বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সুন্দরবনে ডলফিন সংরক্ষণ প্রকল্পের জরিপ কাজের ৮০ ভাগ সম্পন্ন

 

খুলনা অফিস : বাংলাদেশের সুন্দরবনে বিপদাপন্ন গাঙ্গেয় ও ইরাবতি শুশুক (ডলফিন) এর আবাসস্থল। সুন্দরবনে তাদের জনসংখ্যার আকার এখনও সন্তোষজনক হলেও প্রজাতিটি ভৌগলিক পরিসরে হুমকিগ্রস্ত। এদেরকে সংরক্ষণের জন্য সাড়ে তিন বছর মেয়াদে ১২৮৪ কোটি ৯২২ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে।

প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জরিপের ফলাফলটি সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে।

জানা গেছে, সুন্দরবন অঞ্চলে বিপদাপন্ন প্রজাতি ডলফিন সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অগ্রিম পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে প্রজাতিটির বৈশ্বিক পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে। একই সাথে সুন্দরবনের জলজ প্রতিবেশ ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করতে পারে। এদিকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত। ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি’ এর অর্থায়নে সুন্দরবনে প্রচলিত ব্যবস্থাপনার ব্যাপক পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে গৃহীত প্রকল্পটি শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৮৪ কোটি ৯২২ লাখ টাকা। সুন্দরবন ও আশপাশের এলাকা নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন বন অধিদপ্তর ও ইউএনডিপি (ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম)। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে-ডলফিনের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল চিহ্নিত করা। আবাসস্থল সংরক্ষণ সম্বলিত প্রয়োজনীয় সকল সকল তথ্যাবলী সংগ্রহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা। প্রজাতিটি সংরক্ষণে গবেষণা ঘাটতি খুঁজে বের করে তার সমাধান করা। রক্ষিত এলাকায় ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার উন্নয়ন ও তার বাস্তবিক প্রয়োগ করা। সমাজভিত্তিক সম্পদ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ এবং মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সুন্দরবনের জলজ প্রতিবেশের কার্যকরী ব্যবস্থাপনায় প্রণীত কৌশলসমূহের পুনঃপ্রয়োগ করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ প্রকল্প বাংলাদেশের ১০% সামুদ্রিক জলজ প্রতিবেশের রক্ষিত এলাকা ঘোষণাকরণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে। ২০০৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুন্দরবনের নদীগুলোতে ইরাবতি ডলফিন ছিল ৪৫১টি আর শুশুক ছিল ২২৫টি। এই প্রকল্প গ্রহণের মেয়াদ শেষ হওয়ার বাকি আর মাত্র দুই মাস। এখনও পর্যন্ত ডলফিন জরিপ কাজ শেষ করা হয়নি।

প্রকল্পটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি ২০১৬ সালে গ্রহণ করা হলেও কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে। প্রকল্পের কাজ শুরু করার নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়। মেয়াদ শেষ পর্যায়ে হলেও এখনও পর্যন্ত ডলফিন জরিপের কাজও শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ