সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ইসরাইল-গাজা ‘অস্ত্র বিরতি’ শুরু নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ 

১৪ নবেম্বর, বিবিসি : গাজায় দুই দিন ধরে ইসরাইলি হামলার পর উভয় পক্ষ অস্ত্র বিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। মিসর, জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। তবে ইসরাইল অস্ত্র বিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। আর হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দিনের ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে।

মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা ও গোলা বর্ষণ শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। ইসরাইলি বিমান হামলায় পিআইজে কমান্ডার নিহত হলে এই সহিংসতা শুরু হয়। পিআইজের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবু আল আত্তা (৪২) ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে দখলদার বাহিনী। অন্যদিকে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় তাদের ছেলেকেও। এই আগ্রাসনের জবাবে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোরে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু হয়। এরপরই গাজায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করে ইসরাইল। দুই দিনের ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক।

পিআইজে’র এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, গাজার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে অস্ত্র বিরতি শুরু হয়েছে। মিসরের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, মিসরের মধ্যস্থতায় এই অস্ত্র বিরতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি বিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, জাতিসংঘ ও মিসর উভয় পক্ষই গাজাকে ঘিরে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে অগ্রসরতা ঠেকাতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এক টুইট বার্তায় তিনি উভয় পক্ষকে প্রাণহানি এড়াতে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, একটি রকেট নিক্ষেপ ছাড়া গাজা মূলত নীরব ছিল। তবে ইসরাইলের সেনাবাহিনী সাড়ে ছয়টার পরও সতর্কতা সংকেত বাজিয়ে গেছে।

এর আগে গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, রকেট হামলা বন্ধ না হলে ইসরাইল কোনও দয়া দেখাবে না। তারা হামলা চালিয়েই যাবে।

গত দশকে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। ১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখন্ডকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। ২০০৫ সালে সেখান থেকে বসতি উচ্ছেদ করে সেনা মোতায়েন করে তারা। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত বসতিতে লাখ লাখ ইসরাইলি বসবাস করে। তারপরও দখলদারিত্ব সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইসরাইল। নিরাপত্তার অজুহাতে স্থল সীমান্তে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মিশর এবং ওই ছিটমহলকে নৌ অবরোধ করে রেখেছে তেল আবিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ