বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

সম্রাটের জামিন  নামঞ্জুর ॥ সম্রাট কারাগারে 

স্টাফ রিপোর্টার : যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ রমনা থানায় দায়ের হওয়া মাদক ও অস্ত্র আইনের মামলায় জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজাম উদ্দিন জানান, এদিন মাদক মামলায় রিমান্ড শেষে এবং অস্ত্র মামলায় রিমান্ড চলাকালীন সম্রাটকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন না-মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন মাদক ও অস্ত্র মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৭ অক্টোবর অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। একই দিন মাদক আইনের মামলায় স¤্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। তবে ৯ অক্টোবর সম্রাট হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে বিচারক শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

গত ৭ অক্টোবর সম্রাটের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উভয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ রাজধানীতে ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল সম্রাটের। সবার কাছে সে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, দলীয় পদের অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো সে। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো তার ক্যাডাররা। সম্রাটের কার্যালয় থেকে র‌্যাব অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নির্যাতন করার ইলেকট্রিক শক মেশিন উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা দুটি মামলারই বাদী র‌্যাবের নায়েব সুবেদার (ডিএডি) আব্দুল খালেক। মাদক মামলায় সম্রাটের পাশাপাশি তার সহযোগী আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবের আড়ালে ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। এর দু’দিন পর গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে। অভিযানের প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় আসে সম্রাটের নাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অন্যদের সঙ্গে সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। গত ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, র‌্যাবের একটি দল জানতে পারে, সম্রাট গ্রেফতারের ভয়ে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় লুকিয়ে আছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম ও নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি দল চৌদ্দগ্রামের আলকরা গ্রামের কঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মনির চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করে। আরমানকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে তাৎক্ষণিক ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ