বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

রাসূল সা: এর সীরাত গ্রন্থ বেশি বিক্রি হচ্ছে

মুহাম্মদ নূরে আলম: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ চত্বরে চলছে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবার মেলায় রাসুল সা: এর সীরাত গ্রন্থ বেশি বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকাশনির স্টল থেকে ক্রেতাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সা: জীবনী গ্রন্থ আনন্দে কিনছে। বিভিন্ন প্রকাশনি সংস্থাও এবার প্রচুর সীরাত গ্রন্থ এনেছে।  সীরাত গ্রন্থ ‘বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ সা:’ ও আর রাহীকুল মাখতুম, সীরাতুন নবী সা: ইবনে হিশাম বিক্রির শীর্ষে।
সীরাতের মাস উপলক্ষে নবীজী সা. এর জীবনী চর্চায় সহায়ক গ্রন্থগুলো যাচ্ছে, মেলায় পাওয়া যাবে সীরাতের সব বইয়ের নাম এখানে দেওয়া হলো। সীরাতে খাতামুন্নাবীঈন, মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন, প্রকাশক: মদীনা পাবলিকেশান্স। সীরাতে খাতিমুল আম্বিয়া (সাঃ), হযরত মাও মুহা. মুফতি শফী, প্রকাশক: এমদাদিয়া পুস্তকালয়।  সীরাতে মুস্তফা, আল্লামা ইদ্রীস কান্দলভী রহ., প্রকাশক: মদীনা পাবলিকেশান্স। আর রাহীকুল মাখতূম, আল্লামা ছফিউর রহমান মোবারকপুরী-অনুবাদ: খাদিজা আখতার রেজয়ী, প্রকাশক: দারুস সালাম বাংলাদেশ প্রকাশনী। সীরাতে রসূলে পাক (সঃ), মাও মো. আখতার ফারুক, প্রকাশক: এমদাদিয়া লাইব্রেরী। শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (সা.), হযরত মাও: মুফতী শফী (র.), প্রকাশক: মাকতাবাতুল আখতার। মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ রসুলুল্লাহ সা:, নঈম সিদ্দিকী।  সীরাতে ইবনে হিশাম। সীরাত বিশ্বকোষ, প্রকাশক: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। নূর নবী, এয়াকুব আলী চৌধুরী, প্রকাশক: বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লিঃ। ৬০০ এরও অধিক প্রশ্নোত্তর সম্বলিত সহজ সীরাত, হযরত মাও: মুফতী শফী, বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স।  সীরাতুন্নবী (স), ড. মোঃ ইব্রাহীম খলিল, প্রকাশক: মেরিট ফেয়ার প্রকাশন। উস্ ওয়ায়ে রাসূল (সাঃ) ও খাছায়েছুল কুবরা রাসুল (সাঃ) এর চরিত্র ও মুজেজা, প্রকাশক: সোলেমানিয়া বুক হাউস। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ), আল্লামা ডঃ মু. ইনায়েতুল্লাহ সুবহানী, প্রকাশক: বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স। বিশ্বনবী (সা) মিরাজ। মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকাশক: সোলেমানিয়া বুক হাউস। মানুষের নবী, আবদুল আজিজ আল-আমান, প্রকাশক: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মহানবীর (সা:) জীবন চরিত, ড. মুহাম্মদ হোসাইন হায়কল, প্রকাশক: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মরু ভাস্কর, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সীরাত গ্রন্থ।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ও গতকাল শনিবার মেলা চত্বর বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে আসা অনেক মুসল্লি ও বইপ্রেমীকে মেলা থেকে পছন্দানুযায়ী বই কিনতে দেখা যায় গতকাল শনিবারও। মেলা ঘুরে ইসলামবিষয়ক বইয়ের বেশ সমৃদ্ধ পসরা চোখে পড়ে। স্টলে স্টলে সাজানো থরে থরে বই। পবিত্র কোরআনুল কারিম অনুবাদ ও তাফসির, হাদিসের গ্রন্থ, সীরাত গ্রন্থ, সাহাবি তাবেয়ি ও বুজুর্গদের জীবনী, ইসলামের ইতিহাস, সমকালীন প্রবন্ধ, মাসআলা-মাসায়েল ও ঐতিহাসিক উপন্যাসসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের মৌলিক, গবেষণামূলক ও অনুবাদ গ্রন্থের যাবতীয় পসরা বসেছে মেলায়।
মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল মালিকরা জানিয়েছেন এবার শুরুর পর থেকেই মেলা ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় ৬১টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে এমদাদীয়া লাইব্রেরি, মুসলিম ভিলেজ, মুহাম্মদীয়া কুতুবখানা, রাহনুমা প্রকাশন, গার্ডিয়ান, সোলেমানিয়া বুক হাউস, দারুস সালাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি, সমকালীন প্রকাশন, আহমদ প্রকাশন, মিনা বুক হাউস, মডার্ন প্রকাশনী, শিশু কানন,আল মুজাহিদ লাইব্রেরী,সমর্পণ প্রকাশন, বাড কম্প্রিন্ট এন্ড পাবলিকেশন্স, মাকতাবাতুল বায়ান, মোজাদ্দেদিয়া কুতুবখানা অন্যতম। রয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব স্টলও। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রকাশনী আকর্ষণীয় ছাড়ে বই বিক্রি করছে।
পাঠকরাও বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বই দেখছেন, পছন্দ হলে কিনছেন। মিরপুর থেকে আসা আব্দুল জাব্বার বলেন, ইসলামী বইমেলায় আসতে পেরে আমার ভালো লাগছে। এমন মেলা বেশি বেশি হওয়া চাই। তিনি বলেন, আমাদের মাঝে আজ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা না থাকায় সামাজিকভাবে নানা অঘটন ঘটছে, শিশু কিশোররা অপরাধে জড়াচ্ছে। তাই আমি মনে করি, এসব মেলা আরও ব্যাপক হলে ধর্মপ্রাণ মানুষ এসে এখান থেকে বই কিনতে পারবেন, এবং তাদের জীবনকে সুন্দর করতে পারবেন।’
গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার মেলায় পাঠকের সমাগম হলেও অন্য দিন খুব একটা বিক্রি হয় না বলে জানান বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্যÑ মেলা জমজমাট করার জন্য আয়োজকদের খুব একটা আগ্রহ বা উদ্যোগ লক্ষ করছি না। আমরা তাদের মিডিয়ায় প্রচারের জন্য অনুরোধ করেছি, তারা তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতা আহ্বানের চেষ্টা করছি। অথচ, প্রচারের কাজটি যদি কর্তৃপক্ষ করত, তা হলে হয়তো অনেক লোকের সমাগম হতো প্রতিদিন।
দারুস সালাম বাংলাদেশ প্রকাশনের বিক্রেতা আব্দুল জাব্বার বলেন, আমাদের পাঠকরা এই মেলা সম্পর্কে তেমন জানেন না। যে পরিমাণ প্রচারণা দরকার ছিল মেলার, তা না হওয়ায় পাঠক আসেন না। ফলে আমাদের বিক্রিও খুব ভালো না। মোটামুটি চলছে। অবশ্য গত শুক্রবার হিসেবে অনেক মুসল্লি বই কিনছেন।
একই কথা বলেন গার্ডিয়ান প্রকাশনীর মার্কেটিং ডিরেক্টর নাজমুল হুদা রানা। তিনি জানান, প্রতি বছর এখানে দুই বার (রমজান ও সিরাত উপলক্ষে) বইমেলা হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক মানুষই এ মেলা সম্পর্কে জানে না। ফলে প্রতি বারই পাঠকের একটা হাহাকার থাকে মেলায়। তাই আমরা প্রকাশক ও বিক্রেতারা চাই ইসলামিক ফাউন্ডেশন যেন মেলার প্রচারের জন্য মিডিয়ায় কাভারেজসহ কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করে। সোলেমানিয়া বুক স্টলের বিক্রেতা মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, প্রতি বছরই তারা মেলায় অংশ নেন। তিনি জানান, মেলায় অনেক স্টলে ছাড়ে বই বিক্রি চলছে। তারাও ৪০ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিক্রয় সহকারী সাইদুর রহমান জানান, এবার মেলায় ভালো বিক্রি হচ্ছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রত্যেক নামাজের সময় এ মেলা সম্পর্কে ঘোষণা করা হয়। সেখান থেকে জেনে পাঠক আসেন, বই কিনেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাহারূল হুদা সরকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়ে থাকি এ মাসে। সেগুলো প্রচারের জন্য হাজার হাজার লিফলেট ও বই জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করা হয়। দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সেখানে মেলার বিষয়েও প্রচার থাকে। আমরা এই মেলাকে নিয়ে গর্ব করি এবং মনে করি এর মাধ্যমে ইসলামী অনেক বই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছছে। সামনে থেকে মেলার আশপাশ সাজসজ্জাসহ আরও ব্যাপক প্রচার প্রসারের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও গতকাল শনিবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোতে কুরআন-হাদিস গ্রন্থের পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষামূলক বই, নবী-রাসূলদের জীবনী, ইসলামী ব্যক্তিত্বদের জীবনীসহ বিভিন্ন ধরনের বই বিক্রি চলছে। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে, ইসলামে হালাল ও হারাম, বিশ্বনবীর জীবনী, তাজকেরাতুল আউলিয়া, নূরানি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টায় কুরআন শিক্ষা, রাসূল সা:-এর ২৪ ঘণ্টার আমল, ইমাম গাজ্জালির জীবন, গিবত ও চোগলখোরির ধ্বংসলীলা, মরণের আগে ও পরে প্রভৃতি। এ ছাড়া মেলায় স্থান পেয়েছে ইসলামী ব্যক্তিত্বসহ নানান বিষয়ে গবেষণামূলক বই। এর মধ্যে রয়েছে মিসরের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে লেখা বই ‘প্রেসিডিন্ট মুরসি’, ‘লস্ট ইসলামিক হিস্ট্রি’, ‘দ্য ইমারজেন্স অব ইসলামসহ নানান বই। বই ছাড়াও কিছু স্টলে মধু, টুপি, জায়নামাজ, আতর, মেসওয়াক ও তসবিহ বিক্রি করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ