শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

আসছে নুতন নেতৃত্ব

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষকদের সংগঠন হলেও তাদের সাম্প্রতিক কোন সমস্যায় সোচ্চার থাকতে দেখা যায়নি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন কৃষকলীগকে। সংগঠনটির অনেক নেতার নাম দেখা গেছে ‘ক্যাসিনো কাণ্ডে’ও। অর্থের বিনিময়ে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে পদ বাণিজ্যের মধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতেই স্থান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ২৫ জনের বেশি আইনজীবী এবং ব্যবসায়ীকে। এসব বিতর্ক নিয়েই  আজ বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষকলীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন।
কৃষকলীগে কেন আইনজীবী-ব্যবসায়ী, এর অবশ্য একটা ব্যখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন: কৃষকরা আমাদের জন্য খাদ্য সরবরাহ করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাদের অনেক রকম সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তাদের এ সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা অনেক সময় হয় না। সেক্ষেত্রে, কৃষকদের অধিকার নিয়ে যারা কাজ করতে চাই এমন ব্যক্তিদের নিয়েই সাধারণত কৃষকলীগকে সাজানো হয়ে থাকে।
কৃষকলীগের গঠনতন্ত্রে রয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি হতে হবে ১১১ সদস্যের। কিন্তু সম্মেলনের আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয় গঠনতন্ত্র ভেঙে অনেককে পদ দেওয়া হয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে। ১১১ জনের জায়গায় শেষ পর্যন্ত সদস্যপদ ছাড়িয়েছে ১৫০’র অধিক।
এর জবাবে সংগঠনটির সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের কমিটির অনেক সদস্য ইন্তেকাল করেছেন আবার আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সংগঠনের পদে আসীন হয়েছে। তখন তাদের পদগুলো শূন্য ঘোষণা করে, সাংগঠনিক নীতি মেনে অন্যদের কমিটিতে নিয়ে আসা হয়েছে। পদ বাণিজ্যের বিষয়টি তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান এ নেতা।
তবে, কামিটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আইনজীবী ও ব্যবসায়ী থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেননি তিনি।এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আলোচনায় রয়েছে বেশ কিছু নাম। নবীন-প্রবীন মিলিয়ে কৃষকলীগে দূষিত রক্ত দূর করে বিশুদ্ধ রক্তের সঞ্চালন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সভাপতি পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন: কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ইতিপূর্বে কৃষকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়া, কুমিল্লা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ছিলেন ওমর ফারুক।
তিনি বলেন: এবারের সম্মেলনকে ঘিরে কৃষকলীগের নেতাকর্মীদের অনেক প্রত্যাশা। আমরা সকলেই চাইছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে একটি সুন্দর নেতৃত্ব এই সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষকলীগে আসবে। যারা আগামীতে জননেত্রী শেখ হসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে।
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে বদিউজ্জামান বাদশা। তিনি ইতিপূর্বে কৃষকলীগের টানা তিন কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সভাপতির দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন: কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধ শরীফ আশরাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আকবর আলী চৌধুরী।
এছাড়া, সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা সভাপতি পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সমীর চন্দ। তিনি ইতিপূর্বে কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং কৃষি উপকরণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া রয়েছেন কৃষকলীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  সাখাওয়াত হোসেন সুইট।
আরও আলোচনায় রয়েছেন আসাদুজ্জামান বিপ্লব। তিনি কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিপূর্বে তিনি কৃষকলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
সম্মেলনে প্রসঙ্গে বিপ্লব বলেন: আমি আশাবাদী কর্মঠ, সত্য, পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রনেতা, আওয়ামী লীগ পরিবারে যার জন্ম, সেখান থেকেই সংগঠনটির নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে দায়িত্ব দেবেন, তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা কাজ করব। এছাড়া নেত্রী যদি আমাকে দায়িত্ব দেন, তাহলে নেত্রী যেভাবে সংগঠন চালানোর নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই কাজ করব।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন এবং গাজী জসিম উদ্দিন।
দেশের কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সর্বশেষ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ