বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

শেষ ইচ্ছায় মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয়  মর্যাদা ছাড়াই দাফন 

 

স্টাফ রিপোর্টার : অস্ত্র হাতে জীবন বাজি রেখে যে দেশ স্বাধীন করলাম, সে দেশে আমার ছেলের রুজি-রোজগারটুকুও অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হলো! এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি আমার ছেলেকে চাকরি ও বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে। তাই মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে তাদের স্যালুট আমার শেষ যাত্রায় চাই না।’ মৃত্যুর দুই দিন আগে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে এক চিঠিতে কথাগুলো লেখেন মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে চিঠিতে উল্লেখ করা ‘শেষ ইচ্ছা’ অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার ইসমাইল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এসময় ‘গার্ড অব অনার’ দিতে আসা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের ফিরিয়ে দেন ইসমাইল হোসেনের স্বজন-পরিজনেরা।

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের শেষ বিদায়ে বিউগলে বাজেনি বিদায়ের সুর। এমনকি তার লাশ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিতও করা হয়নি।

পরিবার ও স্বজনেরা জানান, গত মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি চিঠি লিখেন মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন। পরে এর নিচে সইও করেন। ওইদিনই তা ডাকযোগে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের ঢাকার ঠিকানায় পাঠানো হয়। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর গত বুধবার  সকাল ১১টায় মারা যান জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।

জানাজার নামাজ শুরুর আগে ম্যাজিস্ট্রেট মহসীন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনকে গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য হাজির হন। কিন্তু মৃত্যুর আগে চিঠিতে উল্লেখ করা ‘ইচ্ছা’ অনুযায়ী এই অভিমানী মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিতে দেবেন না বলে জানান তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েরা।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রশাসন থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করতে যাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হই। পরিবারের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দিতে বাধা দেওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ