বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ

জাকির হোসেন, নীলফামারী প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৭ বছর যাবত অধ্যক্ষ ছাড়াই চলছে সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। এ দীর্ঘ সময়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। বরং তারা একজন সিনিয়র প্রভাষককে অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে গোঁজামিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ওই সিনিয়র প্রভাষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অর্থ তসরূপ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিট পরবর্তী প্রতিবেদনে অধ্যক্ষকে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও তিনি বহাল তবিয়তে থাকায় সৈয়দপুরের শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেন সরকারের উদ্যোগে কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির প্রচেষ্টায় বিগত ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালো ফলাফলের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি নজর পড়ে কিছু স্বার্থপর ব্যক্তির। তারা সুযোগ বুঝে পরিচালনা পরিষদে ঢুকে পড়ে। এদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সভাপতি আমিনুল হক। তিনি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় নানা অপতৎরতা। কলেজ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই একই প্রতিষ্ঠানে দুইজনকে করা হয় প্রধানশিক্ষক। এ নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যা জিইয়ে রেখেই কলেজ হওয়ার পর একজনকে করা হয় অধ্যক্ষ। অথচ তার অধ্যক্ষ হওয়ার মত ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছিলনা সে সময়। তারপরও শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সভাপতি নিজ ক্ষমতায় ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিকে এনে তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন। অথচ এই অধ্যক্ষ নিজেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে পরিচয় দিলেই এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষের বেতন স্কেলে বেতন ভাতা উত্তোলন না করে একজন সিনিয়র প্রভাষকের স্কেলে বেতন-ভাতা নেন। এ ব্যাপারে একটি সূত্রের দাবি ওই অধ্যক্ষের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি কাগজে কলমে অধ্যক্ষ হিসেবে বেতন স্কেল দাবি করার মত কোন যোগ্যতা রাখেন না। একারণে তিনি অধ্যক্ষ হয়েও প্রকৃত অর্থে অধ্যক্ষ নন। এটা এক ধরণের প্রতারণা। যা সভাপতির পরামর্শেই হয়েছে এবং চলছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী অভিযোগ তুললে ১৯-৪-২০০৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিনিধি দল প্রতিষ্ঠানটিতে এসে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রদান করেন। এ প্রতিবেদনে অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের সময় ১২ বছরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে অবৈধ অধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশ দেয় তদন্ত দল। এসময় বলা হয় ‘নীতিমালায় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১ জন প্রধানশিক্ষক অথবা ১ জন অধ্যক্ষ প্রাপ্য। কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানে ৩-১-১৯৯৫ ইং তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত ১ জন প্রধান শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১২-৮-২০২০২ ইং তারিখে মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় যা বিধিসম্মত নয়। এমতাবস্থায় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান এর নিয়োগ অবৈধ এবং ১-৫-০৪ হইতে ৩১-৭-০৬ ইং পর্যন্ত ৪৩০০/৬৮০০ টাকা স্কেলে তৎকর্তৃক গৃহীত বেতন ভাতা বাবদ ১,৫৭,০৮০/- (এক লাখ সাতান্ন হাজার আশি) টাকা সরকারি খাতে ফেরত যোগ্য। উক্ত তারিখের পর বেতন ভাতা গ্রহণ করে থাকলে তাহা ফেরতযোগ্য হবে।’
ইতিপূর্বে অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি যে বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন তা ফেরত দিতে হবে এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও অদৃশ্য খুঁটির জোড়ে সাংবাদিক হওয়ার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সভাপতির একক ক্ষমতাবলে আজও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সেই অধ্যক্ষ পদধারী সিনিয়র প্রভাষক। এ নিয়ে সৈয়দপুরের শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল বার বার একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি তুললেও কর্ণপাত করেননি সাবেক সভাপতি আমিনুল হক। এমতাবস্থায় বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন। তা না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েলের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, সেই সময় আমার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকলেও এখন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই এ পদে থাকায় কোন অসুবিধা দেখি না। সিনিয়র প্রভাষকের স্কেলে বেতন নেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আমিনুল হক এর ০১৭১৮৩১৪২৮২ মুঠোফোন নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ