বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে ---মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘প্রধান স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার শুরু আওয়ামী লীগই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ২০১৯ সাল এই সরকারের জন্য একটা ব্যাড লাক। কারণ হলো, এই সরকার সত্যিকার অর্থে সংবিধানসম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। আর গত ২৯ ডিসেম্বর একটা সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই একটি ভোটবিহীন সরকার দেশ পরিচালনা করতে শুরু করেছে। সেজন্য ব্যাড লাক তো আসতে বাধ্য। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে যে নির্যাতন, নিপীড়ন, অত্যাচার, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও কুশাসন চলেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। প্রথমে তারা (সরকার) মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতে অভিযান শুরু করলেন, অনেক অভিযান করেছেন। অনেক মানুষকে ক্রসফায়ারে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারে নাই! কারণ এরা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। আর এটা এখনো চলছে। তারা কিছুই করতে পারে নাই। সুতরাং এগুলো হচ্ছে আইওয়াশ।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে প্রধান স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। আবু মোজাফফর মো. আনাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, জাতীয় পার্টি (জাফর) সভাপতি মোহমশফা জামাল হায়দার, শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ। 

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটা পুলিশি রাষ্ট্র। যার কারণে আজকে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। সমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন অবস্থা বিরাজ করছে। মা ছেলেকে খুন করছে। ছেলে মাকে খুন করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। ছেলে বাবাকে খুন করছে। যারা এগুলো করছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। তারা জানে যে, অপরাধ করলেও তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই। ধরা পড়লেও তারা দ্রুত রেহাই পেয়ে যাবে। ফলে বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানসম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। ২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ১০ বছরের যে নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি-দুঃশাসন, সেটির বহি:প্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বহু নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারেনি। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর শুরু হলো শোভন-রাব্বানীর চাঁদাবাজির কান্ড। গত ১০ বছরে এই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ মানুষের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করেছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নাই যেখানে ছাত্রলীগের টর্চার সেল নাই। বুয়েটেই ১০টি টর্চার সেল রয়েছে। যার একটিতে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়।   

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সবসময় আমাদের দোষারোপ করা হয় যে, বিএনপি একটি দল যারা রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর, সন্ত্রাস করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজনৈতিক সংহিসতার পরিচয় ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই বছরের পর বছর প্রত্যেকটা আন্দোলনের সময় ভাঙচুর করেছে। মানুষের সম্পত্তি নষ্ট করে যানবাহন ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ নিজেদের দাবি আদায় করার চেষ্টা করেছে। আজকে তারা এমন একটা ভাব দেখায় যেন সবাই একদম ধোয়া তুলসী পাতা। আর আমরা হলাম সব দুষ্ট মানুষ। 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করে এসেছেন। আমাদের ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যখন গঙ্গার পানির একপেশেভাবে ভারত নিয়ে যেতে শুরু করলো, তখন আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতকে বাধ্য করেছিল গঙ্গা পানি চুক্তি করতে। 

গত ১০ বছরে তিনি শুধু ভারতকে দিয়ে এসেছেন। কোনো কিছু আনতে পারেননি। এবারের সফরেও তিনি বাংলাদেশের জন্য কিছুই আনতে পারেননি। সুতরাং তিনি যতই বলেন বাংলাদেশের স্বার্থ বিক্রি করি নাই, একথা এখন দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না, যোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, প্রতিবাদের দিন শেষ হয়ে গেছে এখন প্রতিরোধ করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। অন্যথায় এই অবস্থা থেকে মুক্তি আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষ আজকে একে একে সব দিয়ে দিয়েছি, কোনো কিছুই আমরা রাখি নাই। উনি (প্রধানমন্ত্রী) ভারতে গেলেন কোনো কিছু নিয়ে আলোচনা করলেন না। অথচ ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসলেন। রোহিঙ্গারা কীভাবে দেশ থেকে চলে যাবে সেটা নিয়ে কোনো আলোচনাই হলো না।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আজকে যেমন আওয়ামী লীগের তথাকথিত শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। ক্যাসিনো দিয়ে তারা শুরু করেছে। এটাতো মশা। আওয়ামী লীগ যা শুরু করেছে গত ১০ বছরে এগুলো (অভিযান) তো কিছুই না। গ্রামেগঞ্জে এখন যদি যাওয়া যায় দেখা যায় অনেকগুলো টিনের ঘরের মাঝখানে বড় বড় বিল্ডিং তোলা হয়েছে। এটা কার বাড়ি- কাউকে এটা জিজ্ঞেস করলে বলবে- হয় ছাত্রলীগ, নয় যুবলীগ, নতুবা আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ বা যেকোনো লীগের নেতার এই বাড়ি। অথচ গত ১০ বছর আগে তাদের খাবার পয়সাও ছিলো না।

তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগকে ক্লিন করতে হয় তাহলে শুধু ক্যাসিনো নামক এই ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুইলেই হবে না। এর জন্য আরও শক্ত এবং কড়া ডিটারজেন্ট পাউডার লাগবে। যেটা দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিষ্কার হতে পারে। তারপরেও পরিষ্কার হওয়া অনেক কঠিন কারণ আওয়ামী লীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি এবং দুঃশাসন রয়ে গেছে। গত এক দশকে দেশে যে দুঃশাসন চলছে যে দুঃশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার একটি একটি করে হরণ করা হচ্ছে। মানুষের ভোটাধিকারসহ প্রত্যেকটি অধিকারকে হরণ করা হচ্ছে। এমন একটি দেশে এই মুহূর্তে শফিউল আলম প্রধান এবং অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের খুব দরকার ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের বলা হয় আমরা নাকি ভারত বিরোধী। কিন্তু আমরা কোনদিনও ভারতবিরোধী নই। আমরা বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় স্বার্থের জন্য যেখানে আমরা বাধা পাব সেটার বিরোধীতা করবো। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদেরকে এটা শিখিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে টুকু আরও বলেন, আজকে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ক্যাসিনো চলছে অথচ উনারা নাকি দেখেন না। তারা দেখবেন কি করে উনারা তো ব্যস্ত আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা কোথায় আছেন কীভাবে আছেন কিভাবে তাদেরকে গ্রেফতার করা যায় অন্যায় ভাবে মামলা দেয়া যায়, সেটা নিয়ে। তাদের আইনের শাসন মানে বিএনপিকে দমন, বিরোধীদলকে দমন।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, আজকে আমাদের দেশের সম্পদ বিকিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের পানি ভারতকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমরা কোনদিন শুনি নাই ভারতের সাথে যে অভিন্ন নদী আছে তার মধ্যে ফেনী নদী একটি। ফেনী নদী কোন দিনই অভিন্ন নদী ছিল না ফেনী নদী আমাদের নদী। সেই ফেনী নদীর পানি নাকি মানবিক কারণে দিয়ে আসলো। আমার প্রশ্ন মানবিক কারণে ভারতকে পানি দেয়া হলো, অথচ আমাদের উত্তরাঞ্চলের মানুষগুলো পানির খরায় জমিতে ফসল চাষ করতে না পেরে সুদূর চট্টগ্রামে গিয়ে মজদুরি করে। তাদের জন্য আপনার মানবিক কারণ মনে হয় না। তাদের জন্য মানবিক কারণে তিস্তার পানি নিয়ে আসতে পারেন না?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ