শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনায় ১২ খণ্ড করে যুবক হত্যা মামলায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল

খুলনা অফিস : খুলনায় ১২ খণ্ড করে সাতক্ষীরার হাবিবুর রহমান সবুজ নামের এক যুবককে হত্যা মামলায় ৫ জনকে আসামী করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক শেখ আবু বকর খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরকীয়া প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৫ জন সরাসরি নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

চার্জশিটভুক্ত আসামীরা হলেন-সরদার আসাদুজ্জামান ওরফে আরিফ, অনুপম মহলদার, খলিলুর রহমান, গাজী আবদুল হালিম ও একেএম মোস্তফা চৌধুরী মামুন। এর মধ্যে একেএম মোস্তফা চৌধুরী মামুন পলাতক এবং বাকি ৪ আসামী কারাগারে রয়েছে। মামলার চার্জশিটে ৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। নিহত হাবিবুর রহমান সাতক্ষীরা সদরের উমরা এলাকার আবদুল হামিদ সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরার একটি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করতেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৭ মার্চ সকালে নগরীর শের-এ বাংলা রোড থেকে পলিথিনে মোড়ানো হাবিবুর রহমানের লাশের একটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দুপুরে ফারাজীপাড়া রোডের ড্রেনের পাশ থেকে দু’টি ব্যাগে থাকা তার মাথা ও দুই হাতসহ খণ্ড খণ্ড অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে গত ৯ মার্চ খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব-৬ সূত্র জানায়, গত ১১ মার্চ র‌্যাবের সদস্যরা নগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সরদার আসাদুজ্জামান ওরফে আরিফকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরীর ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের হাসনাত মঞ্জিলে তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় তিন মাস ধরে এই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন আসাদুজ্জামান। র‌্যাব জানায়, আসাদুজ্জামানের ঘরের খাটের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো নিহত হাবিবুরের কাটা পা ও বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল ছুরি ও দা উদ্ধার করে র‌্যাব। নিহত হাবিবুরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আসাদুজ্জামানের ঘরে পাওয়া যায়। র‌্যাবের আরেকটি টিম বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত যুবক অনুপম মহলদারকে আটক করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত খুলনা থানা থেকে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই সূত্র জানায়, তারা গত এপ্রিল মাসে হত্যাকাণ্ডে জড়িত খলিলুর রহমান ও গাজী আবদুল হালিমকে আটক করে।

সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগে নিহত হাবিবুর ও পলাতক আসামি একেএম মোস্তফা চৌধুরী মামুন পৃথক মামলায় কারাগারে ছিলেন। কারাগারে তাদের পরিচয় হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে হাবিবুর কারাগার থেকে জামিনে বের হন। হাবিবুর জেল থেকে বের হওয়ার সময় মোস্তফা তাকে কারামুক্ত করতে সহযোগিতার অনুরোধ জানান এবং তার স্ত্রী রিক্তার মোবাইল নম্বর দেন। কিন্তু হাবিবুর তাকে কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি মোস্তফার স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। হাবিবুর রিক্তাকে নিয়ে কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। এছাড়া মোস্তফার বোনের সঙ্গেও তিনি পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। মোস্তফা কারাগার থেকে বেরিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তার অনুরোধে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আরও ৪ জন হাবিবুরের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। ওই ৪ জনের সঙ্গেও মোস্তফার পরিচয় কারাগারে থাকাকালীন। গত ৬ মার্চ রাতে ফারাজীপাড়া এলাকায় আসাদের বাসায় হাবিবুরকে ডেকে চেতনানাশক ওষুধ মেশানো মিষ্টি খাওয়ানো হয়। হাবিবুর অচেতন হয়ে পড়লে ৫ জনে মিলে তাকে হত্যা করে এবং এরপর লাশ ১২ খণ্ড করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক শেখ আবু বকর জানান, পরকীয়া প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ৫ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মূল আসামি একেএম মোস্তফা চৌধুরী মামুন এখনও পলাতক রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ