মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

দ্রুততম কিশোর সামিউল

স্পোর্টস রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ওয়ালটন জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। শুক্রবার প্রথম দিনে কিশোর বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১১.৪১ (ইলেক্ট্রনিক্স টাইম) সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্রুততম কিশোরের খেতাব জিতে নেয় খুলনার সামিউল ইসলাম। এ নিয়ে তৃতীয়বার জুনিয়র মিটে অংশ নিচ্ছে। তার কথায়, ‘ ২০১৬ সালে প্রথম জুনিয়র মিটে অংশ নিয়েছিলাম। তখন দল বাঁচানোর জন্য সব ইভেন্টেই অংশ নিতে হয়েছিল! কিন্তু কোন পদক পাইনি। যদি একটিতে খেলতাম, তাহলে ঠিকই কোন না কোন পদক জিততাম।’ বিকেএসপির মতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এ্যাথলেটদের পেছনে ফেলে প্রথম হয়ে খুবই আনন্দিত সামিউল, ‘যখন হিটেও ওদের হারাই, তখনই আত্মবিশ^াস অনেক বেড়ে গিয়েছিল। বুঝতে পেরেছিলাম ফাইনালেও চেষ্টা করলে ওদের হারাতে পারবো। সেটাই হয়েছে। মজার ব্যাপার- আমি আসলে ১০০ মিটারের স্প্রিন্টার নই। আমার মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার।

এবার সামিউল জানালো ফুটবলার থেকে অ্যাথলেট হয়ে উঠার গল্প, ‘আমি ১০০ মিটার স্প্রিন্টের জন্য কোন অনুশীলনই করিনি। আমি মুলত একজন ফুটবলার। এটা আমার খুব প্রিয় খেলা। খুলনা প্রথম বিভাগ লিগে খেলি দিঘলিয়ার হয়ে। একবার ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবলে অংশ নিয়ে সারা দেশের মধ্যে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলাম (২০১৬ সালে)। পাশাপাশি বিজেএমসির হয়ে টুকটাক অ্যাথলেটিকসও করি। ফুটবলে মৌসুমে খ্যাপ খেলে ১৫/২০ হাজার টাকা আয় করি। পুরো টাকা দিয়ে আমাদের সংসারটা চলে। এই মৌসুমে কয়েকটি হ্যাটট্রিকসহ ৪০টার মতো গোলও করেছি ফরোয়ার্ড পজিশনে। সর্বশেষ ৩ ম্যাচে ২ গোল করেছি।’

দরিদ্র পরিবারের সন্তান সামিউল বলে, ‘আমি খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবা মহিউদ্দিন শেখ কৃষিকাজ করেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকেন। ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। তারপরও কাজ করার চেষ্টা করেন। তখন এটা দেখলে কষ্টে আমার বুক ফেটে যায়। আমি সংসারের বড় ছেলে (মোট ৪ ভাইবোন), সব দায়িত্ব আমার ঘাড়ে। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি দিঘলিয়া এমবি মুজিব সরকারী কলেজে। ছাত্র হিসেবেও খুব বেশি ভাল নই! আমার ধ্যানজ্ঞান সব খেলাধুলাকেই ঘিরেই।’ ফুটবল কিংবা অ্যাথলেটিকস- ভবিষ্যতে যে কোন একটি ডিসিপ্লিনে খেলে দেশের সম্মান বাড়াতে চায় সামিউল ইসলাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ