সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

গাজায় ইসরাইলী হামলায় ১৮ ফিলিস্তিনীর শাহাদাত

১৩ নবেম্বর, এএফপি ও আল-জাজিরা, রয়টার্স :  গাজা উপত্যকায় নিজের বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রতিরোধ আন্দোলন ইসলামি জিহাদের এক কমান্ডারকে ইসরাইলী হানাদার বাহিনী হত্যার পর নতুন করে উত্তেজনা চলছে।

গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া দখলদার বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ১৮ ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থার খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হামলার জবাবে গাজা থেকেও অবৈধ ইসরাইলে বৃষ্টির মতো রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ইসলামি জিহাদ যদি রকেট নিক্ষেপ বন্ধ না করে, তবে তাদের আরও বড় আঘাত সইতে হবে।

মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, উত্তেজনা বাড়ানোর ইচ্ছা ইসরাইলের নেই।

ইসলামি জিহাদের নেতা খালিদ আল-বাতস বলেন, সিরিয়া ও গাজায় দুটি সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইসরাইল, যা যুদ্ধ ঘোষণা।

প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলছে, উত্তেজনার পরিণতির সম্পূর্ণ দায় ইসরাইলকে বহন করতে হবে। ইসলামি জিহাদের কমান্ডার আবু আল-আত্তার হত্যাকাণ্ড বিনাবিচারে ছেড়ে দেয়া হবে না।

এদিকে গাজা উপত্যকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরবর্তী নোটিশ না দেয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

জাতিসংঘ পরিচালিত ফিলিস্তিনিদের শরণার্থী শিবিরের স্কুলও বন্ধ থাকবে বলে দেশটির শিক্ষামন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে ইসরাইল জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী গাজায় কমপক্ষে ২০বার বিমান হামলা এবং ১০বার গোলাবর্ষণ করেছে। আবাসিক ভবন, গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থাপনা এবং কৃষি জমি এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

অন্যদিকে ইসরাইলি হামলার জবাবে রকেট হামলা চালিয়েছে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা। অবশ্য এসব রকেটের বেশির ভাগই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রকেট হামলার কারণে সীমান্ত থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে ইসরাইল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেত এ ঘোষণা দেন।

এদিকে রাজধানীতে এ হামলার জন্য সিরিয়া ইসরাইলকে দায়ী করে, কিন্তু ইসরাইল কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে।

এরপরই ইসরাইল ও গাজার মধ্যে গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই শুরু হয়। সারাদিন ধরে ইসরাইলে প্রায় ২০০ রকেট নিক্ষেপ করে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা। ইসরাইলের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টির মতো রকেট প্রতিরোধ করে।

গাজা থেকে ছুটে আসা রকেটে প্রায় ২৫ জন ইসরাইলি জখম হন। কিছু রকেট ইসরাইলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত তেল আবিব শহরে গিয়েও পড়ে।

জবাবে ইসরাইলও গাজায় ইসলামিক জিহাদের অবস্থানগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে আট ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।

সারাদিন ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ইসরাইল গাজার শাসক দল হামাসের কোনো লক্ষ্যে হামলা করেনি। চলতি লড়াই থেকে হামাসকে দূরে রাখতেই ইসরাইল এ কৌশল নিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের কোনো অবস্থানে হামলা হলে আর তাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে গোষ্ঠীটি এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে, কিন্তু চলতি লড়াইয়ে হামাসকে জড়ানোর কোনো আগ্রহ তাদের নেই। 

এ সংঘাতে হামাস জড়িয়ে পড়লে লড়াইয়ের চরিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ তাদের সামরিক সামর্থ্য ইসলামিক জিহাদের চেয়ে অনেক বেশি। শেষ খবরও পাওয়া পর্যন্ত হামাসও নিজেদের এ সংঘাত থেকে দূরে রেখেছে।

নতুন করে শুরু হওয়া এ সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। এ লক্ষে বিশ্ব সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত মিশরের রাজধানী কায়রোর পথে রওনা হয়েছেন বলে কূটনৈতিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ