রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

টঙ্গীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৮ জন ডাকাত গ্রেফতার

টঙ্গী সংবাদদাতা: টঙ্গীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র ও ওয়াকিটকিসহ ৮ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হলো, শহিদ আকন্দ (৪২), জাকির হোসেন ওরফে কামাল (৩৫), শাজাহান (৩৫), মাহাবুব মানিক (৩১), বাবু ইসলাম ওরফে পিচ্চি বাবু (২৮), আল আমিন হোসেন (৩৬), নুর ইসলাম (২৯) ও আর্জিনা বেগম (২৩)। এ সময় তাদের কাছ থেকে  ১টি দেশীয় তৈরি শর্টগান, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, ১টি পিস্তল কভার, ১ টি প্রাইভেটকার, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ৩ টি ডিবি লেখা জ্যাকেট, ৪ টি ধারালো ছুরি, ১ টি চাপাতি, ২০ টি মোবাইল ফোন, ১টি কাটার, ১ টি গ্রান্ডিং মেশিন, ১ টি হেক্স ব্লেড, ৮ টি গাড়ীর নাম্বার প্লেট, ৩ টি তালা খোলার রড, ৪ টি ওয়াকিটকি চার্জার ও নগদ ৪,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদেরকে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জানান, সোমবার রাত পৌনে ১১টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে টঙ্গী ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ এর কম্পানি কমান্ডার এএসপি সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাব-১ এর একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ২০১৩ সাল থেকে ১৫/১৬ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটি ডিবি জ্যাকেট, ওয়াকিটকি ইত্যাদি ব্যবহার করে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
সাম্প্রতিক সময়ে এই চক্রটি গাজীপুর মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাইভেটকারে ও মাইক্রোবাসে করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রথমে টার্গেট নির্ধারণ করে যেমন স্বর্ণের দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ধরণের দোকান ইত্যাদি। পরবর্তীতে এই চক্রের ৪/৫ জন সদস্য নির্ধারিত টার্গেটে এসে ডাকাতির পরিকল্পনা করে এবং একই সময় এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা রাতের বেলায় বর্ণিত স্থানে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঘুরাঘুরি করে এলাকায় ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি ডিবি পরিচয়ে তাদের এখানে কাজ আছে বলে  নৈশপ্রহরীদেরকে  অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে ডাকাতি করে।
এছাড়াও এই চক্রের সদস্যরা রাস্তায় সাধারণ যাত্রীকে প্রথমে টার্গেট করে। তারপর ভিকটিমদের কাছে নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তোলে। প্রাইভেটকারে উঠানোর পর ভিকটিমের হাত-পা বেধে মারধর করে মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয় এবং ভিকটিমের কাছে টাকা না থাকলে বিকাশের মাধ্যমে ভিকটিমের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। অতঃপর গাড়ীর ভেতরে ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এসময় এই চক্রের সদস্যরা যাত্রী হিসেবে গাড়ীতে থাকে যেন বাইরের কেউ সন্দেহ না করে।
এছাড়াও এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংকের গ্রাহকদের অপহরণ ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে থাকে। প্রথমত তাদের দলের ১/২জন ছদ্মবেশে ব্যাংকের বাহিরে, ২/৩ জন গ্রাহকের ছদ্মবেশে ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। অতঃপর তারা সুবিধাজনক গ্রাহকদের সনাক্ত করতে চেষ্টা করে। যে গ্রাহক বেশি টাকা উত্তোলন করে কিন্তু নিজস্ব গাড়ী নেই সাধারনত তাদেরকে টার্গেট করে থাকে। অতঃপর ভেতরের একজন ব্যাংক থেকে বের হয়ে এসে বাহিরের জনকে টার্গেট বুঝিয়ে দেয় অথবা সরাসরি তারা মোবাইলের মাধ্যমে মূলদল বাহিরে অবস্থানরত দলকে অবহিত করে থাকে। অতঃপর মাইক্রোবাসটি পেছন থেকে অথবা কখনও সামনে থেকে এসে সুবিধাজনক স্থানে ভিকটিমের গতিরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভিকটিমকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। অতঃপর গাড়ীর ভিতরে ভিকটিমকে চোখমুখ বেঁধে নির্যাতন করে সমস্ত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়।
চক্রের সদস্যদের অপরাধকালীন সময়ে স্ব-স্ব নির্দিষ্ট দায়িত্ব পূর্ব হতে বন্টন করা থাকে। যেমন ডিবি অফিসারের ন্যায় ভূমিকায় কে থাকবে, কে হ্যান্ডকাফ পড়াবে, কে টার্গেট নির্ধারন, কে ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগ করবে ইত্যাদি। ধৃত আসামী শহিদ আকন্দ ও জাকির হোসেন কামাল এই চক্রের প্রধান হিসেবে যাবতীয় বিষয়াদি তদারকি করে থাকে। এই চক্রের সকল সদস্য গাড়ী চালাতে পারদর্শী এবং সকলেই ইয়াবা আসক্ত।
শহিদ আকন্দ র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে উক্ত অপরাধী চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করে। সে ৮/৯ বছর আগে গাজীপুর মহানগরীতে রিক্সা চালাত। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন দোকানে চুরি করা শুরু করে। এক পর্যায়ে সে উক্ত অপরাধের সাথে জড়িয়ে পরে। সে ২০১৭ সালে চুরি করার কারণে ২ মাস কারা ভোগ করে এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে ৪ মাস কারা ভোগ করেছে বলে জানায়। সে ২০১৩ সালের দিকে ধৃত আসামী জাকির হোসেন কামালকে নিয়ে এই সংঘবদ্ধ দলটি গঠন করে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪/৫ টি ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই মামলা রয়েছে বলে জানায়। সে এই পর্যন্ত ২০০ টিরও বেশি চুরি, ডাকাতি করেছে বলে স্বীকার করে।
জাকির হোসেন কামাল র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ধৃত আসামী শহিদ এর প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে। সে ডাকাতির সময় ডিবি অফিসার এর ন্যায় বেশভূষা ধারণ করে। সে ৮/১০ বছর যাবত এই চক্রের সাথে জড়িত। সে ধৃত আসামী শহিদের মাধ্যমে এই চক্রে জড়িত হয়। ২০১৪ সালে সবুজবাগ থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে ৩ মাস কারা ভোগ করেছে এবং ২০১৯ সালে ডাকাতির অপরাধে ৩ মাস কারা ভোগ করেছে বলে জানায়। তার নামে সবুজবাগ থানায় ২ টিসহ বিভিন্ন থানায় ৪/৫ টি ডাকাতি মামলা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ