শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

তারুণ্যের জয়গান চলছে মেয়েদের টেনিসে

অরণ্য আলভী তন্ময় : টেনিস দুনিয়ার মেয়েদেরকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সেখানে খেলার পাশাপাশি গ্ল্যামারটাও থাকে সমানভাবে। সেখানে এখন চলছে তারুণ্যের জয়গান। এই জয়গানেই এখন চলছে সেরেনা উইলিয়ামস, ভেনাস উইলিয়ামস, মারিয়া শারাপোভা, আনা ইভানোভিচের উত্তরসূরীদের। আরও একটি মৌসুমের সমাপ্তি হতে চলল। শেষ সময়ে এসে এখন মেলাতে হচ্ছে সাফল্য-ব্যর্থতার পরিসংখ্যান। তবে ২০১৯ সালে বিশ্বের প্রমীলা টেনিসে পতাকা উড়িয়েছেন তরুণ সব খেলোয়াড়রা। চার গ্র্যান্ডস্লামের তিনটিতেই তারুণ্যের জয়জয়কার। সেখানে একের পর এক নতুন নাম এসেছে। নতুন মৌসুমের ঝলমলে সূচনা করেছিলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে। তারপর এ্যাশলে বার্টি চ্যাম্পিয়ন হন ফ্রেঞ্চ ওপেনে। ব্যতিক্রম কেবল উইম্বলডনে। এই টুর্নামেন্টে বাজিমাত করেন রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপ। তবে বছরটা ঝলমলিয়ে শেষ করেন বিয়াঙ্কা আন্দ্র্রেস্কু। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন হয়ে। নতুন বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হন নাওমি ওসাকা। তার চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের শুরুটা ছিল গত বছর। ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে গোটা টেনিস দুনিয়াকেই চমকে দেন তিনি। তাও আবার টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসকে পরাজিত করে। এরপর নতুন মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও বাজিমাত করেন তিনি।
ফাইনালে পেত্রা কেভিতোভাকে পরাজিত করে টানা দুই গ্র্যান্ডস্লামের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন নাওমি ওসাকা। সেই সঙ্গে গড়েন নতুন ইতিহাস। জাপানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুটি মেজর শিরোপা জয়ের নজির গড়েন তিনি। পাশাপাশি এশিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও দখল করেন ওসাকা। তবে ইউএস ওপেন ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জয়ী ওসাকার পরের সময়টা কিন্তু মোটেও সুখকর ছিল না তার। মৌসুমের শেষ বড় টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসে অবশ্য জয় দিয়েই মিশন শুরু করেছিলেন নাওমি ওসাকা। কিন্তু চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন গত মাসেই ২২ বছরে পা রাখা তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। ওসাকার পর দেখা যায় ২৩ বছরের এ্যাশলে বার্টির চমক। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে থেকে নতুন মৌসুম শুরু করেছিলেন তিনি। তার পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে চলার। টেনিস কোর্টে এই বছরটা দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম প্রিমিয়ার ম্যানডেটরি শিরোপা, স্বপ্নের গ্র্যান্ডস্লাম ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়, বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল। সর্বশেষ ডব্লিউটিএ ফাইনালসেও বাজিমাত করেছেন অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের এই প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। দারুণভাবে রাঙিয়ে নিলেন মৌসুমের শেষটা।
দুর্দান্ত খেলেই বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা জিতলেন তিনি। সেইসঙ্গে ইতিহাসে জায়গা করে নেন বার্টি। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েন তিনি। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইভোন গোলাগং কাউলি। ১৯৭৪ সালে প্রথম এই আসরের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লিউটিএ ফাইনালসের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন গোলাগং কাউলি। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক আসরেই ডব্লিউটিএ ফাইনালসের চ্যাম্পিয়ন হলেন এই অষ্ট্রেলিয়ান তরুণী। এ বছরটা স্বপ্নের মতো কেটেছে এ্যাশলে বার্টির। এ মৌসুমেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান তিনি। ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিতে গড়েন নতুন ইতিহাস। এরপর ডব্লিউটিএ ফাইনালের শিরোপা জিতে মৌসুম শেষ করতে পেরে দারুণ খুশি বার্টি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাশা যতটা করিনি তার চেয়ে অবিশ্বাস্য একটা বছর কেটেছে আমার।’ অথচ, ২০১৪ সালে হঠাৎ করেই টেনিস থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এ্যাশলি বার্টি। ছোটবেলাই যে টেনিসে হয়েছিল তার হাতেখড়ি সেই টেনিস ছেড়েই নতুন করে ক্যারিয়ার গড়েন ক্রিকেটে। কিন্তু দুই বছর ক্রিকেট খেলে আবারও ফিরলেন টেনিসে। পরের সিদ্ধান্তটা যে মোটেও ভুল হয়নি তা আরও আগেই প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ফরাসী ওপেনে। ক্রিকেট ছেড়ে টেনিসে আসাটা জীবনের সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত ছিল তার। বার্টি বলেছিলেন, ‘মানুষ তো সব সময় নিজের সেরা সিদ্ধান্তÍটা নিতে পারেনা।
ওই সময় আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমার মনে হয় এটা সেরা সিদ্ধান্ত। এমনকি সামনে যেসব সিদ্ধান্ত নেব ঐগুলো থেকেও এটা সেরা সিদ্ধান্ত। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে এই সিদ্ধান্তÍ নিতে পারায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ নাওমি ওসাকা এবং এ্যাশলে বার্টির পর এ বছরে টেনিসপ্রেমীদের মন জয় করা খেলোয়াড়ের নাম বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কু। কানাডার ইতিহাসই বদলে দেন যিনি। অথচ, এক বছর আগে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২০০ জনের তালিকাতেও ছিল না তার নাম। পারফরম্যান্সও ছিল না তেমন ধার। যে কারণে সেই সময়ে ইউএস ওপেনের কোয়ালিফায়িং রাউন্ড থেকেই ছিটকে যান তিনি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ব টেনিসের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
কানাডার আকাশে ঝলমলিয়ে ওঠা এক দ্বীপ্তমান তারকা। নিজের দেশের হয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইউএস ওপেনের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন বিয়াঙ্কা আন্দ্রেস্কু। তাও আবার বিশ্ব টেনিসের মহা তারকা সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে জিতে। শুনে হয়তো আশ্চর্য হতে পারেন অনেকেই। ২০১৮ সালের শেষের দিকে র‌্যাঙ্কিংয়ের ২১০ নম্বরে থাকা এই আন্দ্রেস্কুই এখন পাদপ্রদীপের আলোয়। ইউএস ওপেনসহ ২০১৯ সালে তিনটি শিরোপার দেখা পেয়েছেন তিনি। শুরুটা করেছিলেন বিএনপি পরিবাস ওপেনে প্রথম ট্রফি জিতে।
এরপর রজার্স কাপ। সব মিলিয়ে তরুণদের পাশাপাশি তরুণীদেরও দারুণ কেটেছে ২০১৯ সালটি। বলা যায় ঐ নতুনের কেতন উড়িয়েছে যাচ্ছে চলতি বছরটি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ