শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খালেদা জিয়া-তারেক রহমান শাস্তি পেয়েছেন খুচরারাও পাবে -প্রধানমন্ত্রী

গতকাল মঙ্গলবার ২৯ অক্টোবর ২০১৯ গণভবনে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

# আইসিসি সাকিবকে শাস্তি দিলে সরকারের পক্ষে খুব বেশি কিছু করণীয় নেই
# পেঁয়াজ ছাড়াতো রান্না হয় হৈ চৈ করার কি আছে?
# নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার (মেনন) জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়
# এতদিন ধরে ক্যাসিনো পরিচালিত হয়ে আসছে আপনারা তো কেউ নিউজ করলেন না
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপিকে দুর্নীতির খনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের সমালোচনার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দলের কথা বলছেন তারা তো দুর্নীতির খনি। তাদের মুখে এত কথা আসে কোথা থেকে? তারা খুনি ও দুর্নীতিবাজ। ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট থেকেই তাদের খুন ও দুর্নীতির রাজনীতি শুরু। তাদের চেয়ারপারসন ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতির ঘটনায় দ-প্রাপ্ত ও অভিযুক্ত।
গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে আজারবাইজান সফর নিয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলের নেতারা। তাদের বক্তব্যে আপনি ভীত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্যানুসন্ধান করেছে। তারা আমাদের বিষয়ে তদন্ত করেছিলেন। তবে এসময় তাদের দুর্নীতির তথ্যই উঠে আসে। সে সব তথ্য নিয়েই তাদের নেতাদের ধরা হয়েছে। তাদের দুর্নীতির টাকাও উদ্ধার করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মূল দুর্নীতিবাজ দুজন তো শাস্তি পেয়েই গেছেন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। তাদের আরও কিছু খুচরা নেতা আছে। দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুন বহু অপরাধে অপরাধী এই নেতাদেরও সাজা পেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী এসময় অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন নারীদের ওপর নির্যাতন করা হয়, তেমনিভাবে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা অত্যাচার চালিয়েছে।
অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি ভীত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছি। বাবাকে দেখেছি কীভাবে সাহস করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। তাই বলতে চাই, ভয় পেলে এমন অভিযান করতাম না। তাই কোনও ভয় আমি পাই না।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাকিব আল হাসানের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিলে সেক্ষেত্রে খুব বেশি করণীয় থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাকিবের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সঙ্কট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাকিব যেটা করেছে, তার কাছে জুয়াড়িরা যোগাযোগ করেছে, সে হয়তো সেটাকে গুরুত্ব দেয়নি। নিয়মটা হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে আইসিসিকে জানানো। আইসিসি ব্যবস্থা নিলে সেক্ষেত্রে খুব বেশি করণীয় থাকে না।
চলমান ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযান অব্যাহত, সময়ই বলে দেবে কারা এর আওতায় আসছে। তিনি বলেন, অপরাধী অপরাধীই। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
এ অভিযানকে বিরোধী পক্ষ আইওয়াশ বলছে। এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইওয়াশ করতে যাব কেন। আইওয়াশ করাতো ভাল জানে বিএনপি। দেশে দুর্নীতিকে নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিএনপি। তাই অভিযান চলছে, অপেক্ষা করেন আইওয়াশ কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।
পিঁয়াজের দামের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাম খুব শিগগিরই কমে আসবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ১০ হাজার টন পিঁয়াজ আসবে। আর সামনে নতুন পিঁয়াজের মওসুম। এই অবস্থায় মজুতদাররা পিঁয়াজ মজুত করলে তারা নিজেরাই ক্ষতির মধ্যে পড়বে।
তিনি বলেন, পেঁয়াজ ছাড়াতো রান্না হয়। তাহলে  পেঁয়াজ নিয়ে হৈ চৈ করার কি আছে।  পেঁয়াজ গুদাম মজুদ করে রেখেছেন এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ি। তারা কত দিন গুদামে রাখতে পারে রাখুক। কিছু দিন পর এসব  পেঁয়াজ ঠিকই নষ্ট হয়ে যাবে।
নুসরাত হত্যার দ্রুত বিচারের উদাহরণ দিয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চান সম্প্রতি যেসব দুর্নীতিবাজকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাদের বিশেষ কোন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা এখন জেলে আছে এটি তাদের জন্য শাস্তি কিনা? হত থাকবে।
সম্প্রতি বরিশালে গিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির এক অনুষ্ঠানে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন দলটির সভাপতি ও ওই নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে জয়ী সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। তার এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলেও তার বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ১৪ দল। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে  তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে ১৪ দলীয় জোটের ওই নেতাও বিতর্কিত হয়ে পড়েন। তবে তার বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।
রাশেদ খান মেননের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জোটের নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, তার মনে তো কষ্ট থাকতেই পারে। কিন্তু, এটাও ভাবতে হবে তিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তার জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে জোটের মুখপাত্র নাসিম সাহেব আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। জানতে চেয়েছেন, আমার বক্তব্য আছে কিনা।  আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। এসব বিষয় নিয়েই যদি পড়ে থাকি তাহলে দেশের উন্নয়নে কাজ করবো কখন?
রাশেদ খান মেনন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাকে তো আমি বহুদিন থেকেই চিনি। আমরা একসাথেই রাজনীতি করেছি। ‘৭০ সালে যখন নির্বাচন দেওয়া হলো তখন তিনি স্লোগান দিলেন, ভোটের বাক্সে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। কিন্তু, তখন ভোট না হলে তো বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। ‘৭২ সালে যখন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হলো তখন বলেছিলেন, ‘বেরুবাড়ি বেচে দিলো,’ ‘বেরুবাড়ি বেচে দিলো’। কিন্তু, পরবর্তীতে সবাই দেখেছেন বেরুবাড়ি বেচে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কিছু করে না। বেরুবাড়িতে ভারত ভারতের অংশ পেয়েছে, আমরা আমাদের অংশ পেয়েছি। এসবের প্রেক্ষিতে ১৪ দল বসেছে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমন বক্তব্য তিনি হয়তো আরও দেবেন, এতে আমার কোনও মন্তব্য নেই।’’
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মজা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘(উনি) বলে তো ভালো করেছে। সাংবাদিকরা লেখার খোরাক পেয়েছেন। না বললে কী লিখতেন।’
শেখ হাসিনা এ সময়ে আরও বলেন, জনগণ যদি ভোট না দিত, আমাদের পক্ষে না থাকতো তাহলে আমাদের সমর্থন থাকতো না। তাদের (বিএনপি) ভোটবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমাদের জনসমর্থন ছিল। এবারের নির্বাচনের পর জনগণ, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। শুধু আওয়ামী লীগের না, বিএনপির ব্যবসায়ীরাও আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। কারণ আমরা সবার জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাংলাদেশে যেদিন এসেছি, সেদিন থেকেই ভয় নেই। আমার বিরোধীরা বিদেশের মাটিতে সক্রিয়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে আমি এসবকে ভয় পাই না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়ন করে। আমরা ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। ন্যাম সম্মেলনে যাওয়ার পর সবাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। সেখানকার প্রবাসীদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তারা বলেছেন তারা ভালো আছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা খুশি। তাই কারও কথায় কিছু যায়-আসে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মূল দুর্নীতিবাজদের দুজন তো শাস্তি পেয়েই গেছেন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। তাদের আরও কিছু খুচরা নেতা আছে। দুর্নীতি, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ খুনসহ বহু অপরাধে অপরাধী এই নেতাদেরও সাজা পেতে হবে।
চলমান শুদ্ধি অভিযানে রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী এমনকি সাংবাদিকদেরও নাম এসেছে। একে সমাজের নানা মহল থেকে সাধুবাদ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাংবাদিক মামুনুর রহমান খান বলেন, বিএনপি এই অভিযানকে বলছে আইওয়াশ। মূল অপরাধীদের আড়াল করার জন্য সরকার এটা করছে।
এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আইওয়াশ করতে যাবো কেন? আমি তো আমার আপন-পর কিছু দেখিনি। যারাই অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদেরই ধরা হচ্ছে। তাহলে আইওয়াশ বলে কী করে?
আইওয়াশের ব্যবসা বিএনপিই ভালো জানে-বোঝে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশটাকে দুর্নীতিতে নিয়ে এসেছে তো বিএনপি। দুর্নীতিকে ‘নীতি’তে নিয়ে এসেছে তারা।
এ সময় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে কীভাবে মানি লন্ডারিং কালচার, ঋণখেলাপি, ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া, শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু করেন, সেসবের ফিরিস্তি দেন সরকারপ্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এলেন। তিনি আরেক ধাপ ওপরে। আর খালেদা জিয়া তো দোকানই খুলে বসলেন। একদিকে হাওয়া ভবন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এমন কিছু করেনি দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ নাকি অন্য কিছু, অপেক্ষা করুন দেখতে পাবেন।
কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দেখতে গিয়ে তিস্তা নদী নিয়ে কূটনৈতিক কোন আলোচনা হবে কিনা এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাল্টা প্রশ্ন, ক্রিকেটকে নদীতে নিয়ে যাচ্ছেন কেন?
জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে ফোন করেছিল সৌরভ গাঙ্গুলী। সে একজন বিখ্যাত খেলোয়াড়, ভারতের ক্যাপ্টেন ছিলেন, এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি হচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। সে ফোন করে আমাকে কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখা দাওয়াত দিয়েছে। আমি বলেছি আমি আসবো। ক্রিকেট খেলা দেখতে যাবো সেখানে তিস্তা নিয়ে কথা বলে তিক্ততা এখানে তুলবো কেন?
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, ওই খেলা দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন না। আর কূটনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কথা বলার তো আরও সময় আছে। তখন কথা হবে।
অপরাধীদের কোনও দল নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনও ক্রাইটেরিয়া ঠিক করে কাউকে ধরছি না। অপরাধের সঙ্গে জড়িত যখন যাকে পাচ্ছি ধরা হচ্ছে। ধরার পর বোঝা যাচ্ছে কে কী করে। যে-ই অপরাধ করুক অবশ্যই ধরা হবে।’
দীর্ঘ দিন ধরে দেশে অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালিত হয়ে এলেও কোনো গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার করেনি বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এতদিন ধরে ক্যাসিনো পরিচালিত হয়ে আসছে, কই, আপনারা তো কেউ কোনো নিউজ করলেন না। ক্যাসিনো খেলার জন্য এরকম আধুনিক যন্ত্রপাতি এসেছে, আপনারা জানতে পারলেন না? আমিই তো এদের ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এতগুলো চ্যানেল আছে, আপনারা কেউ নিউজ করতে পারলেন না? আমরাই এদের ধরব, আবার আমাদেরই প্রশ্ন করবেন সেটা তো হতে পারে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ঘোষণা, পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়া এবং বিসিবির একজন পরিচালকের ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করেন একজন সাংবাদিক।
এসময় ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা হঠাৎ করেই একটা ধর্মঘট ডেকেছে। তাদের দাবি থাকলে তো জানাতে পারত। কথা নেই বার্তা নেই, হুট করে ধর্মঘট ডাকা জীবনে শুনিনি ক্রিকেটাররা এভাবে ধর্মঘট ডাকে। পরবর্তী সময়ে তারা বোর্ডে গেছে। সে ঝামেলা মিটমাট হয়ে গেছে। আমার মনে হয় পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যারা এভাবে ক্রিকেটারদের সমর্থন দেয়।
বিসিবির একজনের ক্যাসিনোতে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনোর যে প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, সেটা বোধহয় ঠিক না। কে বাইরে কী করছে, সেটার সঙ্গে বিসিবির কোনো সম্পর্ক নেই। খোঁজ করলে সাংবাদিকদের ভেতরেও হয়তো ক্যাসিনোতে জড়িত কাউকে পাওয়া যাবে। তখন কী হবে? আমরা তো অভিযান চালাচ্ছি। কে কখন কিভাবে ধরা পড়বে, বলা যায় না। আমরা কিন্তু ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের ধরেছি। তাদের কেউ বহাল তবিয়তে আছে, সেটাও ঠিক না।
এর আগের এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, এখন আপনারা খুঁজে দেখেন, কোথায় কী পাওয়া যাচ্ছে। কারও যদি জুয়া খেলার আকাক্সক্ষা থাকে, হোম মিনিস্টারকে বলেছি ট্যাক্স বসান, নীতিমালা করেন। অন্তত ট্যাক্স তো পাওয়া যায়।
জুয়ারির প্রস্তাবের তথ্য গোপন করায় জাতীয় টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আইসিসি’র শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিসিবি সবসময় সাকিবের পাশে আছে। সে (সাকিব) ভুল করেছে। আইসিসি তাকে শাস্তি দিলে সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু করণীয় নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ