রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সিলেটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার ॥ স্বামী-শ্বশুর আটক

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের ওসমানীনগরে মায়া বেগম (২৫) নামের নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তাজপুর ইউপির কাদিপুর গ্রামে গৃহবধূর স্বামীর বসতঘর থেকে লাশ উদ্ধার করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। নিহত মায়া বেগম উপজেলার কাদিপুর গ্রামের সজ্জাদ মিয়ার (৩৫) স্ত্রী ও জগন্নাথপুর উপজেলার জয়দা গ্রামের আনা মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মায়া বেগমের স্বামী উপজেলার তাজপুর ইউপির কাদিপুর গ্রামের সজ্জাদ মিয়া ও শশুর নজির মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও নিহত গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগমের স্বামীর বাড়ি থেকে ফোনে নিহতের পিতা ও মামার বাড়িতে জানানো হয় দ্রুত কাদিপুরে মায়ার শ্বশুর বাড়িতে আসার জন্য। খবর পেয়ে মায়া বেগমের স্বজনরা মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মায়া বেগমের নিথর দেহ ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মায়া বেগমের পিতার পরিবার ওসমানীনগর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধু মায়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে।
নিহত মায়া বেগমের মামা উপজেলার দয়ামীর ইউপির চক মন্ডলকাপন গ্রামের কালাম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নিকে যৌতুকের জন্য তার স্বামী সজ্জাদ মিয়াসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। মায়ার লাশ নামাজরত অবস্থার মত গলায় রশি লাগানো গিয়ে দেখেছি আমরা। আমার ভাগ্নির ৫ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং সে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। যৌতুকের জন্য মায়ার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করত। গত কয়েক দিন আগে তার স্বামীকে আমরা চারটি গরু দিয়েছি। আমার ভাগ্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তÍুতি নিচ্ছি।
ওসমানীনগর থানার থানার নবাগত ওসি রাশেদ মোবারক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী সজ্জাদ মিয়া ও শ্বশুর নজির মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ