বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

রংপুর কারমাইকেল কলেজে গাছের ডাল কাটার নামে অর্ধ শত বৃক্ষ নিধন

রংপুর অফিস : রংপুর কারমাইকেল কলেজে গাছের ডাল কাটার নামে অর্ধ শতাধিক বৃক্ষ নিধন করার অভিযোগ উঠেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃক্ষ নিধনের এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কেবল বিদ্যুৎ বিভাগের প্রয়োজনে কিছু গাছের ডাল কাটার অনুমতি  দেয়া হয়েছে বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ। 

অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল সংলগ্ন কাঁঠাল বাগান ও মধুবনের গাছ সহ কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশে প্রায় অর্ধ শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। কলেজের মূল ফটকের দুইপাশে গাছের ডাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধনযঞ্জ চালানোর চিত্র পাওয়া গেছে। অধিকাংশ গাছের ডাল কাটার সাথে মূল গাছের  বেশির ভাগ অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রায় গাছের গোড়া থেকেই কেটে নেয়া হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসের জিএল হোস্টেলের সামনে এসব গাছের কিছু কিছু অংশ কাটা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু গাছ ও কেটে ফেলা ডালপালা লালন নামে এক ছাত্রনেতা ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। এভাবে কলেজের বৃক্ষ নিধনে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সচেতন শিক্ষার্থীরা। কেবি আবাসিক হোস্টেলের দুই শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, কলেজ প্রশাসন ডালপালা কাটার নামে বৃক্ষ নিধনযঞ্জ চালিয়েছে। এটা যেন ডালপালা কাটার নামে বৃক্ষ নিধনের নতুন সিস্টেম তৈরী হয়েছে। একজন কলেজ ছাত্রী অভিযোগের সুরে বলেন, ডাল কাটার নামে কলেজের গাছগুলোর উপর নিধন যজ্ঞ করাা হয়েছে। বৃক্ষ রোপনে উৎসাহিত না করে ডাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধনের মহড়া চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। 

গাছ ক্রয়ের ব্যাপারটি অস্বীকার করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাব্বি হক লালন সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোন গাছ ক্রয় করিনি। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কলেজে কিছু গাছের ডাল কাটা হয়েছে। সেখানে থেকে আমি দুই হাজার টাকা অধ্যক্ষকে দিয়ে খড়ির জন্য দুই ভ্যান ডাল ক্রয় করেছিলাম। পরে অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশে বাকি ডালগুলো কলেজের গোডাউনে রেখেছি। স্যার আমাকে দুই হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। এব্যাপারে কারমাইকেল কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর শেখ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কলেজ প্রশাসন কোন গাছ কাটেনি। বিভিন্ন সময়ে কলেজ ক্যাম্পাসে তিন ব্যাক্তি বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের প্রয়োজনে আমাদের অনুমতি নিয়ে কিছু গাছের ডাল কেটেছে। সেই ডাল কলেজের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর কিছু জ্বালানী খড়ি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। এসব গাছ কাটা এবং বিক্রির জন্য কোন দরপত্র আহ্বান করা হয়নি বলে তিনি জানান। ব্যাপারে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো-৩) এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, গাছ কাটা আমাদের কাজ নয়। বাতাসে গাছের ডাল বৈদ্যুতিক তারে যেন না লাগে, সে জন্য প্রয়োজন অনুপাতে ডাল কাটার নিয়ম রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ