সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

কবিতা

‘শেষের কবিতা’

রহমাতুল্লাহ খন্দকার    

 

কবিতা হলো না আর, ছন্দবাড়ি ফুটা টিনে চালা

মেঘদূতের মেয়েরা এসে দেয় লোহার কপাট তালা।

তবু, ডাকে সে অমাকে গভীর বিভোর করে? 

সে শোনায় গান, আহা মধুর মধুর ঘুমঘোরে? 

চোখের পাতায় তারা বসে তারায় তারায় কথা

কার বাঁশরির পাগলা সুরে প্রিয় হারা ব্যথা।

ব্যথায় ব্যথায় কবি হোলেম গেলাম কবির হাটে 

গিয়ে দেখি আয়নায় ছবি আহা কেমন ব-খা-টে!

কলকি মুখে পান-সিগেরেট উড়াই বিড়ি ধোঁয়া

টানে টানে সুখ টান গুরু টানে ডিব্বা ডিব্বা মোয়া।

কবিদের পাঠশালে ছাত্র হতে পরিলেম ব্যাজ-ফিতে

দোহাই কবিরা ক্ষমা করো পারিনি কিছুই নিতে।

দিনে দিনে দেনার পাহাড় বাড়তি যে ক্রসফায়ার

বাংলাস্টলে হিজলা মেয়ে জ¦ালে ব্যর্থ প্রেমের টায়ার।

কবিতা দিলেম ছুটি, মায়ে বাড়ি মিষ্টি মধু খাও

চাচ্চার দিন রঙধনু রঙ গায়ে মেখে নাও।

 

অধম, খাক্ছার আমি, রেখে যাই কিছু বাণী

কবিতা ছড়াবে আলো, ঘুচিবে রাতের গ্লানি।

 

মন খারাপের পত্র দিলাম

শাহীন সৈকত

 

মন খারাপের পত্র দিলাম, তোমার কাছে কত, দেখলে নাতো একটি বারও খুলে

মনটা আমার খারাপ ছিল, অনেক েেবশী সিক্ত ছিল, রইলো আজও ঝুলে।

সেই আমিটা তেমন আছি, মনটা শুধুই ভার, তোমার জন্যে অপেক্ষাতে সময় কাটে কার?

কে আর আছে তোমার বল, ভাববে এমন করে? আমি ছাড়া কেইবা আছে আর!

তোমার এমন মধুমাখা ডাকে, চুপটি করে থাকতে পারে এমন কে আর আছে?

তুমি বল একটু খানিক ভেবে, কষ্ট হলেও আমি না হয় যেতাম যে তার কাছে।

দুর্ভাগা যে কে আর হতে চায়, হয়নি জানা আজও, এই হচ্ছে সত্যিকারের কথা

বলেছি যা আগে, তোমায় আপন ভেবে, মেনে নিও সকল কথা যথা।

আর করো না অকারণে জিদ, রেখো না রাখঢাক, ভেঙো নাকো এমন মধুর বীণ।

এসো মুস্তাকিমের পথে, এক সাথে আজ চলি, বাড়তে থাকুক তোমার সাথে আমার যত ঋণ।

 

পূর্ণতা 

সুজিত হালদার

 

দু-হাত বাড়িয়ে দিলে, ফিরিয়ে দাও এক বুক শূন্যতা

কতটা দুঃখ ভোগের পর ফিরে পাবো পূর্ণতা

সেটা নিশ্চয়ই কেউ জানি না, শুধু জানি তোমাকে পেতে

আমি বারবার ভুল করতে রাজি আছি, শোধরে যেতে

যখন আমি থাকবো না,তখন খুঁজবে আমায়

এখন আমি পারছি না, এটা শুধু আমার অপূর্ণতা।

তোমাকে অদেয় আমার কিছু নেই, যতটা না দিয়েছি নিজেকে

তার চেয়েও বেশি দিয়েছি তোমাকে, বৃক্ষজনম আমার

টের পাই এখনো জীবাশ্ম জ্বালানি হতে বাকী আছে

সেটা বানাতে চাইলেও আমি প্রস্তুত রয়েছি।

 

জীবনটা 

রুদ্র সাহাদাৎ

 

জীবনটা রঙিন ফানুস

সময় অসময় উড়ে যেতে চাই মনের চৌহদ্দি পেরিয়েও

                                             আরো বহুদূর

কেউ কেউ তারও অধিক স্বাধীনতা খুঁজে

কেউ কেউ হাসে -কেউ কেউ কাঁদে

 

মানুষ পাবার লোভে মরে

জীবনটা রঙিন ফানুস

ধোঁয়া ধোঁয়া চারিধার শূন্যতায় হাঁটছি

গন্তব্য থেকেও যেনো গন্তব্যহীন

 

মানুষ কি খুঁজে রাত্রিদিন মানুষই বুঝে না... 

 

উপস্থ গোলাপ 

তাসনীম মাহমুদ 

 

দেখেছি তাকে, 

প্রথম প্রভাতের রোদ্দুরে 

অনতিদূর; 

সাদা গোলাপের মতো সতেজ-সুচারু।

 

নিষ্পলক দেখেছে সে, 

লাইপাতায় জমা বিন্দু বিন্দু শিশিরে আমায়...! 

 

চোখের আঙ্গিনায় প্রশ্রয় মেখে রেখে 

কুন্তলমেঘে ভেসে গেছে দৃষ্টি।

 

এক দমকা সুবাস মেলে দিলে; ইশারায়...। 

 

ও গোলাপ! 

উপস্থ হলে; 

কাঁটায় কাঁটায় রক্তলাল কণ্ঠনীল তুমি? 

নাকি, পাঁপড়ি মেলা কুসুম-কমল রুমাল তুমি?

 

ফুলের সুবাস দাও 

মুহাম্মদ ইসমাঈল

 

আমার একটি মিনতি শোনো

মানুষে মানুষে বিশাল দূরত্ব

যে বেদনাময়ক অপরিচয়

তা অতিক্রম করে একটু কাছে এসো

আমাকে তোমার বুকের উত্তপ্ত তাপ দাও

আমাকে তোমার হৃদয়ের একটু উষ্ণতা ও আকুতি দাও

আমাকে একটু ভালোবাসা দাও

এসো, কাছে এসো

আমাকে একটু জোসনা ও শিশিরের ¯িœগ্ধতা দাও

রাঙা ভোরের মিষ্টি আলো এবং রঙধনুর বর্ণচ্ছটা দাও

আমাকে সবুজ পাতার পরশ দাও

ফুলের সুবাস দাও

আমাকে একটু ভালোবাসা দাও

আমাকে রিমঝিম বৃষ্টি পাখির গান শোনার কুলকুল

সঙ্গীত দাও।

আমাকে গাছের ছায়া ও মেঘের ছায়া দাও।

আমাকে মরুদ্যানের শীতলতা দাও।

আমাকে একটু ভালোবাসা দাও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ