বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেও পাওয়া যাবে ডেঙ্গু রোগী

# ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১৩৬ জন
ইবরাহীম খলিল : বাংলাদেশে এ যাবতকাল পর্যন্ত সাধারণত শীতকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু স্বাভাবিকভাবেই নির্মূল হয়ে যাওয়ার রেকর্ড থাকলেও এবার তা হয়নি। শীতের শুরুতে নভেম্বরে রয়েছে ডেঙ্গু জ্বর বা এডিস মশার প্রকোপ। তাছাড়া, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। এছাড়া গতকাল ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৩৬ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ডেথ রিভিউ কমিটি সর্বশেষ ২৫১ জন মৃত মানুষের মধ্যে ১৭৯টি মৃত্যুর কারণ রিভিউ করে। তার মধ্যে ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি। গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টারের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার।
এছাড়া চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৮,৬৩৬ জন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছে ৯৭,৭১৪ জন। শনিবার নতুন ভর্তি রোগী ২৪ ঘন্টায় (১৫ সকাল ৮টা থেকে ১৬ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৩৬ জন। সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি (১৬ নভেম্বর পর্যন্ত) ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তিরোগী রয়েছে ৩১০ জন। আর সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তিরোগী রয়েছে ৬২৩ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকায় নতুন ভর্তি ৩৪জন ও ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৬৫ জন। এদিকে ঢাকার বাইরে নতুন ভর্তি ৬৩ জন আর ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭ জন । গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকায় নতুন ভর্তিরোগী ৫৬ জন। ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর ২৭৬ জন। সেই সাথে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বর্তমানে সর্বমোট ভর্তিরোগী ৩৬১ জন।
এদিকে সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তিরোগী রয়েছে ৬৭১ জন। সেই সঙ্গে সারা দেশে ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৯৯.১% নতুন ভর্তি ৯৭ জন ও ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৫২ জন
ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, এবার ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাবে। ডেঙ্গু আক্রান্তের হার একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না। কেননা এবারের ডেঙ্গুর ধরন ভিন্ন। সেরোটাইপ-৪ পর্যন্ত আক্রমণ করেছে এবার।
এদিকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কাছে ডেঙ্গু সন্দেহে ২৫১ জন মৃত রোগীর তথ্য এসেছে। এরমধ্যে ১৭৯টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১১২টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে, মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এ সংখ্যা এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। হাসপাতলে ভর্তি হয়ে মৃত ৯৮ জন ডেঙ্গুরোগীর মধ্যে এপ্রিলে ২, জুনে ৬, জুলাইয়ে ৩৫, আগস্টে ৬৩ এবং সেপ্টেম্বরে ৬ জনের মৃত্যু হয়। আর এসব মৃত্যুর মধ্যে শিশুমৃত্যুর হারই সবচেয়ে বেশি বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩, জুনে ১ হাজার ৮৮৪, জুলাইয়ে ১৬ হাজার ২৫৩, আগস্টে ৫২ হাজার ৬৩৬ জন, সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার ৮৫৬ জন, অক্টোবরে ৮ হাজার ১৪৩ এবং নভেম্বরের ১৪ দিনে ২৩০৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালেই সর্বোচ্চ ডেঙ্গুতে আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। যার মধ্যে আগস্ট মাসে ছিল সর্বোচ্চ।
হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ি, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন ৯৮ হাজার ৪০৩ জন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র গ্রহণ করেছেন ৯৭ হাজার ৪৭৪ জন। অর্থাৎ, আক্রান্তদের ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ রোগীই ছাড়পত্র পেয়েছেন

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ