শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

জলপরী

কাজী তানভীর : প্রতিদিনের মতো সেদিনও জেলে ভাই জাল কাঁধে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিল। মাছ না ধরে বিষন্ন মনে বসে আছে। নদীর পানির নড়চড় দেখে বুঝতে পারল যে,এখন মাছের বাচ্চা ফুটানোর সময়। এহেন সময় মাছ ধরা সুশোভন হবে না। চিন্তিত চিত্তে আরেক উপায় খুঁজছে, কী করা যায়! বাড়ি ফেরার সময় দুমুঠো চাল তো সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। না হয় সংসারের সদস্য সকলেরই না খেয়ে থাকতে হবে। খাওয়ার জন্যে তো বাঁচা নয়, বাঁচার জন্যে খেতে হয়! সম্বল হলো মাছ, জালবন্দী হয়ে কিছু মাছ আসবে, ওগুলো বিক্রি করে যা টাকা পায় তা দিয়  ঘরের জন্যে বাজার সদায় করে আনবে সম্ভবনাহীন ছোট্ট পরিসরের একটি পরিপাটি জীবন।

এমন সময় নদীর মাঝ থেকে উঠে আসলো একটা জলপরী।

জলপরী জিজ্ঞেসে করল, 'জেলে ভাই, আজ মাছ না ধরে বসে আছ যে? কি ব্যাপার এভাবে তো তোমাকে কখনো বসে থাকতে দেখিনি? খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে? কী, ছেলের মা গালি দিয়েছে?'

আরে ওসব না!  মাছ ধরতে এসেছিলাম ঠিকই। কিন্তু মাছের আনাগোনা দেখে বুঝতে পারলাম যে, না এখন মাছের বাচ্চা ফুটানোর সময়। আমি একজন সচেতন নাগরিক হয়ে কীভাবে অসচেতনমূলক কাজ করি!

আবার ভাবছি পরিবারে চৌদ্দমুখের খাবার কীভাবে জুঁটবে! তাই খুব চিন্তিত!

জলপরী বলল, 'সাবাস জেলে ভাই। আমি কী বলছি শোন। শহরে তো নানান ধরণের কাজ আছে। হয়তো সেগুলি করতে তোমার কষ্ট হবে!  তবুও আপাতত কোন একটা কাজ করে জীবিকা জোগাও। কেননা, তুমি যদি এখন মাছ ধরো, তাহলে চৌদ্দ মুখের খাবার জোগাতে গিয়ে চৌদ্দ হাজার পেটে পাথর বাঁধাবে!'

এসব শুনে জেলে ভাই জাল কাঁধে ফিরে যাচ্ছে বাড়িতে। অমনি জলপরী পেছন থেকে আবার ডাক দিল,' শোন প্রাত্যহিক যা খাবার পাও তার মধ্য হতে মাছদের জন্যে কিছু খাবার দিয়ে যেও'।

এভাবে প্রতিদিন জেলে ভাই অল্প অল্প খাবার নদীতে দিয়ে যায়। এদিকে মাছের বাচ্চাগুলোও বড়  হচ্ছে। নদী জুড়ে মাছের রব। মাছের সমাবেশে পানি দেখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে! জেলে ভাবছে, কিছুদিন পর মাছ ধরতে নামবো। আশা করি অনেক মাছ মিলবে।

একদিন খাবার দিয়ে চলে যাওয়ার সময়, জলপরী জেলেকে ডাকলো।

'জেলে ভাই কোথায় যাও?  ধরো তোমার পুরস্কার নিয়ে যাও'। এই বলে, জলপরী জেলেকে অনেক মাছ দিলো এবং বলল, ' বাজারে গিয়ে এসব বিক্রি করো, তোমার পরিবারকে খাওয়াও' জেলে ওসব বিক্রি করে আগাম এক বৎসরের জীবিকা নির্বাহ করল এবং পরিবারকে পেট পুরে খাওয়ালো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ