বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

কারগো বিমানে মিসর থেকে পেঁয়াজ আসছে

কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ফেলে দেয়া পেঁয়াজ কুড়িয়ে বেছে নিচ্ছে স্থানীয়রা

# সিন্ডিকেটের কবলে বাজার
# পাইকারিতেই কেজিতে লাভ ৮৩ টাকা
এইচ এম আকতার: সিন্ডিকেট কারসাজিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে দেশে পেঁয়াজের বাজার। স্মরণকালের সকল রেকর্ড ছাপিয়ে জেলা শহরের খোলা বাজারে পেঁয়াজের বাজারে আগুন। যেখানে শহরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় ঠিক সেই সময় মেহেরপুর জেলার হাট-বাজারগুলোতে পেঁয়াজের কেজি নেয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। এতে কপাল খুলেছে আড়তদার ও মজুতদারদের। ঢাকার মোকাম থেকে পেঁয়াজ কেনা কেজি ১৩৭ টাকা। বিক্রি করছে ২২০ টাকা দরে। পাইকারিতেই কেজিতে লাভ ৮৩ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রির নামে চলছে হরিলুট।
 মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, তারা সরাসরি আড়ত থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসেন। মোকামেই পেঁয়াজের দাম পড়ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি ফলে সেখান থেকে আনতে গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ পড়ে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা ফলে তার পাইকারী বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা কেজি।
 পেঁয়াজের দাম মোকামেই বেশি হওয়ায় তাদের বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে ফলে দাম বেড়েছে। পেঁয়াজের আমদানি বৃদ্ধি না পেলে হয়তো চলতি সপ্তাহে ৩শ টাকার উপরে পেঁয়াজের দাম উঠবে। স্থানীয় ক্রেতা সোয়েব আলী বলেন, তিনশত টাকা দামে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে এটা অস্বাভাবিক। এত দামে পেঁয়াজ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এক কেজির পরিবর্তে এক পোয়া কিনতে বাধ্য হলাম।
তিনি অভিযোগ করেন, পত্রিকায় দেখলাম পেঁয়াজের দাম একশ টাকার নিচে নামার আপাতত কোন সম্ভাবনা নেই। এর পর থেকেই বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়া শুরু হয়েছে।
এদিকে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রশাসন কি ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আতাউল গনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগের। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করছি। ইতোমধ্যে আমরা ব্যবসায়ী সমিতির সাথে মিটিং করেছে। খুব শ্রীঘ্রই বাজার দর নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি।
 ভোক্তাদের অভিযোগ এই সরকার জনগন বান্ধব নয়। বর্তমান সংসদে প্রায় ৭০ জন সংসদ সদস্য রয়েছে ব্যবসায়ী। সরকার তাদের স্বার্থেই কাজ করছে। সরকার চাইলে বাজার নিয়ন্ত্রন করা কঠিন কিছু নয়।
এডভোকেট শাহ আলম সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিন্ডিকেটের সাথে সরকারের এক ধরনের সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি বলেন,কে কত টাকায় পেঁয়াজ আমদানি করেছে তা সরকারের কাছে পরিস্কার জানা আছে। সরকার চাইলে টিসিবির মাধ্যমে কেজিতে ১০ টাকা লাভে আমদানি করা পেঁয়াজে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাজার ছাড়তে পারতো। কিন্তু তা না করে সরকার উল্টো পথে হেটেছে। মজুদ করা পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের হাতে রেখেই বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের আড়ত পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযানেই এর প্রমাণ মিললো। অভিযান চলাকালে মেসার্স রিতা মুক্তা বাণিজ্যালয়ে পেঁয়াজের ক্রয় রসিদ দেখতে চাওয়া হয়। রসিদে ক্রয় মূল্য লেখা ১৩৭ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করছে ২২০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারিতে কেজিতে লাভ করছে ৮৩ টাকা, যা দেখে অবাক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম।
অভিযান পরিচালনাকারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় রসিদের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর ১৩৭ টাকা কেজি এবং ১৪ নভেম্বর ১৫৫ টাকা কেজি মূল্যে ক্রয় করে স্টক করেছে, যা সেই পেঁয়াজ গতকাল বিক্রয় করছেন কেজি ২২৯ টাকা। ১৩৭ টাকায় কেনা পেঁয়াজের ক্রয় মূল্যের সঙ্গে খরচ পরিবহন ভাড়া যোগ করলে সর্বোচ্চ মূল্য ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা হবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ২২০ টাকা বিক্রি করছে। এটা কীভাবে সম্ভব? অর্থাৎ ক্রাইসিস তৈরি করে তারা অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়েছে যুক্তিযুক্ত কোনো কারণ হতে পারে না। এরা মজুত করে পেঁয়াজের মূল্য বাড়াচ্ছে। আসলে তারা জনগণকে জিম্মি করে বাড়তি মূল্য আদায় করছে। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিতা মুক্তা বাণিজ্যালয়ের বিক্রেতা জুলহাস মীর জানান, আগের রসিদ দেখে জরিমানা করা হয়েছে। আগে কম কেনা হলেও গতকাল কিনতে হয়েছে ২১০ টাকা দরে। পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভ নেই উল্টো লস হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল জব্বার মন্ডল জানান, পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিনব কায়দায় দাম বেশি নিচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান দাম লিখে রেখেছে ২১০ টাকা কিন্তু বিক্রি করছে ২২৫ ও ২৩০ টাকায়। তাদের পেঁয়াজ কেনা ১৮০ টাকা। তার মানে অনিয়মের কারণে বেশি দাম বাড়ছে।
অভিযান চলাকালে পেঁয়াজের মূল্য তালিকা না টানিয়ে মূল্যবৃদ্ধিতে কারসাজি করা, প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে মেসার্স বদিউজ্জামান এন্ড সন্সকে ২০ হাজার টাকা, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সকে ২০ হাজার, রিতা মুক্তা বাণিজ্যালয়কে ৩০ হাজার, আজমির ভান্ডারকে ২০ হাজার, নিউ ভাই ভাই বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকাসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি জানান, আড়তদাররা জানিয়েছেন বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং ঈশ্বরদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হয়েছে, যা ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। আশা করছি দাম কমে যাবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার দুই মাস ধরে একের পর পদক্ষেপ নিলেও পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি রেকর্ড আড়াইশ টাকায় উঠেছে, এর জন্য ক্রেতাদের অনেকে ব্যবসায়ীদের ‘কারসাজিকে’ দায়ী করলেও তারা বলছেন সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। 
চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনার ঘাটতি ও সময়মতো বিকল্প দেশ থেকে আমদানির উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়েছে বলে দাবি করছেন আমদানিকারকরা। এর পাশাপাশি উপমহাদেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতি, বৈরী আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন জটিলতাও ভূমিকা রেখেছে বলে কয়েকজন দাবি করেছেন।
‘পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণে বাজার অস্থির হচ্ছে’ বলে সঙ্কটের এক পর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও এখন আর তা বলা হচ্ছে না। সঙ্কট শুরুর দুই মাসের মাথায় দাম যখন প্রতি কেজি আড়াইশ টাকায় উঠেছে এমন এক পরিস্থিতিতে শুক্রবার জরুরি বৈঠক করে বিমান যোগে মাধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ এনে সরকারি উদ্যোগেই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এবার বাংলাদেশ ও ভারতে পেঁয়াজ চাষের সময় খরা ও আকস্মিক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই খাদ্যপণ্যের আবাদ। এর ফলে এই বছর মওসুমের শেষ প্রান্তে এসে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে পেঁয়াজের দাম ‘অস্বাভাবিকভাবে’ বেড়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ভারতে পেঁয়াজের মূল্য প্রতি কেজি প্রায় একশ রুপিতে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে বিক্রি হত ৮ থেকে ১২ রুপিতে। বাংলাদেশে আমদানি শুরুর পর মিয়ানমারেও পণ্যটির দাম এখন একশ টাকায় পৌঁছেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।
গত কোরবানির ঈদের পর শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বছর মওসুমের শেষ দিক এসে পেঁয়াজের সঙ্কট হতে পারে বলে সেই বৈঠকে সরকারকে জানিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বর্তমান সচিব জাফর উদ্দিন বলেন, সবার ধারণা ছিল ভারত পূজার পর পর পেঁয়াজ ছেড়ে দেবে। ভারত পেঁয়াজ ছেড়ে দিলে ভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ এনে পোষানো যাবে না। সেই ভয়ে ব্যবসায়ীরা বড় আমদানিতে যায়নি। এবার একইসঙ্গে ভারতেও নতুন পেঁয়াজ আসতে দেরি করছে, আবার আমাদের বাজারেও আসতে দেরি হচ্ছে।
মিরপুর-১ নম্বর বাজারের আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, বাজারে এখন পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি একেবারেই দৃশ্যমান। বৃহস্পতিবার আমি শ্যামবাজার থেকে ৫০ বস্তা মিশরীয় পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে পেয়েছি মাত্র ১৫ বস্তা। দাম পড়েছে প্রতি কেজি দেড়শ টাকা। আজকে সেই পেঁয়াজই শ্যামবাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৯০ টাকা।
সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এর পরেও যখন সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, তাই এর দায়িত্বটি সরকারকেই নিতে হবে। বৃষ্টির কারণে দেশি পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় এবার যে সঙ্কট হবে, সেটা আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম।
পেঁয়াজ নিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট মোকাবেলায় গত দুই মাসে দুই হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ীকে জেল জরিমানা করেছে সরকার। মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে তা বেশি দামে বিক্রির অপরাধেও জরিমানা করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের।
 আমদানিকারকরা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন শ্যামবাজারে পাইকারি দোকান আমানত ভান্ডারের পরিচালক মানিক।
তিনি বলেন, সরবরাহ ঘাটতির সুযোগে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দেন। আমরা নির্ধারিত পরিমাণ লাভ রেখে সরবরাহকারীদের বেঁধে দেয়া মূল্য অনুযায়ী বিক্রি করি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের বাদ দিয়ে আমাদের জরিমানা করা হয় সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে।
সরকার চাইলে কারা এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ এনেছে এবং কত টাকা মূল্যে এনেছে সেটা মুহূর্তেই বের করতে পারে। বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার তাদের কাছ থেকে সব পণ্য কিনে নিজেরাও বিক্রি করতে পারে। কিন্তু সেই কাজটি করা হয়নি।
বর্তমানে পাইকারিতে দেশি ও মিয়ানমারের পেঁয়াজের দাম যখন দুইশ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা একচেটিয়া মুনাফা করছে বলে মনে করছেন ক্রেতা মানিক। মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে মাত্র ১২০-১৩০ টাকায়। সে পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়। শ্যামবাজারের অন্যতম আমদানিকারক হাজী আব্দুল মাজেদও একই কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব আমদানিকারকের হাতে মিশরের পেঁয়াজ রয়েছে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। এক সপ্তাহ আগে শ্যামবাজারে মিশরের পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বেঁধে দিলেও তা এখন আর কার্যকর নেই। ফলে মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০-১৯০ টাকার কাছাকাছি। এক সময় নিজের কাছে মিশর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ থাকলেও তা এখন আর নেই বলে দাবি করেন মাজেদ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব জাফর বলেন, গত দুই মাসে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অভিযান চালিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট করে দাম বাড়ানোর কারণে দুই হাজার ব্যবসায়ীকে শাস্তি দিয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে অন্তত দুই কোটি টাকা। কিন্তু পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটেছে খুবই সামান্য। আসলে এটা মার্কেট ট্রেন্ড। এই মুহূর্তে আমরাও হতাশ।
অভিযানের মুখে শ্যামবাজার আড়ৎদার সমিতির নেতারা পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেওয়ার পর সংকট বেড়েছে বলে জানান আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন। এরপর আমদানিকারকরা তিন দিন শ্যামবাজারে কোনো পণ্য আনেনি। ফলে ঢাকার প্রধান পাইকারি বাজারে ফাঁকা অবস্থা পুরো শহরে দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। এর প্রভাব পড়েছে সারা দেশে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে পেঁয়াজের মোট উৎপাদন ২৪ লাখ টন। বিভিন্ন কারণে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ১৮ লাখ টনের মতো দেশি পেঁয়াজ টিকে থাকে। এর সঙ্গে বার্ষিক চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ১০ লাখ টন আমদানি করতে হয়। অর্থাৎ দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৮ লাখ টন। তবে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নিরূপণ করা চাহিদা এই পরিসংখ্যান সঠিক নয়। প্রকৃত চাহিদা আরও বেশি।
বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বার বার হোঁচট খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মেঘনা, এস আলম ও সিটি গ্রুপকে পেঁয়াজ আমদানিতে যুক্ত হওয়ার আনুরোধ করলে তারা তা শুনেছে। কিন্তু এই বাজারের অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না, যা একটা সমস্যার সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমারের বাজারেও এখন দাম বেড়ে প্রতি টন হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।
ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, সরকার বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিয়েছে এটা সত্য। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে উদ্যোগটা পর্যাপ্ত ছিল না।
সরকার বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর একটা নজরদারি করেছে। কোথাও কোথাও জেল- জরিমানা করেছে, যা ব্যবসায়ীদের আরও আতঙ্কগ্রস্ত করেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ও কিছু ব্যবসায়ীর লোভ-লালসার কারণে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বড় আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে না লোকসানের আশঙ্কায়। পেঁয়াজ সমস্যার সমাধানে সরকারকে ভবিষ্যতে আরও ‘ডায়নামিক’ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম রহমান বলেন, কূটনৈতিকভাবে যদি ভারতকে রাজি করানো যেত তাহলে হয়ত সঙ্কট কিছুটা কেটে যেত। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য কাউকে এককভাবে দোষারোপ না করে আমি বলব, বাজার বিপর্যয় বা মার্কেট ফেইলর। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সে রকম সহযোগিতা আসেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ