শুক্রবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ছড়া

দোয়েল পাখি

কবির কাঞ্চন

 

দোয়েল পাখি দোয়েল পাখি

সাদাকালোয় মাখামাখি

তোর যে দেহখান

সারাদেশে ডানা মেলি

আমার দেশে তুই যে পেলি

জাতীয় পাখির মান।

 

দোয়েল পাখি দোয়েল পাখি

কন্ঠে সুরের যাদু মাখি

যেই না ধরিস গান

মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকি

ভুলিয়ে বনের হাজার পাখি

তৃপ্তি করিস দান।

 

দোয়েল পাখি দোয়েল পাখি

তোর মধুর ঐ ডাকাডাকি

জুড়ায় আমার প্রাণ

পোকামাকড় করে পুঁজি

লেজ নাচিয়ে খুঁজিস বুঝি

বাংলাদেশের ঘ্রাণ।

 

 

প্রিয়তম দেশ

শাহীন রায়হান 

 

ভালোবাসি ফুল শিউলি বকুল

নীরব রূপালী নদী

ছুটে চলে মন সাদা কাশবন

বাতাসে দোলায় যদি।

 

ভিজা ঘাসফুল শরতের দুল

হেসে হেসে যায় ঝরে

মাঠ ভরা ধান ভাটিয়ালি গান

প্রাণটা আকুল করে।

 

হিজলের ডাল মহিষের পাল

মেঠো পথ রাখে ঘিরে

সোনা পাকা ধান ডেকে যায় বান

কৃষাণী স্বপ্ন নীড়ে।

 

শীতের শিশির ঝরে ঝিরঝির

সবুজ ধানের ক্ষেতে

কোকিলের গানে দোলা লাগে প্রাণে

বাতাস থাকে মেতে।

 

রোদ ঝলমল সোনালি ফসল

গোলা ভরে যায় সুখে

দোয়েলের শীষে শুধু যাই মিশে

নরম মাটির বুকে 

 

 

আজান

শাহীন খান

 

আজানের সুরে মন কেমন করে

দোলা লাগে কি যে আহা গোটা অন্তরে!

থাকতে পারি না আমি ঘরের মাঝে

থেকে থেকে এই বুকে সুর যে বাজে।

হেন কোন কাজ নেই রেখে দিই না

বিধাতা ছাড়া নাম মুখে নিই না।

আবেগেতে ছুটে চলি দিওনা আমি

মসজিদে গিয়ে আমি শোন গো থামি।

 

হেমন্তকাল এসেছে

মোজাম্মেল সুমন

 

হেমন্তকাল এসেছে যে ভোরের দূর্বাঘাসে,

হেমন্তকাল এসেছে যে শীতের পূর্বাভাসে।

হেমন্তকাল এসেছে যে সকালবেলার রোদে,

হেমন্তকাল এসেছে যে খোকাখুকির বোঁদে।

 

হেমন্তকাল এসেছে যে মাকড়শারই জালে,

হেমন্তকাল এসেছে যে সবুজ গাছের ডালে ।

হেমন্তকাল এসেছে যে দ্বি-স্বাদ বরই গাছে,

হেমন্তকাল এসেছে যে কুমড়োফুলের কাছে ।

 

হেমন্তকাল এসেছে যে সাতডোরারই ডানায়,

হেমন্তকাল এসেছে যে মাছ শিকারির বানায় ।

হেমন্তকাল এসেছে যে বক-শালিকের ঠোঁটে,

হেমন্তকাল এসেছে যে রূপ-কিশোরীর গোটে ।

 

হেমন্তকাল এসেছে যে হলুদরঙের গাঁদায়,

হেমন্তকাল এসেছে যে পগারেরই কাদায় ।

হেমন্তকাল এসেছে যে রাখালবাঁশির সুরে,

হেমন্তকাল এসেছে যে আমাদের মন জুড়ে ।

 

হেমন্তকাল এসেছে যে শ্বেতকুয়াশার গায়ে,

হেমন্তকাল এসেছে যে ঘাসফড়িংয়ের পায়ে ।

হেমন্তকাল এসেছে যে ফসলের ধানক্ষেতে,

হেমন্তকাল এসেছে যে শুনছি তা কান পেতে।

 

 

নীলসবুজের হাট

সুরাইয়া বিনতে রেজাউল

 

নীলসবুজের হাটে যাওয়ার

গল্প শুনবে ভাই?

এর মতো এক আজব হাট

কোথ্থাও আর নাই।

 

নানান রঙের ছড়া সেথা

যায় যে পাওয়া কিনতে

গল্পে এত বদলে যাবে

পারবেনাকো চিনতে।

 

বসে সেথায় নিত্য নতুই

সবুজ কুড়ির মেলা

সাথে আরও চলতে থাকে

বর্ণমালার খেলা।

 

ফুলেরা সব কথা বলে 

গাছেরা সব হাটে

বাড়িগুলো হাওয়ায় দোলে

মেঘগুলো সব মাঠে।

 

নীলকে সেথায় লাল দেখা যায়

সবুজ দেখায় কালো

নীলসবুজের হাটে গেলে

মন্দরা হয় ভালো।

 

সেথায় তোমার হিংসা - বিভেদ

সব হবে মিটমাট

আজব দেশের আজব জায়গা

নীলসবুজের হাট ।

 

 

চাঁদ উঠেছে 

নারায়ণ চন্দ্র রায় 

 

চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে 

চাঁদের বাড়ি কই?

দূরে নয় দূরে নয়

ওই দেখা যায় অই।

চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে 

খোকন সোনার বাড়ি, 

চাঁদ মামাকে দেখতে এলো 

পাড়ার নরও নারী। 

চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে 

খোকন সোনা হাসে, 

চাঁদমামাকে বুকে নিয়ে 

গভীর ভালোবাসে। 

 

 

রঙিন ঘুড়ি

মজনু মিয়া 

 

রঙিন ঘুড়ি রঙিন মনে

ওড়াই খোকন খুশি,

পাশেই ছিলো সবুজ টিয়ে

খাঁচায় তারেও পুষি।

 

টিয়ে পাখি কথা বলে

আমিও ওড়তে পারি,

দেখো খোকন একবার তুমি

আমায় দিয়ে ছাড়ি।

 

খোকন বলে ঘুড়ি সাথে

আছে সূতা বাঁধা, 

তুমি উড়লে আর না ফিরলে

এ যে ভীষণ ধাঁধাঁ!

 

টিয়ে পাখির কান্না দেখে

খোকন ছেড়ে দিলো,

ঘুড়ির চেয়েও উপর গিয়ে

টিয়ে না ফিরিলো।

 

 

 

পথশিশু

উসামা বিন আইয়ুব

 

 

পথশিশুরা অনাহারে 

দিনের পরে দিন

পেটের ক্ষুধায় কাতর তারা

কষ্ট সীমাহীন।

 

তাদের পানে দেখলে চেয়ে

চোখে নামে জল

আমার মতো তারও মানুষ 

এমন কেন বল?

 

ভেবে দেখো তাদের কথা

সব আমাদের দোষ 

দেখলে তাদের ঘৃণা করি

নেই আমাদের হুঁশ। 

 

আদর সোহাগ স্নেহ ছাড়া

কেমনে শিশু রয়

তাইতো তারা পথের শিশু

মানুষ নাহি হয়।

 

আমরা যারা সামর্থ্যবান

তাদের শিক্ষা দিবো

ভালোবেসে আপন ভেবে 

কাছে টানে নিবো।

 

তবেই সমাজ সুশীল হয়ে 

মুছবে কালো ছবি

থাকবে না আর পথের শিশু

উঠবে নতুই রবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ