বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

থেমে থেমে বৃষ্টি  দুর্ভোগে নগরবাসী

 

স্টাফ রিপোর্টার : ঋতুর বৈশিষ্ট্য পাল্টে গিয়ে হেমন্তের আকাশে এখন মেঘের ঘনঘটা। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি চলেছে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরেও। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শনিবার পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বেড়ে যায় নগরবাসীর।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার কারণে বুধবার থেকে ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে পড়ায় এর প্রভাবে দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টি থাকবে আজ শুক্রবারও। আগামীকাল শনিবার বৃষ্টি কমে যেতে পারে বলে আশা করছেন তারা।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ জানান, ‘ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সারাদেশেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আগামী দুই-একদিন অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে শনিবার কমে যেতে পারে।’

এদিকে, বৃষ্টি উপেক্ষা করে সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবসে কর্মমুখী মানুষ পড়েন বিপাকে। সকালে অফিস যেতে পরিবহন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানবাহনের স্বল্পতার কারণে অনেকেই সময় মতো অফিসে পৌঁছাতে পারেননি। অনেক অভিভাবক দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সন্তানকে পাঠাননি স্কুলে। আবার যারা গেছে, বৃষ্টির কারণে তাদেরকে পোহাতে দুর্ভোগ। 

কাজী আরিফ একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। প্রতিদিনই তিনি সোয়া ৯টার মধ্যে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে পৌঁছাতে দেরি হয় তার। কাজী আরিফের ভাষ্যমতে, বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনে জায়গা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘সকালে সাধারণত রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ব্যবহার করে বাইকে অফিসে যাই। এতে তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়। কিন্তু সকালে বৃষ্টি থাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কোনও বাসে উঠতে পারিনি। নিরুপায় হয়ে একটি বাইক ডেকে কিছুটা ভিজেই অফিসে ঢুকলাম, তাও সময়ের ১৫ মিনিট দেরিতে।’

অন্যদিকে, বৃষ্টির ভেতরে রিকশায় করে বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া সমীচীন মনে করেননি ধানমন্ডির শিউলি আক্তার। তার ভাষ্য, বৃষ্টিতে বাচ্চা ভিজলে ঠা-া লাগলে কিংবা জ্বর আসলে আরেক সমস্যা। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বাচ্চাকে রিকশায় করে স্কুলে নিয়ে যাই। বৃষ্টির জন্য আজকে নিয়ে যাইনি, যদি মাথায় পানি লেগে জ্বর হয়, এজন্য বললাম থাক আজকে না হয় একদিন না যাক।’

আবার বৃষ্টির মধ্যে স্কুলে নিয়ে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন কলাবাগানের বাসিন্দা রাফিদ আহমেদ। তার ছেলেকে স্কুলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে ২০ মিনিটের বেশি। তিনি জানান, সকালে বৃষ্টির মধ্যে যানবাহনের সমস্যা দেখা দেয়। রিকশা যেতে চায় না, আবার গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া চায়।’ পরে কলাবাগান থেকে ধানমন্ডিতে ৭০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড হয় সাতক্ষীরায় ৩৯ মিলিমিটার, ঢাকায় ২৩, খুলনায় ১৬, পটূয়াখালীতে ৮, খেপুপাড়ায় ৩২ মিলিমিটার। এছাড়া কুমিল্লা, মোংলা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং বরিশালে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ