শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

কলম হাতে সজাগ ছিলেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি দিল মনোয়ারা মনুর সমরণে শোক সভায় বক্তারা বলেছেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে বরাবরই নীরবে-নিভৃতে কাজ করতে ভীষণ ভালোবাসতেন দিল মনোয়ারা মনু। জীবনের শেষ দিনটিতেও তেমনটি ছিলেন। কলম হাতে সজাগ ছিলেন শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। লিখেছেন নারীর পক্ষে, মানুষ আর মানবতার পক্ষে। বঞ্চনা আর বৈষম্যের বিপক্ষে। বরাবরই তার কলম উচ্চকিত থেকেছে এদেশের নিপীড়িত-বঞ্চিত নারীর পক্ষে। সুন্দর সমাজ নির্মাণের পক্ষে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক শোক সভায় বক্তারা এইসব কথা বলেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পাক্ষিক অনন্যা’র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক, কচিকাঁচার মেলার সহ-সভাপতি দিল মনোয়ারা মনুর স্মরণে এই শোক সভার আয়োজন করা হয়। শোক সভায় বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু ও-সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমাসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও অনেক নেতৃবৃন্দ ।

বক্তারা বলেন, দিল মনোয়ারা মনু সর্বজনপ্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। মনু আপাকে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি ছিলেন এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। মনু আপা লাঠিতে ভর করেও প্রতিটি প্রতিবাদ, আন্দোলনে যোগ দিতেন। তার অভাব হয়তো পূরণ হওয়ার নয়। সাংবাদিকতার পাশাপাশি নারীর অধিকার সুরক্ষায় কাজ করেছেন নিবেদিত হয়ে। বেগম সুফিয়া কামাল, নুরজাহান বেগম, ড. নীলিমা ইব্রাহীমের আদর্শ সবসময় নিজের মধ্যে ধরে রেখেছেন। 

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যায় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। ফরিদপুরে ১৯৫০ সালে দিল মনোয়ারা মনু জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে দিল মনোয়ারা মনু সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। সুফিয়া কামাল ও নুরজাহান বেগম সম্পাদিত বেগম পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। ১৯৮৮ সালে থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত পাক্ষিক অনন্যার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরপর দিল মনোয়ারা মনু বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লিখতেন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। মহিলা পরিষদের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। গত সোমবার জুরাইনে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ