মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অধিগ্রহণ করা জমি থেকেই মসজিদের জায়গা চায় ভারতীয় মুসলিমরা 

১৪ নবেম্বর, ইন্টারনেট : সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি খোঁজা শুরু করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, আকর্ষণীয় ও বিখ্যাত কোনও জায়গায় জমি খোঁজার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে মামলার অন্যতম বাদী ইকবাল আনসারী বলছেন, মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দিলে তা অবশ্যই বিরোধপূর্ণ স্থানে সরকারের অধিগ্রহণ করা ৬৭ একর জমির মধ্য থেকেই বরাদ্দ করতে হবে। একই মনোভাব দেখিয়েছেন স্থানীয় মুসলমান নেতারাও।

শতাব্দী প্রাচীন বিবাদে ইতি টেনে গত গত ৯ নবেম্বর অযোধ্যা মামলায় রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। নির্দেশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর অযোধ্যার যেকোনও স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি।

বিরোধপূর্ণ ওই স্থানের ৬৭ একর ভূমি ১৯৯১ সালে অধিগ্রহণ করে নেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্যতম বাদি ইকবাল আনসারি বলেছেন, ‘তারা যদি আমাদের জমি দিতে চায়, তাহলে আমাদের সম্মতির ভিত্তিতে দিতে হবে আর তা দিতে হবে ওই অধিগ্রহণ করা ৭৬ একর জমির ভেতর থেকেই। তাহলেই কেবল আমরা তা নেবো। অন্যথায় আমরা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবো। মানুষ যেরকম বলছে চৌদ্দ কোস থেকে বের হয়ে যাও আর মসজিদ বানাও। এটা ন্যায্য নয়’। গত শনিবার রায় ঘোষণার পর আনসারি বলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না তিনি।

স্থানীয় মুসলিম নেতা মাওলানা জালাল আশরাফ বলেছেন, মুসলমানরা মসজিদ বানাতে নিজেরা জমি কিনে নিতে পারে, এজন্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকা লাগে না। ‘যদি আদালত ও সরকার আমাদের আবেগে সামান্যতম নিরসন করতে চায় তাহলে অধিগ্রহণ করা জমি থেকেই ওই ৫ একর জমি দিতে হবে। ওই এলাকার মধ্যে ১৮ শতকের মুসলিম সাধক কাজী কুদওয়ার দরগাহ ও বহু কবরস্থান রয়েছে।

সর্বভারতীয় মিল্লি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক খালেক আহমেদ খানও একই রকম মত পোষণ করেন। ঐতিহাসিক ওই মামলায় মুসলমানদের পক্ষে অপর এক বাদী ছিলেন হাজী মাহবুব। তিনি বলেন, আমর এই ললিপপ গ্রহণ করবো না। আমাদের জমি কোথায় দেয়া হবে তা অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। অযোধ্যা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্পোরেটর হাজী আসাদ আহমেদ বলেন, বাবরি মসজিদের বিনিময়ে তারা কোনও জমি চান না। তিনি বলেন, সরকার বা আদালত যদি আমাদের মসজিদের জন্য জমি দিতে চায় তাহলে অবশ্যই অধিগ্রহণ করা ৬৭ একর জমি থেকেই দিতে হবে, অন্যথায় আমরা কোনও অনুদান চাই না।

জমিয়ত উলামা হিন্দের অযোধ্যা শাখার প্রেসিডেন্ট মাওলানা বাদাহ খান বলেন, মুসলমানরা বাবরি মসজিদের জন্য মামলা লড়েছে, অন্য কোনও জমির জন্য নয়। তিনি বলেন, আমরা অন্য কোথাও জমি চাই না। এরপরিবর্তে আমরা এই জমি রাম মন্দিরের জন্যও দিয়ে দিতে পারি।

সমাজকর্মী ইউসুফ খান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই ইস্যু শেষ হয়ে গেছেন আর মসজিদের জন্য অতিরিক্ত জমি দরকার নেই। তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রয়োজন মেটাতে অযোধ্যায় আমাদের যথেষ্ট মসজিদ রয়েছে, সর্বোচ্চ আদালত রাম মন্দিরের পক্ষে রায় দিয়েছে। এই ইস্যু এখন শেষ।  এদিকে উত্তর প্রদেশ সরকার মসজিদের জন্য জমি খোজা শুরু করেছে। তবে ভূমি ইস্যুতে আলোচনার জন্য আগামী ২৬ নভেম্বর লক্ষেèৗতে বৈঠক ডেকেছে উত্তর প্রদেশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ