বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় এখনও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

খুলনা অফিস : খুলনার বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ইব্রাহিম শেখ (৭৭) নামে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী গ্রামে।

সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস জানান, রোগী ইব্রাহিমকে বুধবার এখানে আনার পর রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

ইব্রাহিম শেখের ছেলে ইবনুল হাসান মিনার জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হাওয়ায় গত মঙ্গলবার তার বাবাকে খুলনার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার রাতে তাকে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রক্ত পরীক্ষা করার পর বৃহস্পতিবার সকালে  চিকিৎসকরা জানান তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।

সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে  চলতি বছর খুলনায় এ নিয়ে মোট ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু মওসুম শেষ হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসেই। তবে খুলনায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। বিশেষ করে আশেপাশের জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হচ্ছে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সাত্তার নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আর চিকিৎসা নিয়েছে ১০ হাজার দুইশ’ রোগী। অপরদিকে মওসুমের পরও ডেঙ্গু আক্রান্ত নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে চিকিৎসকরা বলেন বৃষ্টি যতদিন থাকবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ততদিন ।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী ভর্তি সংখ্যা একটু একটু করে কমে এসেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেও গড়ে ১০৭ জন করে নতুন রোগী ভর্তি হলেও গত এক সপ্তাহে সেই সংখ্যা পঞ্চাশের নিচে নেমে এসেছে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও আস্তে আস্তে কমছে। 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে খুলনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত যত ধারণা সব এবার পাল্টে গেলো। অক্টোবর মাসও শেষের দিকে। প্রতি বছর এ সময় শীতের আমেজ থাকলেও এবার আজ (গতকাল) বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি জমে থাকবে সেখানেও এডিস মশা ডিম পাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কোন কিছুর সংকট নাই। এখন থেকে বছরজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকেই খুলনায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি কিছুটা কম ছিল। ওই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে নতুন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন রোগী ভর্তির হার একবারে পড়তির দিকে ছিল। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের ডেঙ্গু পরিস্থিতির আবারও কিছুটা অবনতির দিকে যায়। এখন পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে। বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৮। এর আগে গত এক সপ্তাহে গড়ে ৪১ জন রোগী ভর্তি ছিলো খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে এ বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২শ’ জনে। 

এদিকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন খুলনার বাইরের জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন মো. আব্দুস সাত্তার (৫৫) নামের এব ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পৌনে চারটায় তার মৃত্যু হয়। আব্দুস সাত্তার সাতক্ষীরা তালা উপজেলার চরবামুনদিয়ার মৃত রহমাতুল্লার ছেলে। এছাড়া গত বুধবার সজীব খান (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে নতুন রোগী ভর্তির হার কিছুটা বেড়েছিল। এখন নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা সিঙ্গেল ডিজিটে চলে এসেছে। খুমেক হাসপাতালে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলো তার আগের দিন ৪১। চলতি সপ্তাহে ৫০ নিচে চলে এসেছে।। বাকি ১ হাজার ৪৭০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ