শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা-জামালপুর সড়ক নির্মাণ কাজে ধীরগতি জনদুর্ভোগ চরমে

কাজের ধীরগতি জনদুর্ভোগ চরমে

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : ধীরগতিতে চলছে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণ কাজ। প্রশস্তকরনের জন্য খোঁড়াখুড়ি করায় পুরো সড়কই এখন খানা খন্দে পরিনত হয়েছে। যার কারণে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বাড়ছে প্রাণহানি। ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে পণ্যবাহী যানবাহন ও সাধারন যাত্রীরা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল একনেকের ২১তম সভায় অনুমোদিত হয় এলেঙ্গা-জামালপুর ন্যাশনাল হাইওয়ে প্রশস্তকরণ প্রকল্প। ৭৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মহাসড়কটির প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৯ দশমিক ৮২ কোটি টাকা। সড়কটি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে কালিহাতী ,ঘাটাইল, মধূপুর, ধনবাড়ি ও সরিষাবাড়ি হয়ে জামালপুর পর্যন্ত যাবে। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের জুন নাগাদ। কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন এবং জামিল অ্যান্ড কোম্পানি। এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে শুরু হয় মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজ। কাজের শুরটাই হয় ধীরগতিতে। শুরুতেই সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সড়কের দুই পাশে মাটি খুঁড়ে গর্ত করা হয় এবং ঘাটাইল উপজেলা সদরসহ সড়কের এক পাশে যানবাহন চালু রেখে সড়কের অপর পাশে পেভমেন্ট ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। দুটো কাজই ধীরগতিতে চলার কারণে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে সারা সড়কেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। খানাখন্দের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্তে পানি জমে যাচ্ছে । পানি জমা গর্তে পড়ে অনেক যানবাহন বিকল হচ্ছে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার রোদে ধুলোর কারণে শিশু, কিশোর স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ জনসাধারনের সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।  প্রশস্তকরণের জন্য সড়কের দুই পাশে মাটি খুঁড়ে গর্ত করার কারণে যানবাহনগুলি স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছে না । অরক্ষিত খাদে পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১ অক্টোবর ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বেকারকোনা নামকস্থানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খনন করা অরক্ষিত খাদে একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে গিয়ে ৩০ জন যাত্রী আহত হয়। গত ২৪ অক্টোবর কালিহাতী সদরে বাস খাদে পড়ে ১৫ জন আহত হয়। খানাখন্দের কারণে গত ১৩ আগষ্ট ঘাটাইল উপজেলা সদরের বানিয়াপাড়া নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে ১ জন নিহত হয় আহত হয় ২০ যাত্রী। এ ছাড়া খানাখন্দের কারণে সিএনজি, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও রিক্সা  প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। উপজেলা সদরের পেভমেন্ট ঢালাইয়ের যে কাজ করা হয়েছে তা নিয়মমাফিক করা হয়নি বলে অভিযোগ সাধারন জনগণের। ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ম্যানেজার হাফিজুর রহমান বলেন, বন্ধ নয় নির্মাণ সামগ্রির অপ্রতুলতাসহ নানা কারণে মাঝখানে কাজের কিছুটা ধীরগতি ছিল গত মঙ্গলবার থেকে আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। ঘাটাইলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ঠিাকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে এবং জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায়ও আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ  জনভোগান্তির কথা বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ