বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

যে রায় চেয়েছিলাম পেয়েছি  ....পিবিআই প্রধান

স্টাফ রিপোর্টার : অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)। হত্যাকান্ডের সাত মাসের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ মামলায় হকুমের আসামী সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামীর সবাইকে মৃত্যুদন্ড দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার গতকাল বিকেলে গনমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম, সেটাই হয়েছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে মেধা দিয়ে কাজ করেছি। প্রত্যেকের পরিবারে নুসরাত আছে, আমরা সে ভাবনা নিয়ে কাজ করেছি।”

এবারের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত তারই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই ঘটনায় তার মা মামলা করার পর ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা; তার মুক্তির দাবিতে সক্রিয় হয় মাদরাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনও তিনি বলছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন। প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল দেশের মানুষ; হত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় দেশজুড়ে।

৭ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী দেন, যাতে তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান।

নুসরাত হত্যার মামলটি তদন্ত প্রথমে করছিলেন সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন; কিন্তু ওই থানার ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নুসরাত হত্যাকা-ের সময় গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তদন্তভার আসে পিবিআইয়ের ওপর।

পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম এজাহারভুক্ত আট আসামীর সঙ্গে আরও আটজনকে যুক্ত করে ১৬ জনকে আসামী করে গত ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তার পরের মাসে ২০ জুন ১৬ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৬ আসামীর বিচার। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জনের সাক্ষ্য শেষে বিচারক গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডিত অপর আসামীদের মধ্যে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীন এবং সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলম হত্যাকান্ড বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।

আসামী কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ও জাবেদ হোসেন ছিলেন নুসরাতের সহপাঠী। একসঙ্গেই তারা আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তাদেরও সর্বোচ্চ সাজার রায় এসেছে আদালতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ