৃদয়ের আয়নায় কমন আকারে ভেসে উঠে। সেটা খেলাটির অফুরন্ত ভালোবাসার জোয়ার আকড়ে ধরে। তা বুকের উঠা-নামা কাঁপনকে ঘিরে রেখে। পাপড়ি ছোঁয়া দু’টি চোখ এদিক-সেদিক করে। আপনারা বলবেন কি তাতে? এটাই হলো বিশ্ব ফুটবলের মহা উত্তেজনা। যার মাঝে এখন পর্যন্ত বেঁচে রয়েছে শক্ত পিলারের গড়ে উঠা স্থায়ী ভরসা। স্টার স্পোর্টস, ইএসপিএন, সনি, টেন, দূরদর্শন, বিটিভি, পিটিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে গোল বল খেলার দৃশ্য বার বার তুলে ধরার বিষয়টি বলে এমন কথা। যা অক্ষরে অক্ষরে বাক্য তৈরি করার স্পর্শে প্রতিবেদন ছাপিয়ে সোনালী ইতিহাস বানিয়ে রাখে প্রিন্ট মিডিয়া। এর ফলে নরম হৃদয়ে সুখের পরশ জাগে পাতা উল্টাতে উল্টাতে। অবশ্য সেটা প্রিয় দলের সাফল্য পাবার রেকর্ডকে ঘিরে রেখে। খুবই মজা লাগার বিষয় তা। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অপ্রিয় হলেও সত্য কথা। সাফল্যের আকর্ষণীয় উত্তেজনার স্পর্শে, এর বার বার প্রাপ্তির যোগফলে এমন বিষয়ে আপনাদের কেমন ভাবনা? জানা যাবে কি তা? কি বলেন আপনারা? ব্যর্থতা ব্যর্থতা! যা কেউ গ্রহণ করতে চায় না!! সেটাই বিশ্ব খেলার ভুবনে ঘুরে ফিরে লাগিয়ে দেয় খটকা!!! তা কি সত্যি অবাক করা কথা? কি বলেন? আসলে সেটাই। যা অপ্রিয় সত্য কথা। কেউ ব্যর্থতার স্বাদ পেতে চায় না। এই অবস্থায় বিশ্ব ফুটবলের মহাযুদ্ধ আয়োজনের বয়সটা শত বছর পেরিয়ে যাবার অপেক্ষায় রয়েছে। নানা ইতিহাসের জন্ম দিয়ে। তর্ক-বিতর্কের উত্তেজনার রং ছড়িয়ে। যার মাঝে বার বার আলোচনা-সমালোচনার বিশাল ঝড় উঠে। উহ! কী যে কমন বিষয়!! প্রাপ্তির নন্দনীয় এবং অপ্রাপ্তির নিন্দনীয় পাত্র সেটা। ঘুরে ফিরে একের পর এক ইতিহাস সৃষ্টি করে তা। অক্ষরে অক্ষরে সত্য কথা যা। সবার জানা আছে সেটা। এ ফর্মূলায় বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পালা শুরু করে ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন (ফিফা)। তা ছিলো দারুণ উদ্যোগ। যা বলাবাহুল্য। সেটা সকলেরই বোধগম্য। বিশ্বকাপ সবুজ ঘাসের ময়দানে উষ্ণ ছোঁয়া পাবার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। অবশেষে বছর নির্ধারন হয়। তা সারা দুনিয়ায় উত্তেজনাকর রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। যা কোটি কোটি খেলা পাগল ভক্তের ঠোঁটের স্পর্শে ঘরে ঘরে আলোচনার পাত্র হয়ে উঠে। সেটা তুল তুলে নরম হৃদয়ে ভালোবাসা জাগ্রত করে। এমন সুন্দর পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ১৯৩০ সালে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের গোল বলের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যতম শক্তিশালী দেশ উরুগুয়ে। তা ইতিহাসের পাতায় সোনালি অক্ষরের বন্ধনে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে কি? এমন সুন্দর মহা পরিকল্পনায় বিশ্বকাপ ফুটবলের পদার্পণ ঘটে। এই ধারায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিশাল আমেজ সৃষ্টি করে। ল্যাটিন আমেরিকার শক্তির বিপক্ষে ইউরোপের বাধা। খুবই মজা পাইয়ে দেয় সেটা। সেয়ানে সেয়ানে তুমুল লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত দুঃখ পাইয়ে দেয় তা। না বললেও হয় যা। বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার সূচনার সোনালি ইতিহাসে অবাক করা সত্য কথা সেটা। ইউরোপ অঞ্চলের ইটালী, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, চেকোশ্লোভাকিয়া, এই ক্রীড়ার জনক ইংল্যান্ড স্পেনসহ অনেক পাওয়ার টিম ব্যর্থ। অনেকটা অসহায়ের মতো। ম্যাচগুলোর রেজাল্ট তা বলে। বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করতে পারেনি তারা। এটা তাদের বোকার স্বর্গে বসবাসের হাস্যরসের ঘটনার মতো। শিরোপা পায়নি প্রথমবার।
যা বিশ্বকে হতবাগ করে ছাড়ে। এর বিপরীত চিত্রের সমীকরণে শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিক দল উরুগুয়ে। তখন ল্যাটিন আমেরিকার মহা দাপট ভেসে উঠে। সেটা দেখা যায় মসৃন সবুজ ঘাসের ময়দানে। এক বাক্যে তা ছিলো এ অঞ্চলের জন্য খুবই ঈর্ষণীয়। যা কি নতুন প্রজন্মের কোটি কোটি ক্রীড়া প্রেমীর বোধগম্য? বলেন কি? এমন অবস্থায় বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় দল ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের আর্জেন্টিনা সেবারের (১৯৩০) টুর্নামেন্টে প্রথম রানার্স আপ হয় এবং সোনালী ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায়। অবশ্য এর পাল্টা জবাব দেয় ইটালী। দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলে তারা। সেটা ছিলো বিশ্ব আঙ্গিনার দাপট দেখাবার মাঠে তাদের তথা ইউরোপ মহাদেশের প্রথম সাফল্য (১৯৩৪)। আর এইভাবে ফুটবলের সেরা আসরের প্রতিযোগিতা নিয়ে তোলপাড় ঘটনার সৃষ্টি হয় সবার মাঝে। এরপর পিছনে ফিরে তাকায়নি এই দুই মহাদেশের টিমগুলো। সমান তালে লড়াই করে যায়। একবার ল্যাটিন আমেরিকা আরেকবার ইউরোপের জয়। এভাবে চলতে থাকে বছরের পর বছর তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যা উপভোগ করে বিশ্ব। এই ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ পাত্তা পায়নি এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের দলগুলো। এমন অবস্থায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠাটাই ছিলো যাদের কাছে মহাসাফল্য। এর বাইরে কিছু ঘটা যেন বিশাল চমক! সেটা কী মনে করতেন তারা!! সত্যি, অবাক কান্ড তা!!! যাক সে কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশের ফুটবল লড়াইটা পানসে হয়ে গেছে। শিরোপা জয়ের ব্যবধান বেড়ে গিয়ে সংখ্যায় ৩ এ দাঁড়িয়েছে। যা ইউরোপের পক্ষে চলে গেছে। অথচ ২০০২ সালে ল্যাটিন আমেরিকা ৯ বার শিরোপা জিতে লিডের স্থান ধরে রেখে ছিলো। সেটা গর্ব করার মতো। কিন্তু ২০০৬ সালে পতন থেকে অধঃপতনের রাজ্যে জায়গা পায়। ইউরোপের ইটালি শিরোপা জিতে মহাদেশ ভিত্তিক ৯ বারের রেকর্ড স্পর্শ করে। এরপর তিন বিশ্বকাপের লড়াইয়ে পিছনে ফেলে দেয়। যার ফলে ইউরোপ মহাদেশের শিরোপা জয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ তে। এখন যারা ৩ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তবে দলগত সাফল্য বেশি ল্যাটিন আমেরিকার ব্রাজিলের। যাদের চ্যাম্পিয়ন হবার সংখ্যা ৫।
যেখানে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ২ বার করে শিরোপা পায়। এমন ক্ষেত্রে ইউরোপের টিমগুলো তেমন পিছিয়ে নেই। ইটালি এবং জার্মানি ৪ বার করে, ফ্রান্স ২ বার, ইংল্যান্ড ও স্পেন ১ বার করে বিশ্বকাপ ফুটবলের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। তা নিঃসন্দেহে আলোকিত ইতিহাস। যা ইউরোপের প্রেক্ষাপটে। সে কথা বলাবাহুল্য।
এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝে ঘুরে দাঁড়াবে কি দক্ষিণ (সাউথ) আমেরিকার ফুটবল? এর উত্তর ২০২২ বিশ্বকাপে ধাপে ধাপে ফুটে উঠবে। কোটি কোটি ক্রীড়া প্রেমীর  অভিমত কি এমন বিশ্লেষণমূলক বিষয়ে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ